last minute preparation
শেষ মুহূর্তে চোখ বোলানো। ছবি রাজীব বসু।

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ছিল কঠোর নিয়ম। তবু প্রশ্নপত্র ফাঁস রোখা গেল না।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই বাংলা পরীক্ষা শুরুর ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাইরে চলে এল প্রশ্নপত্রের প্রতিলিপি। একাধিক জেলা থেকে এই অভিযোগ এসেছে।

পরীক্ষার প্রথম দিনেই কেমন করে প্রশ্নপত্র বাইরে এল তা নিয়ে পর্ষদের কাছে রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার খবর পেয়েই বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।

মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বুধবার থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এখন থেকে কেউ আর পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে পারবে না।

আরও পড়ুন মঙ্গলবার রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এল না

মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ বার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দশ লক্ষেরও বেশি। পরীক্ষা চলাকালীন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এ বছরই সর্বভারতীয় পরীক্ষার ধাঁচে প্রশ্নপত্রের বন্ধ প্যাকেট খোলা হয় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের সামনেই। মোবাইল ফোন ব্যবহারেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বলা হয়, পর্ষদের পাঁচ আধিকারিক ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তার পরও মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে বাইরে চলে মাধ্যমিক পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্র।

এই প্রসঙ্গে পর্ষদ সভাপতি বলেন, দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে পর্ষদের উপ-সচিবের হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। তাতে দেখা যায় মেসেজটি একটি প্রশ্নপত্রের প্রতিলিপি। মেসেজে আসা প্রশ্নপত্র ও আসল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা হয়। দেখা যায়, দুটোই হুবহু এক। এ ব্যাপারে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তবে পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, যে হেতু পরীক্ষা শুরু হওয়ার অনেক পরে প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে আসার ঘটনা ঘটেছে, সে হেতু নির্ধারিত সূচি মেনেই পরীক্ষা চলবে। বাতিল হবে না বাংলা পরীক্ষা।

পর্ষদ সভাপতি বলেন, এটা নজরদারির অভাব নয়, আমাদের স্বভাবগত সমস্যা।

মঙ্গলবারের ঘটনার পর পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন থেকে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী, যাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে মোবাইল ফোন জমা দিয়ে কাজে নামার কথা ছিল, তাঁদেরও নতুন নির্দেশিকার ফলে আর মোবাইল নিয়ে আসা হবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here