হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ, আজ বেলা ১১টায় শুনানি

0
মমতা, শুভেন্দু। প্রতীকী ছবি

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে সেই আবেদনের শুনানি হবে বলে হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ১৯০০-এর বেশি ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আবেদনে কী বলেছেন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে তিনটি কারণে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করার নির্দেশ চেয়েছেন – ঘুষ দেওয়া-সহ নানা দুর্নীতিমূলক কাজকর্ম সম্পাদন করা, ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি করে ধর্মের ভিত্তিতে ভোট চাওয়া এবং বুথ দখল। এ ছাড়া গণনা পদ্ধতিতেও নানা অসামঞ্জস্য এবং ১৭সি ফর্ম (এই ফর্মে ভোটের হিসাব ও গণনার ফল রাখা হয়) না মানার কথাও বলা হয়েছে।

তাঁর পুনর্গণনার দাবি নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আবেদনে বলা হয়েছে, “শুভেন্দু অধিকারী নানা ধরনের দুর্নীতিমূলক ক্রিয়াকলাপ চালিয়েছেন যা তাঁর জেতার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে এবং নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির সাফল্যের সম্ভাবনা বস্তুগত ভাবে পালটে দিয়েছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু বৃহস্পতিবার বলেন, নন্দীগ্রামের নির্বাচন বাতিল করে দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছেন। তিন দিন আগেই মামলা করা হয়েছে এবং এই মামলার শুনানি হবে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে – আগামী কাল শুনানি হওয়ার যে তালিকা রয়েছে, তার প্রথমেই রয়েছে এই মামলা।

সে দিন নন্দীগ্রামের গণনা

গত ২ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্যান্য কেন্দ্রের সঙ্গে নন্দীগ্রামের গণনা চলে মাঝরাত পর্যন্ত। সারা দিন ধরেই নানা নাটকীয়তা ছিল এই কেন্দ্রের গণনায়। কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে সেই নিয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা।

প্রথম ১১ রাউন্ড পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছিয়ে ছিলেন। তার পর পাশা উলটে যায়, মমতা এগোতে থাকেন। এগিয়ে থাকার মার্জিন ৬ থেকে ১১ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে। এক সময়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১২০০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তার কিছুক্ষণ পরে খবর আসে মমতা নয়, জিতেছেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারী ১৯০০-র কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তখন থেকেই নন্দীগ্রামে গণনা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলতে থাকে তৃণমূল।

গণনায় কারচুপির অভিযোগে একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটগণনার সময় চার ঘণ্টা সার্ভার বসে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যপাল আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। হঠাৎ সব কিছু পালটে গেল।”

এ ছাড়াও সাংবাদিকদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, যে নির্বাচন অফিসার এই কেন্দ্রে গণনার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। মোবাইলের মেসেজ পড়ে সাংবাদিকদের শুনিয়েছিলেন মমতা, ‘‘এক জনের কাছ থেকে এসএমএস পেয়েছি। তাতে নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার কোনো এক জনকে লিখেছেন, তিনি যদি পুনর্গণনার নির্দেশ দেন, তা হলে তাঁর জীবন সংশয় হতে পারে। আমি পুনর্গণনার নির্দেশ দিতে পারছি না। আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে, আমার একটা ছোট্ট মেয়ে আছে…।”

বিজেপির কটাক্ষ

মমতার হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির আইটি সেলের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালব্য। তিনি টুইট করে বলেছেন, “একটা নির্বাচন কী ভাবে দু’ ভাবে হারা যায়? প্রথমে নির্বাচনে হেরে এবং পরে, আহত পরাজিতের মতো আদালতে জনগণের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে।”

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দিনেই মুকুলের বিধায়কপদ খারিজের প্রক্রিয়া সেরে ফেললেন শুভেন্দু!

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন