Connect with us

দুর্গা পার্বণ

ঝড়বৃষ্টির চোখরাঙানির মধ্যেই মহাষ্টমীতে মাতল বাংলা

kumaripuja at Belur Math

ওয়েবডেস্ক: বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত আর গুপ্তপ্রেস, দু’টি পঞ্জিকা মতেই মহাষ্টমীর দিনের বেলাতেই ছিল সন্ধিপুজোর ক্ষণ। প্রথমটির মতে সকাল সাড়ে ১০টা ৩১ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টির মতে দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এ দিন সকাল থেকেই ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়।

সকালটা মোটের ওপরে ভালো কাটলেও, এ দিন দুপুরের পর থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও বৃষ্টির বেগ যথেষ্ট তীব্র ছিল।কিন্তু তাতে উৎসবমুখর মানুষের উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে ভিড়। ছবি রাজীব বসু।

ঝড়বৃষ্টি মানুষের উৎসাহে ভাটা ফেলতে তো পারেইনি উলটে এর সৌজন্যে এ দিনের তীব্র গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া গিয়েছে। ফলে দিনভর রাস্তায় রাস্তায় জনস্রোতের কোনো কমতি ছিল না।

বিকেলের পর থেকে আবহাওয়া অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। যথারীতি ভিড় আরও বাড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে। এ দিনের ভিড় গত কয়েক দিনের ভিড়কে ছাপিয়ে যায়। সেটাই স্বাভাবিক, কারণ রাত পোহালেই তো বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার নবমী তিথি পড়ে যাবে। আর নবমী পড়লেই মনে হবে মায়ের ফিরে যাওয়ার ক্ষণ আগতপ্রায়।

নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘের পুজোয় রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত, তাঁর স্বামী নিখিল জৈন এবং চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ছবি রাজীব বসু।

শুধু মহানগর কলকাতা কেন, রাজ্যের প্রতিটি শহর-গ্রামে মহাষ্টমীর পুজো নিয়ে মানুষের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। সকাল হতে না হতে শুধু ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ার অপেক্ষা। সকালের প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে ‘চলো বেরিয়ে পড়ি’। আর মহাষ্টমী এমনই এক তিথি যে দিন দুপুরের ভোগ খাওয়া কোনো সমস্যাই নয়

আরও পড়ুন: প্রবাসের পুজো: আনন্দের পসরায় কোনো ঘাটতি নেই দিল্লির পুজোয়

আজ বহু পুজোমণ্ডপে, বনেদি বাড়িতে, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, আশ্রমে সাধারণের জন্য দ্বার ছিল উন্মুক্ত। সেখানে ছিল পাত পেড়ে দুপুরের ভোগ খাওয়ার আয়োজন।

এমনই একটি প্রতিষ্ঠান শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার। হাওড়ার খড়িয়পে এই আশ্রমের দুর্গাপুজো ২১ বছরে পড়ল। এখানে মা সারদাকে দুর্গা রূপে পূজা কড়া হয়। পুজোর চার দিনই সর্বসাধারণের জন্য দুপুরে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এ দিন সকাল থেকেই এই আশ্রমে জনসমাগম ছিল দেখার মতো। আশ্রমের মাঠ পুরো বাইকে বাইকে ছয়লাপ। আশ্রম কর্তৃপক্ষের মতে এ দিন দুপুরে অন্তত হাজার দশেক দর্শনার্থী খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করেন। খিচুড়ির সঙ্গে ছিল আলুর দম, পাঁপড়, চাটনি, পায়েস। জানা গেল, রাত অন্তত ১০টা পর্যন্ত এই প্রসাদ বিতরণ চলবে। তবে বিকেলের পরে খিচুড়ির পরিবর্তে শুকনো প্রসাদ বিতরণ কড়া হবে।


শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের পুজো।

এ দিন ছিল কুমারীপূজার দিন। কুমারীপূজার সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল বেলুড় মঠ। সকালে মঠে কুমারীপূজা দেখতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। বেলুড় মঠ চত্বর দর্শনার্থীদের ভিড়ে কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল। বেলুড় মঠ ছাড়াও বেশ কিছু বনেদি বাড়িতে, কিছু সর্বজনীন পুজোতেও এ দিন কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্গা পার্বণ

