mukul-Roy
Samir mahat
সমীর মাহাত

এ রাজ্যের জঙ্গল মহলের ৫০ শতাংশ আদিজনজাতি গোষ্ঠীর ভোট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। সেই সময়েই আদিবাসী কুড়মি সমাজের ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লি গিয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মন্ত্রী জুয়েল ওরাম, রাষ্ট্রপতি-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে মূল দাবি, কুড়মিদের পুনঃরায় তফশিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাবেন।

এর আগেও ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অজিতপ্রসাদ মাহাতর নেতৃত্ব মন্ত্রী জুয়েল ওরামের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংগঠন বিশেষ সহযোগিতা পায় বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের। প্রসঙ্গত, সামাজিক এই সংগঠনের আন্দোলন প্রভাব বিস্তার করে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যেও। ঝাড়খণ্ডে বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও এ রাজ্য এবং ওড়িশার ক্ষেত্রে দল প্রভাব বাড়াচ্ছে মাত্র। পাশাপাশি, এই পঞ্চায়েতে জঙ্গল মহলের আদিজনজাতি কুড়মি অধ্যুষিত এলাকায় শাসক দলের ফল খারাপ হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে , বিবেচনার সঙ্গে শাসক দল জঙ্গল মহলে গুরুত্ব না দিলে সামনের লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খাবে। এর আগে কুড়মি সমাজের আন্দোলনের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতি, উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করেছে। তা যে তলায় তলায় গোটাটাই “বুমেরাং” তা পঞ্চায়েতের ফলেই প্রকাশ পেয়েছে।

সংগঠনের দুই প্রধান অজিতপ্রসাদ মাহাত ও রাজেশ মাহাত, সংবাদ মাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়া মারফত জানিয়েছেন, এই পাঁচ বছর সংগঠন সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেবে না। সমাজের দাবি আদায়ের জন্য রাজ্য-কেন্দ্র সব জায়গাতেই সংগঠনের নেতৃত্ব যাবেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রাজ্য এবং ওড়িশায় দলের প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে পারে বিজেপি।

অবশ্য আদিবাসী মঞ্চ সংক্রান্ত সংবাদে একটি বাংলা দৈনিককে দেওয়া বক্তব্যে বিজেপি ঝাড়গ্রাম
জেলা সভাপতি সুখময় শতপথী জানিয়েছেন, “আমরা সর্বভারতীয় দল। আমরা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করব না। যাঁদের প্রয়োজন মনে হবে তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন”। এ ব্যপারে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঝাড়গ্রাম জেলা আহ্বায়ক তরুণ মাহাত দিল্লি থেকে জানান, “বাঁকুড়ার খাতড়ার রাজ্য কমিটির সম্মেলনে ঠিক হয় যে এই সংগঠনের নেতৃত্ব পাঁচ বছর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয় যুক্ত হবেন না”।

(ছবিতে মুকুল রায়ের সঙ্গে, সংগঠনের দুই প্রধান অজিতপ্রসাদ মাহাত ও রাজেশ মাহাত)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here