madhurima roy

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দারিদ্র্য তাঁদের নিত্য সঙ্গী। কার্যত নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও তাঁরা যথেষ্ট পিছিয়ে। কিন্তু মেয়ের মধ্য দিয়েই তাঁরা স্বপ্ন পূরণের স্বপ্ন দেখেছেন। তাই মেয়েকে শিক্ষায় এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা আপ্রাণ করেছেন, চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি। আর মেয়েও তার প্রতিদান দিতে চেষ্টার কসুর করেনি। তারই ফল মিলল মাধ্যমিকে, ৬৬৬ নম্বর পেয়ে সকলের নজর কাড়ল মধুরিমা।

খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত জলপাইগুড়ি শহরের লাগোয়া। মধুরিমারা সেই খড়িয়ারই পোড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা জিতেন রায় পেশায় দর্জি। দারিদ্যের জন্য বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। টেনেটুনে অষ্টম শ্রেণি। মা মিতা রায়ও প্রাথমিকের গণ্ডি কোনো রকমে পার করেছেন। ছোট্টো একটি দোকানই জিতেনবাবুর আর্থিক ভরসা। তার আয় থেকেই তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। পড়াশোনায় মেয়ের আগ্রহ দেখে তাকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে জলপাইগুড়ি শহরের সুনীতিবালা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। কাঠফাটা গরমই হোক বা ভরা বর্ষা, বাবার সঙ্গে সাইকেলে চেপে রোজ এই পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে এসেছে মধুরিমা। কখনওসখনও ঘরগেরস্থালির কাজ সামলে মেয়েকে সাইকেলে চাপিয়ে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন মা।

madhurima with her parents
মা-বাবার সঙ্গে মধুরিমা।

স্কুলের পরীক্ষায় বরাবরই ভালো রেজাল্ট করে এসেছে মধুরিমা। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অপর্ণা বাগচি মধুরিমার সমস্ত স্কুল-ফি মকুব করে দিয়েছিলেন। বই দিয়েও সাহায্য করেছে স্কুল।. পয়সা দিয়ে গৃহশিক্ষক রাখার ক্ষমতা নেই রায় পরিবারের। কিন্তু এগিয়ে এসেছেন মধুরিমার স্কুলের শিক্ষকরা। তাঁরা নিখরচায় এই সোনার মেয়েটিকে গাইড করেছেন। তারই ফল পেল মধুরিমা। মাধ্যমিকে বিভিন্ন বিষয়ে তার প্রাপ্ত নম্বর – বাংলা – ৯১, ইংরেজি – ৯১, অঙ্ক – ৯৯, ভৌত বিজ্ঞান – ১০০, জীবন বিজ্ঞান – ৯৮, ইতিহাস – ৯২ এবং ভূগোল – ৯৫।

ভবিষ্যতে কী করবে মধুরিমা? জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, কৃষিবিজ্ঞান নিয়ে তার পড়ার ইচ্ছে। এই বিষয়েই গবেষণা করবে সে। তার পড়াশোনা যাতে থেমে না যায় তার জন্য এগিয়ে আসতে প্রস্তুত তার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। স্কুলের তরফে মধুরিমাকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি চান, অর্থের অভাবে মধুরিমার পড়া যেন থেমে না যায়। যদি কোনো সহৃদয় ব্যাক্তি বা সংস্থা এই দুঃস্থ মেধাবীর পাশে দাঁড়ান তা হলে রায় পরিবার তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে বলে জানিয়েছেন মধুরিমার বাবা-মা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here