সপ্তমীতে থানকাপড়ে সিঁদুর দিয়ে কলাবউকে সাজানো হয় খড়দহের নিত্যানন্দপ্রভুর প্রতিষ্ঠিত দুর্গাপুজোয়

নিত্যানন্দপ্রভু যখন দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন তখন একজন তাঁকে থান দান করেছিলেন। তাই তিনি তখন কলাবউকে সেই কাপড় পড়িয়েছিলেন আর সধবার চিহ্ন হিসাবে সিঁদুরের রেখা টেনে দিয়েছিলেন।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজো বঙ্গের এক প্রাচীন উৎসব। দুর্গাপুজো শরৎ ও বসন্তু এই দুই ঋতুতেই সম্পন্ন হয়। বসন্তকালে যে পূজা হয় তা বাসন্তীপূজা নামে পরিচিত এবং শরৎকালে যে পূজা হয় তা শারদীয়া নামে পরিচিত।

বঙ্গদেশের বিভিন্ন প্রাচীন বনেদিবাড়িতে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীবন্দনা করা হয়। কোনো পুজোর বয়স হয়তো ২০০ বছর, আবার কোনো পুজো হয়তো ৪০০ বছরেরও প্রাচীন। কোথাও তিনি মহিষদলনী দশভূজা রূপে পূজিতা, আবার কোথাও তিনি শিবক্রোড়ে অধিষ্ঠিতা হয়ে অভয়দান করছেন। তেমনই এক প্রাচীন পুজো হল খড়দহে শ্রীশ্রী নিত্যানন্দপ্রভুর প্রচলিত কাত্যায়নীবন্দনা, যা আজও অব্যাহত রয়েছে প্রাচীন রীতি মেনেই।

প্রসঙ্গত ১৩৯৫ শকাব্দে (১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দ) মাঘ মাসের শুক্ল ত্রয়োদশী তিথিতে মধ্যাহ্নে বীরভূমের একচক্রা গ্রামে নিত্যানন্দপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন। পিতা হাড়াই পণ্ডিত (ওঝা) এবং মাতা পদ্মাদেবী। ছেলেবেলা থেকেই কৃষ্ণ-কৃষ্ণ খেলা, পূতনাবধ, সংকটভঞ্জন, কালীয়দমন এই সমস্ত খেলায় মেতে থাকতেন নিত্যানন্দ। ন’ বছর বয়সে নিত্যানন্দের উপনয়ন হয় এবং নিতাইচাঁদের বয়স যখন বারো (১৪০৭ শকাব্দ অর্থাৎ ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দ) তখন নবদ্বীপধামে গৌরচন্দ্রের উদয় হয়।

একদিন শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী এলেন হাড়াই পণ্ডিতের বাড়িতে আতিথ্য নিতে এবং তিনি নিত্যানন্দকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বিভিন্ন তীর্থদর্শনে – বক্রেশ্বর থেকে বৈদ্যনাথ, তার পর গয়া, কাশী, প্রয়াগ, মথুরা, বৃন্দবন ইত্যাদি নানা স্থানে ভ্রমণ করলেন। এর পর নবদ্বীপে এসে উপস্থিত হলেন প্রভু নিত্যানন্দ। এ দিকে শ্রীবাস, হরিদাসকে নিমাই বললেন নবদ্বীপে খুঁজে আসতে, কোনো মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে। কেউ খুঁজে না পেলে নিমাই নিজে গেলেন নন্দন আচার্যের বাড়িতে। সেটিই প্রথম সাক্ষাৎ নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর সঙ্গে চৈতন্য মহাপ্রভুর।

