ঝড়-বৃষ্টি-শিলা-বজ্রপাত, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার খেল রাজ্য জুড়ে

0

ওয়েবডেস্ক: দিন কয়েক হল দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখনও সামগ্রিক ভাবে ১৭-১৮ ডিগ্রিতে ঘোরাফেরা করলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৩২-৩৩ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছে। দিনের বেলায় রাস্তায় বেরোলে গরম মালুম হচ্ছে।

তবে এই পরিস্থিতি আমুল বদলে যেতে পারে ২৪ ঘণ্টা পর থেকে। রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে। কিছু কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে রবিবার কলকাতায় আবহাওয়ার বিশেষ পরিবর্তন হবে না। সারাদিন রোদের দেখা পাওয়া যাবে। তবে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকতে পারে। পশ্চিমাঞ্চল আর মধ্যবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতা ও তাঁর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আসল দাপট নিয়ে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে সোমবার সন্ধ্যা থেকে বুধবারের মধ্যে। ওই দিন রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।

কলকাতায় এখনই কালবৈশাখীর সম্ভাবনা হয়তো নেই। কিন্তু পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমানে মরশুমের কালবৈশাখীর মতো ঝড় পেয়ে যেতে পারে।

কালবৈশাখী ঝড় তৈরি হয় ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভুমি অঞ্চলে। দিনের বেলায় প্রবল গরমের ফলে ওখানকার হাওয়া গরম হয়ে উপরে উঠে যায়। তার শূন্য স্থান পূরণ করতে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছুটে যায় জলীয় বাষ্পভরা ঠান্ডা বাতাস। ঠান্ডা ও গরম হাওয়ার সংমিশ্রণে উল্লম্ব মেঘ তৈরি হয়। সেটাই শেষে কালবৈশাখী হয়ে আছড়ে পড়ে।

কালবৈশাখীর মরশুম এখনও সরকারি ভাবে শুরু না হলেও, ঠিক এই প্রক্রিয়াতেই মেঘ তৈরি হবে ছোটোনাগপুর অঞ্চলে।

গত কয়েক দিন ধরে ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চল দিনের বেলায় গরম হচ্ছে। পাশাপাশি এখন দখিনা হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প হুহু করে ঢুকছে ছোটোনাগপুর মালভূমির দিকে।

কিন্তু ঝড়বৃষ্টি তৈরি হওয়ার জন্য কিছু অনুঘটকের প্রয়োজন হয়। সেই অনুঘটক না থাকলে যত গরমই পড়ুক ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না।

সেই অনুঘটক বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত হয়ে গিয়েছে। মধ্যভারতে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে যেটি ক্রমশ বাংলাদেশের দিকে এগোবে এ রাজ্য হয়ে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ওপরে রয়েছে একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত। এই দু’টির ফলে গোটা রাজ্যের ব্যাপক ভাবে জলীয় বাষ্প ঢুকবে। সেই জলীয় বাষ্পের সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার মিশেলে ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভূমির পরিস্থিতি ঝড়বৃষ্টির অনুকূল হয়ে উঠবে।

রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চল, অর্থাৎ দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, মুর্শিদাবাদেই শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির সঙ্গে শিল পড়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। এখানে হালকা ঝোড়ো হাওয়া বইলেও, জোর ঝড়েরও কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে পশ্চিমাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি হলে চাষাবাদে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ক’দিন তীব্র বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা।

মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে সামগ্রিক ভাবে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার পর্যন্তও এর প্রভাব থেকে যেতে পারে। পাশাপাশি এই সময়ে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি আর সিকিমে বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আকাশ পরিষ্কার হলে ফের কিছুটা কমতে পারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতায় ফের একবার তাপমাত্রা ১৬-১৭ ডিগ্রিতে নামতে পারে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে নামতে পারে ১৩-১৪ ডিগ্রির ঘরে।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.