Mamata Banerjee
ফাইল ছবি

কলকাতা: মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপানি দেবীর জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে এবং সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ১৫ নভেম্বর গাইঘাটার ঠাকুরনগরে যাচ্ছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই খবর প্রশাসন সূত্রে।

গত ২ অক্টোবর আর একটি অডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেটিতে বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র অনুরূপ কণ্ঠস্বরের আলোচনায় উঠে এসেছিল মতুয়া সম্প্রদায়ের বিষয়। ওই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ফোন ট্যাপের অভিযোগ তুলে মুকুলবাবু আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

ওই অডিও ক্লিপের একটা বড়ো অংশ জুড়ে ছিল উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের ঠাকুরবাড়ি। সেখানে মতুয়া সম্প্রদায়ের আদর্শ ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। বিশেষত, ২০১১ সালে রাজ্য তণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে একদা বামঘেঁষা এই পরিবারে বহুদলীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটে গিয়েছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যা চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিদর্শনও রেখেছে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্জুলবাবুর দাদা কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করেছিলেন। তিনি জয়ী হওয়ার এক বছরের মধ্যে প্রয়াত হন। উপনির্বাচনে প্রার্থী হন কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুর। কিন্তু তত দিনে তৃণমূলের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মঞ্জুলবাবু। তাঁর ছেলে সুব্রত ঠাকুর ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হন বিজেপির প্রতীকে। যদিও তিনি পরাজিত হন।

কয়েক দিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল একটি অডিও ক্লিপ। খবরঅনলাইনের যাচাই না করা ওই অডিও ক্লিপের দু’টি কণ্ঠস্বরকে মুকুল রায় এবং কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র বলে দাবি করা হয় কোনো কোনো মহল থেকে। ওই অডিওয় মুকুলবাবুর মতো কণ্ঠস্বরের একজন বলেন, তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, তাঁকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তখন কৈলাশের মতো একটি কণ্ঠস্বর জানতে চান, শান্তনু মমতার ছেলে কি না। উত্তরে বলা হয়, মমতার প্রয়াত স্বামীর ভাই মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছোটো ছেলে শান্তনু। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়তেন। ওঁর সঙ্গে মমতার যোগাযোগ নেই। এমনকি সম্পর্ক তিক্ত বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রশ্নকর্তা বলেন, শান্তনু তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিজেপিতে কাজ করতে চেয়েছেন। …ও একটা গাড়ি চাইছে। ঘুরে ঘুরে সম্মেলন করতে চাইছে। আমার ছেলেটিকে খুব স্পার্কিং লেগেছে।

এমন মত বিনিময়ের কথা প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াকিবহাল মহলের তরফে ধারণা করা হয়, বিজেপি ঠাকুরবাড়িতে প্রভাব আরও জোরদার করতে চলেছে। বড়মার জন্মদিনে ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মমতার সশরীরে অংশ নেওয়ার কথা জানা যেতেই দু’টি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছে তারাই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here