ঝড়বৃষ্টির চোখরাঙানির মধ্যেই মহাষ্টমীতে মাতল বাংলা

0
kumaripuja at Belur Math
বেলুড় মঠে কুমারীপূজা। ছবি রাজীব বসু।

ওয়েবডেস্ক: বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত আর গুপ্তপ্রেস, দু’টি পঞ্জিকা মতেই মহাষ্টমীর দিনের বেলাতেই ছিল সন্ধিপুজোর ক্ষণ। প্রথমটির মতে সকাল সাড়ে ১০টা ৩১ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টির মতে দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এ দিন সকাল থেকেই ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়।

সকালটা মোটের ওপরে ভালো কাটলেও, এ দিন দুপুরের পর থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও বৃষ্টির বেগ যথেষ্ট তীব্র ছিল।কিন্তু তাতে উৎসবমুখর মানুষের উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে ভিড়। ছবি রাজীব বসু।

ঝড়বৃষ্টি মানুষের উৎসাহে ভাটা ফেলতে তো পারেইনি উলটে এর সৌজন্যে এ দিনের তীব্র গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া গিয়েছে। ফলে দিনভর রাস্তায় রাস্তায় জনস্রোতের কোনো কমতি ছিল না।

বিকেলের পর থেকে আবহাওয়া অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। যথারীতি ভিড় আরও বাড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে। এ দিনের ভিড় গত কয়েক দিনের ভিড়কে ছাপিয়ে যায়। সেটাই স্বাভাবিক, কারণ রাত পোহালেই তো বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার নবমী তিথি পড়ে যাবে। আর নবমী পড়লেই মনে হবে মায়ের ফিরে যাওয়ার ক্ষণ আগতপ্রায়।

নিউ আলিপুর সুরুচি সংঘের পুজোয় রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত, তাঁর স্বামী নিখিল জৈন এবং চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। ছবি রাজীব বসু।

শুধু মহানগর কলকাতা কেন, রাজ্যের প্রতিটি শহর-গ্রামে মহাষ্টমীর পুজো নিয়ে মানুষের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। সকাল হতে না হতে শুধু ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ার অপেক্ষা। সকালের প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে ‘চলো বেরিয়ে পড়ি’। আর মহাষ্টমী এমনই এক তিথি যে দিন দুপুরের ভোগ খাওয়া কোনো সমস্যাই নয়

আরও পড়ুন: প্রবাসের পুজো: আনন্দের পসরায় কোনো ঘাটতি নেই দিল্লির পুজোয়

আজ বহু পুজোমণ্ডপে, বনেদি বাড়িতে, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, আশ্রমে সাধারণের জন্য দ্বার ছিল উন্মুক্ত। সেখানে ছিল পাত পেড়ে দুপুরের ভোগ খাওয়ার আয়োজন।

এমনই একটি প্রতিষ্ঠান শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার। হাওড়ার খড়িয়পে এই আশ্রমের দুর্গাপুজো ২১ বছরে পড়ল। এখানে মা সারদাকে দুর্গা রূপে পূজা কড়া হয়। পুজোর চার দিনই সর্বসাধারণের জন্য দুপুরে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এ দিন সকাল থেকেই এই আশ্রমে জনসমাগম ছিল দেখার মতো। আশ্রমের মাঠ পুরো বাইকে বাইকে ছয়লাপ। আশ্রম কর্তৃপক্ষের মতে এ দিন দুপুরে অন্তত হাজার দশেক দর্শনার্থী খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করেন। খিচুড়ির সঙ্গে ছিল আলুর দম, পাঁপড়, চাটনি, পায়েস। জানা গেল, রাত অন্তত ১০টা পর্যন্ত এই প্রসাদ বিতরণ চলবে। তবে বিকেলের পরে খিচুড়ির পরিবর্তে শুকনো প্রসাদ বিতরণ কড়া হবে।


শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের পুজো।

এ দিন ছিল কুমারীপূজার দিন। কুমারীপূজার সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল বেলুড় মঠ। সকালে মঠে কুমারীপূজা দেখতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। বেলুড় মঠ চত্বর দর্শনার্থীদের ভিড়ে কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল। বেলুড় মঠ ছাড়াও বেশ কিছু বনেদি বাড়িতে, কিছু সর্বজনীন পুজোতেও এ দিন কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here