এর বেশ কিছু কাল পর গৌরাঙ্গের নির্দেশে সন্ন্যাসী হওয়া সত্ত্বেও প্রভু নিত্যানন্দকে গৃহাশ্রমী হতে হল। তাই ১৪৪১ শকাব্দে (১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ) এক শুভক্ষণে নিতাইচাঁদের সঙ্গে বসুধা দেবীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর প্রভু নিত্যানন্দ খড়দহে বসতি স্থাপন করলেন এবং এই বসতি স্থাপনের জন্য শ্রী পুরন্দর পণ্ডিত প্রভু নিত্যানন্দকে ২৬ বিঘা জমি দান করেছিলেন। যে স্থানে নিত্যানন্দপ্রভু বসতি স্থাপন করেছিলেন বর্তমানে সেই ভবন ‘কুঞ্জবাড়ি’ নামে পরিচিত। শ্রীনিতাইচাঁদ সঙ্গে নিয়ে আসেন অনন্তদেব, ত্রিপুরাসুন্দরী যন্ত্র ও নীলকণ্ঠ বিগ্রহ। এই বিগ্রহ নিতাইচাঁদের পারিবারিক বিগ্রহ। এই খড়দহে প্রভু নিত্যানন্দ দশভূজা মাকে কাত্যায়নী রূপে পূজা করেছিলেন। পরবর্তী কালে বহু বংশধরের বাড়িতেই পুজো হত। তবে বর্তমানে মেজোবাড়ি ও বড়োবাড়িতে সেই প্রাচীন ধারা বজায় রেখে আজও পুজো হয়।

প্রভু নিত্যানন্দ এই দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন আনুমানিক ১৪৫২ শকাব্দে (১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে)। এ বছর এই বনেদি পুজো ৪৯১ বছরে পদার্পণ করল। সেই প্রাচীন ধারা ও ঐতিহ্য আজও যেন নিত্যানন্দপ্রভুর বংশধরদের পুজোতে সম্পূর্ণ ভাবে পাওয়া যায়।

এই বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব হল দেবীর দু’ পাশে অবস্থান করেন দেবীর দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। এই বাড়িতে দেবী একচালায় ডাকের সাজে সজ্জিত হন। এ ছাড়া পরিবারের প্রাচীন গহনা দিয়েই সাজানো হয় কাত্যায়নীকে। তবে এই বাড়িতে দেবীর বাহন সিংহ কিন্তু ঘোটকাকৃতি বলেই উল্লেখ করলেন নিত্যানন্দপ্রভুর বংশধর প্রভুপাদ সরোজেন্দ্র মোহন গোস্বামী মহাশয়।

এই বাড়ির পুজোর সূচনা হয় উল্টোরথের দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। মহালয়ার আগে নবমীতিথিতে মেজোবাড়ির মা চণ্ডী শ্যামসুন্দর জিউ-এর মন্দিরে যান। সেখানে চণ্ডীপাঠ হয়। মা চণ্ডী আবার ফিরে আসেন প্রতিপদের দিন। আর সেই দিন থেকেই চণ্ডীর পুজো শুরু হয় খড়দহের গোস্বামীবাড়িতে।

দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিনে বোধন শুরু হওয়ার পর দেবী প্রতিমাকে বেদিতে স্থাপন করা হয়। সপ্তমীর দিন নবপত্রিকার স্নান হয়। তবে এই বাড়িতে নবপত্রিকাকে সাদা থানের কাপড় পড়ানো হয়। কারণ অতীতে নিত্যানন্দপ্রভু যখন দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন তখন একজন তাঁকে থান দান করেছিলেন। তাই তিনি তখন কলাবউকে সেই কাপড় পড়িয়েছিলেন আর সধবার চিহ্ন হিসাবে সিঁদুরের রেখা টেনে দিয়েছিলেন। সেই প্রাচীন নিয়ম আজও চলে আসছে প্রভু নিত্যানন্দের বংশধরদের পুজোয়।

এই পরিবারে কোনো রকম পশু বলিদানের চল নেই। শুধুমাত্র মাসকলাই বলিদান করা হয় এই বনেদিবাড়িতে। দেবীকে কেন্দ্র করে যে সব সহচরী অপদেবতারা থাকে তাদের উদ্দেশেই এই মাসকলাই বলিদান করা হয়।

আরও পড়ুন: অভয়ারূপে দুর্গার আরাধনা কলুটোলার ধরবাড়িতে যেখানে চৈতন্যসভায় সমাধিস্থ হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ

