নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান:  উদ্দেশ্য ছিল ২৪ ঘন্টায় ১৬০০ কিলোমিটার পথ পার হতে হবে। জীবনের বাজি রেখে গতির নেশায় বেড়োয় বর্ধমানের দুই যুবক যুবতী।  কিন্তু বাইকের গতিই থামিয়ে দিলো দুটি তরতাজা প্রাণের গতিকে। শনিবার ভোরে গলসি বাজারের কাছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে এক মর্মান্তিক বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো বর্ধমান শহরের কলেজ পড়ুয়া দুই ছাত্র ছাত্রী। মৃত বাইক রেসার ছাত্রের নাম বিক্রম হাজরা ও তার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী।

বিক্রমের বাড়ি বর্ধমান শহরের পল্লিমঙ্গল এলাকায়।  প্রিয়ার বাড়ি বর্ধমানের নীলপুর আমবাগানে। বিক্রম রাজ্ কলেজে ইংরেজি অনার্সের ছাত্র ছিল। অন্যদিকে রিয়া শহরের বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্ক ছিল দুজনের। শুক্রবার বিক্রম ও রিয়া বর্ধমান থেকে দামি মোটরবাইক নিয়ে বারাণসী যায়। সময়ের মধ্যে ফেরার তাড়া থাকায় শনিবারই তারা বারাণসী থেকে বর্ধমান ফিরছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ১৬০০ কিলোমিটার রাস্তা ২৪ ঘণ্টায় অতিক্রম করা। তাই দ্রুত গতিতে বাইক নিয়ে আসার সময় গলসি বাজারে চলমান একটি লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে বিক্রম। পিছনে ছিল বান্ধবী রিয়া। দুর্ঘটনায় দুজনেই মারাত্মক জখম হয়। গলসি থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় দুই পরিবারেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিক্রমের ফেসবুক পোস্ট

এদিকে মৃতদের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, শহরের একটি রেসিং ক্লাবের মালিক প্রায়ই এই ধরণের টার্গেট দিয়ে ২২ থেকে ৩০জন ছেলেকে দূরদূরান্তে দামি বাইক নিয়ে রেসিংয়ের জন্য পাঠাতেন। ওই রেসিং ক্লাবের মালিকের একটি দামি মোটর সাইকেল কোম্পানির শো রুম রয়েছে বর্ধমানে। এদিন হাসপাতালের মর্গে রেসিং ক্লাবের মালিক মৃতদের দেখতে এলে উত্তেজিত পরিবারের ও পাড়ার লোকেরা তাকে মারধর করে। পরে বর্ধমান থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রেসিং ক্লাবের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য,কিছুদিন আগেই শক্তিগড়ে একইভাবে রেসিংয়ের বলি হয়েছিল কলকাতার সল্টলেকের এক যুবক। এছাড়া জাতীয় সড়কে হামেশাই দামি গাড়ি নিয়ে রেসিং করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পরে যুবকরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here