ডিভিসি রাজ্যকে না জানিয়ে অনৈতিক ভাবে জল ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে জলে ভাসছে এই রাজ্যের মানুষ। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে আমরা এই ম্যান মেড বন্যার জন্য আইনের দ্বারস্থ হব। তাতেও কাজ না হলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যখন রাজ্যকে দরকার পড়বে তখন দেখা যাবে কতটা সাহায্য পায় তারা। মালদহ ও দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক বৈঠকের শেষে মঙ্গলবার ফের কেন্দ্রকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যদি বন্যা হয় তা হলে আলাদা বিষয় ছিল। কিন্তু খরার সময় আমরা জল পাব না আর বর্ষায় ডিভিসির জলে আমরা ভাসব তা কিছুতেই মেনে নেব না।”

mamata-in-dinajpur-3
রায়গঞ্জের সোনাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক

গৌড়বঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ এই তিন জেলাকে নিয়ে এ দিন রায়গঞ্জের সোনাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মূখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে মূখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, মন্ত্রী গোলাম রব্বানি প্রমুখ। এ ছাড়াও ছিলেন তিন জেলার সমস্ত প্রশাসনিক কর্তা, পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকে তিন জেলার বিভিন্ন চালু প্রকল্পের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ৩ জেলার ৫টি প্রকল্পের শিলান্যাস ও ২৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন  করেন।

বৈঠক শেষে মমতা বলেন, “বিধাননগর এলাকায় আনারসের চাষ ভালো হয়। তার জন্য এই এলাকায় একটি আনারস হাউস তৈরি করা হবে। উত্তরবঙ্গের চা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, তাই চা শিল্পের জন্য ১০০ কোটির ফান্ড তৈরি করা হয়েছে কিন্তু কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে চক্রান্ত চলছে। মালদহে সীমান্ত দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় সেখানে সিআইডি-র উইং তৈরি করা হবে, যাতে জেলায় ক্রাইম কমানো যায়। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষী নিবাসকে পর্যটন মানচিত্রে আনার জন্য আরও উন্নত ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রচুর সংখ্যায় পর্যটকেরা আসেন এশিয়ার বৃহত্তম পক্ষীনিবাসে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here