বাড়ির এই পুজোকে কেন্দ্র করে কলকাতার বাইরে থাকা প্রায় সমস্ত আত্মীয়পরিজন চলে আসেন পুজোর অমলিন আনন্দের ভাগীদার হতে। এই বাড়ির পুজোয় দেবীকে বিভিন্ন রকমের পদ ভোগ হিসাবে নিবেদন করা হয়। প্রভুপাদ সরোজেন্দ্রবাবু জানালেন, ভোগে থাকে সাদাভাত, শুক্তনি, মুগঘণ্ট, খিচুড়ি, বেগুনভাজা, মুগের ডাল, পোস্ত, চচ্চড়ি, পুষ্পান্ন, ধোঁকা, ছানার কালিয়া, চাটনি, পরমান্ন, মিষ্টান্ন ইত্যাদি। দশমীর দিন পান্তাভাত, কচুর শাক, চালতার চাটনি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া এই পরিবারে ধুনো পোড়ানোর রীতিও রয়েছে।

দশমীর দিন নিত্যানন্দ পরিবারের সদস্যদের সিঁদুরখেলার পর প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। আগে দেবীকে জোড়া নৌকায় তুলে গঙ্গাবক্ষে ঘুরিয়ে তার পর বিসর্জন দেওয়া হত। সে প্রথা আজ বন্ধ। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর পরিবারের সকল সদস্য শ্যামসুন্দরের মন্দিরে উপস্থিত হন এবং পুরোহিত সবাইকে শ্যামসুন্দরের পরিহিত কৌপিনের টুকরো বেঁধে দেন। এই প্রথাকে প্রভু নিত্যানন্দ মিলনের প্রতীক হিসাব দেখিয়েছিলেন। এই ভাবে প্রাচীন ঐতিহ্য ও রীতিনীতি মেনে আজও খড়দহে নিত্যানন্দ পরিবারে কাত্যায়নীর আরাধনা হয় নিষ্ঠার সঙ্গে।

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

অভয়ারূপে দুর্গার আরাধনা কলুটোলার ধরবাড়িতে যেখানে চৈতন্যসভায় সমাধিস্থ হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ

কৃষ্ণচন্দ্র ধর ১৮৬০ সালে কলকাতায় মূর্তিপুজোর প্রচলন করলেন।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গার আরাধনা বহু দিন ধরেই চলে আসছে এ দেশে। কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের তন্ত্রসারে দুর্গাপুজোর বিবরণ রয়েছে। এই গ্রন্থে দেবীর যে ধ্যান রয়েছে সেখানে তিনি চতুর্ভূজা, সিংহবাহিনী, শঙ্খ-চক্র-ধনুর্বাণধারিণী, মরকতবর্ণা। এই তন্ত্রসার গ্রন্থেই রয়েছে দেবী দুর্গার ‘মহিষমর্দিনী’ মন্ত্র। মহিষমর্দিনী দেবীর দেহকান্তি মরকতমণির ন্যায়, ইনি মণিময় মুকুট ও কুণ্ডল দ্বারা শোভামানা, ত্রিনয়না এবং মহিষের মস্তকে উপবিষ্টা।

আবার দেবীভাগবতের মতে, পরমাব্রহ্মরূপিণী প্রকৃতি দুর্গা, রাধা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও সাবিত্রী – এই পঞ্চবিধ রূপ ধারণ করেছিলেন। প্রকৃতির প্রধান অংশরূপিণী কমলানয়না কালী, দুর্গার ললাট থেকে শুম্ভ-নিশুম্ভের সঙ্গে যুদ্ধকালে আবির্ভূতা হয়েছিলেন। তিনি দুর্গার অর্ধাংশরূপিণী হলেও তেজে ও গুণে তাঁরই সমতুল্যা। তিনি কোটি সূর্যসম উজ্জ্বল বিগ্রহধারিণী, সমস্ত শক্তির মধ্যে প্রধান বলস্বরূপা ও পরম বলবতী।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় দেবীর চক্ষুদানের সময় প্রতীকী বলিদান হয় চুঁচুড়ার মণ্ডল পরিবারে

