কলকাতা: আগামী ছ’মাসের মধ্যে নতুন ৭ জেলা তৈরি করার কথা নবান্ন থেকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই জেলা ভাগ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু কোন যুক্তিতে জেলা ভাগের সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

প্রশাসনিক কাজকর্মে হায়রানি কমানো

 মুর্শিদাবাদ জেলা ভেঙে জঙ্গিপুর ও বহরমপুর পৃথক জেলা তৈরি করা হবে। মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর হল বহরমপুর। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বহরমপুরে এসে প্রশাসনিক কাজকর্ম করাতে সময়ও বেশি লাগে এবং খরচও অনেকটা বেশি পড়ে। মুর্শিদাবাদ বিভক্ত হলে মানুষের হায়রানি অনেকটাই কমবে। অন্য জেলা ভাগের ক্ষেত্রে একই যুক্তি খাটছে।

কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দ বাড়বে

সাধারণ কেন্দ্রীয় সরকার জেলাভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে একটি জেলা ভেঙে দু’টি করা হলে কেন্দ্রের থেকে আলাদা-আলাদা অর্থ আসবে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ আরও ভাল ভাবে করা যাবে।

পড়ুন: আগামী ৬ মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ৭টি জেলা, ঘোষণা মমতার

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে

 বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন রাজ্যে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলা ভাঙলে আরও নিবিড় ভাবে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

খরচ বাড়বে রাজ্যের

জেলা ভাগ হওয়া মানেই বাড়বে সরকারি আধিকারিক, পুলিশের সংখ্যা। এর ফলে রাজ্যের খবরচ অনেকটাই বাড়বে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত সাত জেলা ভাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে আরও জেলা ভাগের সম্ভাবনা রয়েছে।  এর আগে টাউন হলে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ২৩টা জেলা ভেঙে ৪৬টি জেলা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। লক্ষ্যেই পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সভাতেই আক্ষেপ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পর্যাপ্ত আধিকারিক না পাওয়ার জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আধিকারিকের না পাওয়ার সমস্যা মিটতে চলেছে বলেই কি মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

জেলা, দেশ, বিদেশ, খেলা, বিনোদন-সহ সব খবরের আপডেট পেতে পড়ুন https://www.khaboronline.com/

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন