সারা রাজ্যের তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে কর্মশালা ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর আসার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু তিনি যে আসবেনই এমন কোনও খবর ছিল না। শেষ পর্যন্ত তিনি এলেন এবং সিন্ডিকেট-তোলাবাজির সমস্যা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন দলীয় কাউন্সিলরদের। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘নোটে নয়, ভোটে থাকুন’।

তৃণমূল নেত্রী এদিন বলেন, ‘দলের ০.১শতাংশ বদমাইশ, তাদের জন্য গোটা দলের বদনাম হচ্ছে’। কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাড়ি তৈরির প্ল্যান পাশ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে, তার জন্য টাকা চাইবেন না। ম্যাক্সিমাম নয়, মিনিমামে সন্তুষ্ট থাকুন। যারা শর্ট টার্মে করে খাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের চলে যেতে হবে। দল,সমাজ, আইন কেউ ছাড়বে না।। নিজেরাই ভেবে দেখুন, দু’বছর করে খাবেন নাকি লং টার্মে থাকবেন’।

এদিন বিধাননগর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, পানিহাটি, দুর্গাপুর পুরসভাকে বাড়তি গুরুত্ব দেন মমতা। বিধাননগরের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘লোক সিন্ডিকেট শিখেছে আপনাদের কাছ থেকে, আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিৎ’। দক্ষিণ দমদম পুরসভার উদ্দেশ্য মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ দু’জন কাউন্সিলর কোনও কোনও কাজের জন্য নাকি ৩০-৪০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। আমি কারও নাম করছি না। এবার ডানা ছেঁটে দেব’।  পুরসভার চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্য তাঁর বার্তা, ‘দুর্নীতিপরায়ণ চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা বোধ করবেন না’।

এদিন কর্মশালার শুরুতেই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের একটি নির্দেশিকা বিলি করা হয়, কাউন্সিলরদের মধ্যে। সেখানে বাড়ির নকশা, জলের লাইন, নিকাশির জন্য কাউন্সিলররা যাতে সুপারিশ না করেন, তার নির্দেশও দেওয়া হয়।

সিন্ডিকেট-প্রোমোটার রাজ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা অভিযোগে জেরবার তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে প্রশাসনিক বৈঠকেও এ নিয়ে প্রশাসনকে কড়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার দলীয় কর্মশালাতে সরব হয়ে বুঝিয়ে দিলেন, বিষয়টা নিয়ে কতদূর অস্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।

ফাইল চিত্র

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here