বাইশ বছর পর প্রত্যাবর্তন, আনন্দে আত্মহারা পরিবারের সবাই

0
1766
দিদি-জামাইবাবুর সঙ্গে উত্তম।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: বাইশ বছর পর আবার মিলন।

দিদি তো ভেবেই নিয়েছিলেন ভাই আর বেঁচে নেই। ২২ বছর আগে ঘর থেকে রেশন তুলতে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেনি ভাই উত্তম। সময়টা ছিল ১৯৯৫ সাল। অনেক চেষ্টা করেও হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের খোঁজ পাননি বর্ধমানের কাঞ্চননগরের বাসিন্দা অঞ্জনা দাস।

বাবা মা ও দুই ভাইকে নিয়ে কাঞ্চননগরের একটি ছোট্টো বাড়িতে থাকতেন অঞ্জনা। এক দিন প্রয়াত হলেন বাবা। তা-ও ২৫ বছর আগে। তবুও চলছিল সব। তার পর এক দিন ঘটল সেই ঘটনা। এলাকারই একটি রেশন দোকানে গিয়েছিল উত্তম। কিন্তু রেশন নিয়ে আর বাড়ি ফিরল না। বাড়ির সকলে প্রচুর খোঁজাখুঁজি করলেন, কিন্তু কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না উত্তমের। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার দেওয়া, বিভিন্ন মন্দির আর তীর্থস্থানে হত্যে দেওয়া, চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেনি অঞ্জনার পরিবার। মোবাইল, ফেসবুকের সময়টা ছিল না সেটা। বছরের পর বছর কেটে গেল, খোঁজ এল না উত্তমের। মনে বিশ্বাস থাকলেও ধীরে ধীরে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। ছেলে উত্তমকে হারিয়ে মা-ও মনমরা, দিশাহারা।

১২ বছর পর থেকে উত্তমের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছেড়েই দিয়েছিল তার পরিবার । আস্তে আস্তে উত্তমের স্মৃতিও মুছে গিয়েছিল তাদের মন থেকে। অঞ্জনার তো বিয়েও হয়ে গিয়েছিল।

কয়েক দিন আগে বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের আগমন। চমকে ওঠেন সকলে। বর্ধমান থানার এক পুলিশবাবুই বাড়িতে এসে জানান ২২ বছর আগের নিখোঁজ ভাই এখনও বেঁচে আছেন। বর্তমানে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে রয়েছেন।  তার পর পুলিশের মাধ্যমেই যোগাযোগ করে চেন্নাইয়ের সেই মানসিক হাসপাতাল থেকে শ্যালক উত্তমকে বাড়ি নিয়ে আসেন অঞ্জনাদেবীর স্বামী চিত্তরঞ্জনবাবু। এখন বাড়িতেই রয়েছেন উত্তম। উত্তমকে ফিরে পেয়ে আনন্দ আত্মহারা সবাই। মা কল্পনা দেবনাথ তো ভীষণ খুশি। খুশির বহিঃপ্রকাশ হয় কান্নার মাধ্যমে। খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন আত্মীয়-পরিজনেরা। বাড়িতে এখনও আসছেন উত্তমের ছোটোবেলার স্কুলের বন্ধুরা।

উত্তমের জামাইবাবু জানান, মানসিক ভাবে উত্তম একটু অসুস্থ ছিল। কোনও ভাবে সে কাঞ্চননগর থেকে হাওড়া চলে যায়। সেখান থেকেই ট্রেন ধরে চেন্নাই। চেন্নাই পুলিশের মাধ্যমে উত্তমকে চেন্নাই মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার ডাক্তারবাবুরাই তাঁর চিকিৎসা করে গেছেন বিনা খরচায়। দীর্ঘ চিকিৎসা চলার পর উত্তম তাঁর বাড়ি ঠিকানা ও পরিবারের নাম বলেন। তার পর চেন্নাই পুলিশ বর্ধমান থানাকে খবর দেয়। সেই সূত্রেই উত্তমের বাড়ি ফেরা।

ভাইকে ফিরে পাওয়ার জন্য দিদি ধন্যবাদ জানিয়েছেন সকলকেই। উত্তম ফিরে এলেও তিনি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নন। এত সব ঘটনার কথা সে ভাবে কিছুই মনে নেই উত্তম দেবনাথের। কিছু বলতে পারছেন না নিজের মুখে। প্রতিবন্ধী শংসাপত্র রয়েছে তাঁর। তিনি চান সরকার তাঁর জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিক।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here