mamata banerjee

বিশেষ সংবাদদাতা: পঞ্চায়েত ভোটের আগে উন্নয়নের কাজ কতটা হয়েছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণে বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের সব দফতরের মন্ত্রী ও সচিবদের এই জরুরি বৈঠকে তলব করা হয়েছে। দফতরগুলি টার্গেট অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ কতটা শেষ করতে পেরেছে, মন্ত্রী সচিবদের কাছ থেকে দফতর ধরে ধরে সেই রিপোর্টই নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে হবে রাজ্য স্তরের এই জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক। এই বৈঠকে জেলাশাসকদেরও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।

পঞ্চায়েত ভোটের আগে গ্রামোন্নয়ের সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলির উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। কৃষি, কৃষি বিপণন, উদ্যান পালন, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণী সম্পদ বিকাশ, খাদ্য, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পূর্ত, সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়নের মতন দফতরগুলির উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কারণ গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতিতে এই দফতরগুলি কাজ করে। আর পঞ্চায়েত ভোটকে পাখির চোখ করে গ্রামোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলি উন্নয়নের কাজ কতটা করেছে, সোমবারের বৈঠকে সেই পারফরম্যান্স বিচার করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রিপোর্ট পেয়েছেন, ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি জেলা আশানুরূপ কাজ করতে পারেনি। সোমবারের বৈঠকে সেই সব জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকেও রিপোর্ট নেবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগেই বিভিন্ন দফতর তাদের কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট এবং কেন্দ্রের টাকা কে কতটা খরচ করতে পেরেছে, তার হিসেব নবান্নে জমা দিয়েছেন। সেই রিপোর্ট হাতে নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন। তা ছাড়াও মুখ্যসচিব মলয় দের কাছ থেকেও দফতরগুলির কাজ নিয়ে রিপোর্ট নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাশাপাশি সব দফতরের মন্ত্রী ও সচিবরাও তাঁদের কাজের রিপোর্ট ফাইলবন্দি করে সোমবারের বৈঠকে হাজির হবেন। কোন দফতর টার্গেট অনুযায়ী কতটা কাজ করল, সেই অনুসারে দফতরগুলোকে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় করেও নম্বর দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে জেলাগুলির কাজের পারফরম্যান্স বিচার করেও নম্বর দেবেন তিনি। যে জেলা বা দফতরের পারফরম্যান্স খারাপ হবে, তাদের তিরস্কার জুটবে কপালে। সেই সঙ্গে কাজের নয়া লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হবে। উন্নয়নের টাকা যাতে পড়ে না থাকে, দফতরগুলোকে সেই নির্দেশও দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়নের বাকি থাকা কাজ পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণার আগেই রাজ্য জুড়ে যাতে শেষ হয়ে যায়, বৈঠক থেকে সেই নির্দেশ দেওয়া হবে।

রাজ্য স্তরের এই প্রশাসনিক বৈঠকের পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ফের দক্ষিণবঙ্গ জেলাসফরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার উন্নয়নের কাজ খতিয়ে দেখতে এবং জেলার মানুষকে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে মুখ্যন্ত্রীর এই দক্ষিণবঙ্গ সফর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here