প্রসঙ্গত দেবীদুর্গার নানা রূপের মধ্যে বনদুর্গার নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। শুভ কাজে কোথাও কোথাও এই দুর্গার পুজো হয়ে থাকে। বনদুর্গাও তন্ত্রের দেবী। বনদুর্গা মদমত্তা, তাঁর মহালোচন অঘূর্ণিত তাঁর মুখমণ্ডল ভীষণাকার, মস্তকে জটাভার, গলদেশে নরকপালের মালা। বস্তুতপক্ষে এই বনদেবীর উল্লেখ আমরা আরও বেশি পাই চণ্ডীমঙ্গলকাব্যে, কারণ দেবী চণ্ডীর প্রকৃত নাম ‘অভয়া’, তাই চণ্ডীমঙ্গলকাব্যের অপর নাম ‘অভয়ামঙ্গল’। এখানে দেবী মহিষাসুর বিনাশিনী নন, এখানে তিনি বন্যদেবী বিন্ধ্যবাসিনী। তিনি বনের পশুদের অভয় দান করেন অর্থাৎ তিনি পশুদের রক্ষাকারিণী। এই ‘অভয়া’ অর্থাৎ যিনি ভক্তের ভয় দূর করেন সেই বন্যদেবীর থেকেই শারদীয়া দুর্গাপুজোয় অভয়াদুর্গা মূর্তির উৎপত্তি। এখানে তিনি দশভূজা নন, তিনি দ্বিভূজা এবং পদতলে সিংহ রয়েছেন। এমন বিগ্রহ বহু প্রাচীন বনেদিবাড়িতেই দেখা যায় যেখানে বছরের পর বছর পুজো হয়ে আসছে ধারাবাহিক ভাবে।

আবার অপর এক যুক্তিতে দেবীর সঙ্গে যখন মহিষাসুরের প্রবল সংগ্রাম শুরু হয়েছিল তখন মহিষাসুর মায়ার দ্বারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছিলেন। কিন্তু তখনও তিনি দেবীকে পরাজিত করতে পারছিলেন না। যখন দেখলেন যে দেবী দুর্গার কাছে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত, তখন তিনি করজোড়ে মিনতি করলেন এবং ক্ষমাভিক্ষা করলেন। তখন দেবী দুর্গা আপন রূপ ধারণ করে মহিষাসুরকে অভয়দান করলেন। সেই থেকেই মায়ের এমন অভয়রূপ।

তেমনই এক বনেদিবাড়ি রয়েছে মধ্য কলকাতার কলুটোলা অঞ্চলে, যেখানে মায়ের  অভয়ারূপের আরাধনা হয়। এই অঞ্চলের দেবেন্দ্র মল্লিক স্ট্রিট ও ফিয়ার্স লেনের সংযোগস্থলেই বসবাস করেন ধর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দুর্গাদালানেই আজও পুজো পেয়ে আসছেন অভয়ারূপী মা দুর্গা।

এই পরিবারের আদি নিবাস ছিল চন্দননগরের সরিষাপাড়ায়। ইংরেজদের সঙ্গে লবণ ও চিনির ব্যবসা করার জন্য সেই অঞ্চল থেকে কলকাতায় চলে আসেন ধরবাড়ির আদিপুরুষ সাফুল্যরাম ধর। ব্যবসায় প্রভূত অর্থ লাভ করেই তিনি কলুটোলায় ২০ কাঠা জমির ওপর তিনমহলা বাড়ি নির্মাণ করেন। এই তিনমহলা বাড়ির মধ্যে একটি বসতবাড়ি, একটি দোলবাড়ি এবং একটি ঠাকুরবাড়ি। এই দোলবাড়ি ও ঠাকুরবাড়িতেই ছিল ঝাড়বাতির আলোয় সাজানো সাবেকি সাজসজ্জা, যেখানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে কাননদেবী পর্যন্ত বিখ্যাত সব মানুষের পা পড়েছিল।  

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাফুল্যরাম ধরের পঞ্চমপুরুষ পূর্ণচন্দ্র ধরের বসতবাড়িতে (৩২এ ফিয়ার্স লেন) ১৮৭১ সালের শুরুর দিকে এসেছিলেন ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, এক চৈতন্যসভায়। সে দিন আত্মহারা অবস্থায় চৈতন্য-আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে ঠাকুর সমাধিস্থ হয়েছিলেন। ওই আসনটি বর্তমানে না থাকলেও এখনও স্থানটি সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে এই পবিত্রস্থানটিতে দুর্গাপুজোর সময় হোম করা হয়।

বলা বাহুল্য ধরবাড়ির সদস্যদের আদিপরিচয় ব্যবসায়ী হলেও পরবর্তী কালে দু’টি প্রখ্যাত ব্রিটিশ কোম্পানি বেনিয়ান হিসাবে এই পরিবারের কর্তাদের নিয়োগ করেন এবং এঁদের দ্বারাই বহু আত্মীয়পরিজনের চাকরি হয়েছিল ওই কোম্পানিদু’টিতে। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় এই পরিবারের গয়নাগাটি, আসবাবপত্র, ধনসম্পত্তি লুট হয়ে গেলে তখন ওই কোম্পানিদু’টির সাহায্যেই ধরবাড়ির তৎকালীন বংশধরেরা ঘুরে দাঁড়ান।

ধরবাড়ির আদি নিবাস চন্দননগরে মায়ের পুজো হত ঘটে। কৃষ্ণচন্দ্র ধর ১৮৬০ সালে কলকাতায় মূর্তিপুজোর প্রচলন করলেন। সোজা রথের দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে পুজোর সূচনা হয় বলেই জানালেন পরিবারের সদস্য অসীম কুমার ধর। তার পর এক শুভদিন দেখে মায়ের মৃন্ময়ীরূপ গড়ার কাজ শুরু হয় ঠাকুরদালানেই। ধরবাড়ির ঠাকুরদালানে দেবী একচালায়, ডাকের সাজে সজ্জিতা এবং দ্বিভুজা। কোনো মহিষাসুর নেই, মায়ের পদতলে দু’টি সিংহ। মা সৌম্য, শান্তস্নিগ্ধ রূপে বিরাজ করেন। এই পরিবারের একচালার বিগ্রহের চালচিত্রে মহাদেব, রাধাকৃষ্ণ এবং নবদুর্গার বিভিন্ন রূপ অঙ্কিত থাকে এবং দেবীর দুই পাশে থাকেন দুই সহচরী জয়া এবং বিজয়া।

প্রতিপদ তিথিতেই বোধন শুরু হয়, সেই দিন থেকেই চণ্ডীপাঠ, আরতি শুরু হয়ে যায়। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস হয়। সপ্তমীর দিন সকালে মতিলাল শীল ঘাটে নবপত্রিকা স্নান করানো হয়। মহাষ্টমীর দিন বাড়ির মহিলারা ধুনো পোড়ানোয় যোগ দেন এবং ধরবাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণবমতে, ‘বৃহৎনান্দীকেশ্বর’ পুরাণ মতে। সন্ধিপূজায় মাসকলাই বলিদান হয় এবং মহানবমীর দিন কুমারীপুজো ও সধবাপুজো হয়। পুজো করেন বাড়ির সধবা মহিলারাই।

এই বাড়ির পুজোর সময় চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। সঙ্গে থাকে নানা রকমের ফল, লুচি, কচুরি, পাঁচ রকমের ভাজা, নারকেলনাড়ু, মালপোয়া, দই, ক্ষীর, গজা, মুগের নাড়ু ইত্যাদি। ধর পরিবারের সদস্যরা বোধন থেকে মহাষ্টমী পর্যন্ত নিরামিষ আহার করেন। মহানবমীর দিন পুজো শেষ হলে ব্রাহ্মণদের মৎস্যমুখ করিয়ে তবে পরিবারের সদস্যরা মৎস্যমুখ করেন।

দশমীর দিন বরণের পর কনকাঞ্জলি দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। প্রাচীন রীতি মেনে আজও ধরবাড়ির দেবী কাঁধে করে বিসর্জনে যান। বাড়ির বয়ঃজেষ্ঠ্য সদস্যরা দেবীর সামনে চামর দোলাতে দোলাতে ঘাট অবধি যান। বিসর্জন শেষে বাড়ি ফিরে নতুন কাপড় পরে শান্তির জল গ্রহণ করেন পরিবারের সদস্যরা। এই ভাবেই শেষ হয় কলুটোলার ধরবাড়ির পুজো।

এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে বাইরের দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানালেন ধরবাড়ির বধূ শর্মিষ্ঠা ধর।   

Continue Reading

উৎসব

করোনার আবহে দুর্গাপুজোয় ফোরামের নজরে ভোগ-পুষ্পাঞ্জলি, কী বলছেন উদ্যোক্তারা?

