mamata banerjee and mukul roy

কলকাতা: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দলের বাংলা নেতৃত্বকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ২২টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। গত মাস তিনেক ধরে এমন খবর প্রায়শই তুলে ধরা হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। তবে অমিত পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট একটি আসন নিয়ে এ রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবদার করেছেন, তা প্রকাশ্যে এল সম্প্রতি।

সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে এলাকাগত অদলবদল হলেও কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলে রয়েছে ১৯৯১ সাল থেকে। টানা ২০ বছর তিনি ওই কেন্দ্রটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নেওয়ার পর তিনি সাংসদপদ থেকে পদত্যাগ করলে ২০১১-র উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্রে নির্বাচিত হন সুব্রত বকসি। ২০১৪ সালেও তার বদল ঘটেনি। কিন্তু ২০১৪-র ফলাফল বেশ কিছু প্রশ্ন যেমন তুলে দিয়েছে তৃণমূলের সামনে, তেমনই আশারবাণী শুনিয়েছে বিজেপিকে।

গত ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তথাগত রায়। সিপিএমের নন্দিনী মুখোপাধ্যায়কে টপকে তিনি দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। তবে গত ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হিসাবটা একটু বদলে গিয়েছে বামফ্রন্টের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের জোট হওয়ার দরুণ। তাই বলে আশা ছাড়ছেন না অমিত। তিনি দলীয় নেতৃত্বকে নির্দিষ্ট করে বার্তা দিয়েছেন, ওই কেন্দ্রটি দখলের। যে কারণে জবরদস্ত প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা চলছে এখন থেকেই।

গতবারের প্রার্থী তথাগত রায় এখন ত্রিপুরার রাজ্যপাল। ফলে তাঁকে প্রার্থী করার কোনো সম্ভাবনাই নেই। অন্য দিকে একটি সূত্রের দাবি, গত বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হওয়া চন্দ্রকুমার বসুকে নিয়ে সাময়িক ভাবে চিন্তা থাকলেও তা বৃহত্তর অংশের কাছে ধোপে টিকছে না। তা হলে কে?

রাজ্য বিজেপির একটা অংশ মনে করছে, ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হোন তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ মুকুল রায়। অতীতে তিনি রাজ্যসভার প্রতিনিধিত্ব করলেও লোকসভা নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে বিধানসভায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২০০১ সালের নির্বাচনে। সে বার উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। পেয়েছিলেন ৫৬,৭৪১ ভোট। জিতেছিলেন ফরোওয়ার্ড ব্লকের হরিপদ বিশ্বাস। তার পর থেকে মুকুলবাবুকে আর লোকসভা বা বিধানসভায় প্রার্থী হতে দেখা যায়নি। পাঁচ বছর বাদে তিনি রাজ্যসভার প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হন।

কিন্তু মুকুলবাবু প্রার্থী হতে রাজি হবেন কি না, বা বিজেপি তাঁকে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে কি না, সে বিষয়ে সঠিক উত্তর জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা সপ্তাহ। সূত্রের খবর, আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় আসতে পারেন অমিত। সে সময় এ বিষয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here