দক্ষিণবঙ্গকে, বিশেষ করে রাঢ়বঙ্গকে ভাসিয়ে দিয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে পাড়ি দিচ্ছে নিম্নচাপ। এর ফলে সোমবার বিকেলের পর থেকে ক্রমে উন্নতি হবে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির আবহাওয়া। তবে পশ্চিমের জেলাগুলি অর্থাৎ বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম আর বর্ধমানে এখনই রেহাই মেলার কোনও সম্ভাবনা নেই।

আশঙ্কা করা হচ্ছিল, নতুন এই নিম্নচাপটি আগের দু’টি নিম্নচাপের মতোই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। কিন্তু সেই আশঙ্কা দূর করে সে তড়িঘড়ি বাংলাদেশ উপকূল দিয়ে স্থলভূমিতে ঢুকে পড়ে। স্থলভূমিতে ঢুকে যাওয়ার ফলে এর শক্তি বাড়ানোর আর কোনও ক্ষমতা থাকে না। তবে নিম্নচাপটি যে হেতু বাংলাদেশ দিয়ে ঢুকে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে চলে এসেছে  সেই জন্য রবিবার সারা রাত পেরিয়ে, সোমবার সকাল পর্যন্ত জোর বৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। রবিবার রাত থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কবলে পড়েছে পশ্চিমের জেলাগুলি। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ৬৪ মিমি। আগস্টে কলকাতায় মোট বৃষ্টি হয় ৩৫২ মিমি। কলকাতায় এ দিনের বৃষ্টির হিসেব সেই পরিমাণ পেরিয়ে গেছে।

এই নিম্নচাপের প্রভাবে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পানাগড়ে। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯৮ মিমি। এর পরই তালিকায় রয়েছে বাঁকুড়া। সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ১৭৩ মিমি। বর্ধমানে বৃষ্টি হয়েছে ১৭০ মিমি। বোলপুরে বৃষ্টি হয়েছে ১৩০ মিমি। বসিরহাটে বৃষ্টি হয়েছে ১১৫ মিমি, ক্যানিং-এ বৃষ্টির পরিমাণ ১০১ মিমি। হলদিয়ায় বৃষ্টি হয়েছে ৮০ মিমি।

রাঢ়বঙ্গের এই তুমুল বৃষ্টির ফলে বিপদের মুখে পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গ। ঝাড়খণ্ডের ডিভিসির জলাধার শুধু নয়, রবিবার বিপুল পরিমাণে জল ছেড়েছিল রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা মুকুটমণিপুর জলাধার। এর ফলে মুকুটমণিপুর আর খাতড়ার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। রবিবার সারা রাত বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

ঝাড়খণ্ডেও গত দু’টি নিম্নচাপের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় এই মুহূর্তে টইটম্বুর দামোদর অববাহিকা অঞ্চলের নদীনালাগুলি। রবিবার থেকেই বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়া শুরু করেছে ডিভিসিও। এই নিম্নচাপটি যদি এখন ঝাড়খণ্ডে ব্যাপক বৃষ্টি নামায় সে ক্ষেত্রে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াতে বাধ্য হবে ডিভিসির জলাধারগুলি। তেমন হলে বন্যার কবলে পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here