বৃষ্টি চলুক আরও কিছুক্ষণ, দক্ষিণবঙ্গবাসী রবিবার ‘রেনি-ডে’র মুডে

0

IMG_6453

শ্রয়ণ সেন

স্যালুট বঙ্গোপসাগর! ওর জন্যই বর্ষা আসার কুড়ি দিন পর মালুম হচ্ছে সত্যি সত্যি সে এসেছে।

দিল্লির মৌসম ভবন পূর্বাভাস দেওয়ার আগে খবর অনলাইন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে পাঠকদের জানিয়েছিল, জুলাইয়ের শুরুতেই বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। হলও তাই। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের দৌলতে শনিবার দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অংশে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রেনগেজ আজ রবিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করলেও, দমদমে বৃষ্টি হয়েছে ৯০ মিমি। শুধু তা-ই নয় দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই কম বেশি ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ে (১২০ মিমি), তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর (১০০ মিমি), রামপুরহাট, দিঘা, ডায়মন্ড হারবার, মেদিনীপুরেও বৃষ্টি হয়েছে ৮০ মিমির ওপরে। সকাল সাড়ে ৮টার পর বৃষ্টির জোর আরও বেড়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে, এই ৯ ঘণ্টায় আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে ৩০ মিমি, দমদমে হয়েছে ৩৩ মিমি, মেদিনীপুরে ৫০মিমি আর বোলপুরে বৃষ্টি হয়েছে ৮১ মিমি। এখানে বলে রাখা ভালো যে, সন্ধ্যে ৬টার পর ফের ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছে শহরে। এই বৃষ্টির ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন চাষাবাদের সাথে যুক্ত মানুষরা। গত দু’ দিনের বৃষ্টির দৌলতে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই কমবে, এর ফলে চাষের সুবিধা হবে এই আশা তাঁদের।

কলকাতার দক্ষিণ আর উত্তরাংশে বৃষ্টির দাপট ছিল বেশি। দক্ষিণ শহরতলির পাটুলি ও তার সন্নিহিত এলাকার ঝিলগুলিতে এই বর্ষায় প্রথম বার জল বেড়েছে, পাশাপাশি উত্তর শহরতলির বরানগর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জল জমতে দেখা গেছে।bri

আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই নিম্নচাপটি আগেরটির মতো দক্ষিণ ওড়িশা দিয়ে স্থলে না ঢুকে এ রাজ্যের দিঘার কাছ দিয়ে প্রবেশ করেছে। যার ফলে বৃষ্টি দরাজ হয়েছে আমাদের রাজ্যে। আজ, রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটার বিশ্লেষণে তাঁরা জানাচ্ছেন, নিম্নচাপটি পশ্চিম মেদিনীপুর সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে কাল, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের জন্য। তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে রাজ্যে সুখা জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া আর পুরুলিয়ায়। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির দাপট কমলেও খুব একটা হতাশ হওয়ার কিছু নেই, কারণ এর পেছনে আরও একটি নিম্নচাপ লাইন দিয়ে আছে। দিন চারেকের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে তার আবির্ভাব হওয়ার সম্ভাবনা। তেমন হলে ফের বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে।

তবে সাধারণ মানুষের কোনও অভিযোগ নেই। তাঁরা আজ ‘রেনি ডে’ পালন করার মুডে। একেই রবিবার ছুটির দিন তায় বাইরে অঝোর ধারা। অনেকের বাড়িতেই হয়তো দুপুরের মেনু ছিল খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা। জমিয়ে দুপুরে খেয়ে চলবে লম্বা একটা ঘুম। কাল, সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। তাই বাঙালির একটাই প্রার্থনা, বৃষ্টিটা আরও কিছুক্ষণ চলুক, কাল অফিস বা স্কুলে যাওয়ার আগে  ‘রেনি ডে’র মজাটা একেবারে চেটেপুটে লুটে নেওয়া যাক।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন