Mamata Banerjee

কলকাতা: ঠিক যে ভাবে বা যে পথে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণের খসড়া চূড়ান্ত করে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং বিজেপি, তাতে বাধ সেধেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য জুড়ে বিজেপির রথযাত্রায় তার বড়োসড়ো প্রভাব পড়বে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

কয়েক মাস ধরেই বাজারে জোর খবর, বঙ্গে আরএসএসের সদস্য সংখ্যা জলের তোড়ের মতোই বাড়ছে। বিগত পাঁচ বছরে আরএসএস এ রাজ্যে নতুন সদস্য সংগ্রহে নজিরও গড়েছে। এমন খবর শোনার পরই তণমূল কংগ্রেসও যে হাত গুটিয়ে বসে থেকছে, তেমনটা নয়। আরএসএসের মোকাবিলায় শুধু হিন্দু নয়, সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সরকারি পরিষেবা মূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত করে আরএসএস-কে কোণঠাসা করার নি:শব্দ প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিলেন মমতা।

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের দাবি করে এসেছে বিজেপি। এ ব্যাপারে তারা বেশ কয়েকটি বিষয়ে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে আদালতে পর্যন্ত ছুটেছে। কিন্তু আদালত তো কোনো সুখের খবর খবর শোনাতে পারেনি, উল্টে সরকারি নীতির বিরোধিতা করে বিজেপি সংখ্যালঘু-বিরোধিতার ভাবমূর্তিকে আরও গাঢ় করেছে। কিন্তু মমতা থেমে থাকেননি। সংখ্যালঘুদের মতো, সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলির ধর্মীয় ও সামাজিক আচারে সরকারি অংশগ্রহণের হার বাড়িয়ে তোলা হয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। যা দেখে এখন প্রমাদ গুনছেন খোদ বিজেপিরই একাংশ।

এ ব্যাপারে এক তৃণমূল নেতা বলেন, ইমাম ভাতা দিলে বিজেপি আদালতে যায়, দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান দিলে বিজেপি আদালতে যায়। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সরকারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটাই বিজেপির কাছে ধাঁধার মতো ঠেকছে। তাই একবার এ দিক আর এক বার ও দিকে ছুটছে ওরা। কিন্তু কোথাও স্বস্তি পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, মমতা মুসলমানদের সভায় গিয়ে মাথায় হিজাব টালনে এরা গালাগালি করে, আবার দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক উদ্বোধন করতে গিয়ে হিন্দুত্ব নিয়ে ব্যাখ্যা করলে এদের গায়ে ফোসকা পড়ে। ওরা নিজেরাই বুঝুক কী করে ঠেকাবে মমতাকে।

শেষ এক বছরে আরএসএস অথবা রাজ্য বিজেপি হিন্দু সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে যে সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রায় শামিল হতে গিয়েছে, সবকটাতেই ঢুকে পড়েছে তৃণমূলও। সেটা রামনবমী হোক বা জন্মাষ্টমী। ফলে হিন্দুদের হিতসাধনে আরএসএস-বিজেপির একচেটিয়া দখলদারি ক্রমশ ম্লান হয়ে গিয়েছে মমতার সৌজন্যে। এ বার রয়েছে বিজেপির রথযাত্রা।

বিজেপির রথযাত্রার কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলি একাধিক কর্মসূচি নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও তৃণমূলের তরফে তেমন কোনো প্রতিরোধী পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি। তবে কয়েক দিন আগেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও বেশ ইঙ্গিতবাহী। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী অনুমতি দিলে রথের দড়ি-চাকা কিছুই থাকবে না।

এখন দেখার রাজ্যজুড়ে বিজেপির রথের চাকা কতটা মসূণ পথে গড়ায়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here