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা সংক্রমণ হু হু করে বেড়েই চলেছে। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কোনো ব্যাপারই নেই। তার মধ্যে দুর্গাপুজো আগত। আর ১০০ দিনও বাকি নেই। স্বাভাবিক ভাবেই সকলের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কী ভাবে করা যাবে পুজো? সেই সমস্যার আশার কথা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সেই মতোই নিয়মনীতির কথা ভাবছে দুর্গাপুজোর সংগঠকদের সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। ফোরামের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে গাইডলাইন।

ফোরামের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলির জন্য যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে তাতে রয়েছে –

(১) যথাসম্ভব অনাড়ম্বর পুজো, বাজেট কমানো, বাকি অর্থ জনস্বার্থে ব্যবহার;

(২) প্যান্ডেল ও প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি নয়;

(৩) ঠাকুরের ভোগে গোটা ফল;

(৪) অঞ্জলির ফুল নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া;

(৫) পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধিপুজো এবং সিঁদুরখেলার সময়ে শারীরিক দূরত্ব মানা বাধ্যতামূলক;

(৬) দর্শকদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক;

(৭) প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় দর্শকদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া;

(৮) মূল প্রবেশপথে একাধিক থার্মাল গান; জ্বর নিয়ে কাউকে ঢুকতে না দেওয়া;

(৯) বাইরে থেকে প্রতিমা দর্শনের উপযুক্ত মণ্ডপ; প্রবেশপথে দীর্ঘ ব্যারিকেড;

(১০) ২৫ জনের বেশি দর্শনার্থী এক সঙ্গে মণ্ডপে নয়;

(১১) মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় দু’টি স্টলের মধ্যে অন্তত ৩-৪ ফুট ব্যবধান; খাবারের স্টলে বসিয়ে খাওয়া নয়, রেডিমেড খাবার বিক্রিতে জোর।      

এই গাইডলাইনের প্রেক্ষিতে মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কথা ভাবছে বিভিন্ন বাজেটের পুজো কমিটিগুলি। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেই মতোই পরিকল্পনাও যে পরিবর্তিত হবে সে কথা  জানিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার শিবমন্দির পুজো কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা পার্থ ঘোষ।

সন্তোষপুর লেকপল্লির সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ দাস বলেন, সামাজিক দূরত্ব মানতে প্রণামী বাক্সের মতো একটা বাক্স রাখা হবে। পাড়ার বাসিন্দারা সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে কারও বাড়ি যাওয়ারও প্রয়োজন পড়বে না। সকলকে অঞ্জলির ফুল নিজেদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হবে। এক একবারে ২০ জন করে অঞ্জলি হবে। প্রয়োজনে ২০ বার অঞ্জলি হবে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই চ্যালেঞ্জ।

মণ্ডপের বাইরে থেকেই দর্শনার্থীরা ঠাকুর দেখতে পারেন এমন ভাবেই মণ্ডপ তৈরি হবে বলে জানান চেতলা অগ্রণীর কর্মসমিতির সদস্য সন্দীপ মুখোপাধ্যায়। 

উত্তর কলকাতার কাশিবোস লেন পুজো কমিটির সম্পাদক সোমেন দত্ত এ প্রসঙ্গে বলেন, পুজোর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের রুজি-রুটি জড়িয়ে রয়েছে। প্রশাসনের গাইডলাইন মেনেই পুজো হবে। সময় অনুযায়ী প্ল্যান পরিবর্তিত হবে। এ ছাড়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কের অন্যতম মূল উদ্যোক্তা সঞ্জয় মজুমদার বলেন, এই পরিস্থিতিতে পুজো হবে নিয়ম রক্ষার্থে। পাড়ায় বহু বয়স্ক মানুষ আছেন, তাঁদের অনুমতি নিতেই হবে। তাই ২ আগস্ট ভার্চুয়াল মিটিং করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পড়ুন – দুর্গাপুজোয় দেবীর চক্ষুদানের সময় প্রতীকী বলিদান হয় চুঁচুড়ার মণ্ডল পরিবারে

Continue Reading
Advertisement

রবিবারের খবর অনলাইন

কেনাকাটা

things things
কেনাকাটা3 days ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা6 days ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা2 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা2 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা3 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

কেনাকাটা3 weeks ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা4 weeks ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

নজরে

Click To Expand