মিশন ২০২১: মমতার সামনে এখনও ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোট!

রাজ্যে বিজেপির উত্থান, বামেদের ভোটক্ষয়, একই সঙ্গে থাকছে ধর্মীয় মেরুকরণও। নজর এড়াবে কি তৃণমূলের নবনিযুক্ত কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের?

0
পিটিআই থেকে ফাইল ছবি
Jayanta Mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার চুক্তি করেছে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূলের রণকৌশল স্থির করবেন প্রশান্ত। তবে সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে উঠে এসেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। হয়তো বা সে সমস্ত তথ্য নজর এড়াবে না মোদী-নীতীশ-জগন্মোহনকে সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দেওয়া প্রশান্তরও।

এ বারের লোকসভা ভোটে গতবারের তুলনায় জাতীয়স্তরে ৬.১ শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। গত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোট যেখানে ছিল ৩১.৩ শতাংশ, সেখানে এ বার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৪ শতাংশে। হিন্দু ভোটারদের একটা বড়ো অংশকে একত্রীকরণের ফলেই যে এই বাড়তি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গিয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে ভোট-পরবর্তী বিশ্লেষণে।

সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ ( সিএসডিএস)-এর ভোট-পরবর্তী সমীক্ষায় এ ব্যাপারে উঠে এসেছে আরও একটি আনুমানিক পরিসংখ্যান। সেখানে বলা হয়েছে, গত ২০১৪ সালে যেখানে ৩৬ শতাংশ হিন্দু ভোট আদায় করেছিল বিজেপি, সেখানে এ বার ৪৪ শতাংশ হিন্দু ভোটারকে কাছে টানতে সমর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির।

একই সঙ্গে এনডিএ-গত ভাবে হিন্দুদের সমর্থন পৌঁছেছে ৫১ শতাংশ। অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই হিন্দু ভোট বৃদ্ধির হার গত ২০১৪-র থেকে প্রায় তিনগুণের কাছাকাছি। ২০১৪ সালে তা ২১ শতাংশ থাকলেও ২০১৯-এ ঠেকেছে ৫৭ শতাংশে। মাত্র পাঁচ বছরে বাংলায় বিজেপির দিকে অতিরিক্ত ৩৬ শতাংশ হিন্দু ঢলে পড়ার কারণ কী?

রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরটা আছে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। তিনি যে ভাবে মুসলমানদের ভোট পেতে মরিয়া হয়ে উঠছেন, তার প্রতিক্রিয়াতেই হিন্দুরা ভিড়ছে গেরুয়া শিবিরে। তাতে রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ। যে জাদুশক্তির বলে বলীয়ান বিজেপি মাত্র দু-টো আসন থেকে ১৮-য় পৌঁছেছে এ বার। সেটা কী ভাবে?

গত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের পকেটে যাওয়া মুসলমান ভোটের শতকরা হার ছিল যথাক্রমে ৪০, ৩১ এবং ২৪ শতাংশ। এ বার আনুমানিক ভাবে সেই ভোটের ৭০ শতাংশই গিয়েছে মমতার কাছে। ২০১৯-এর ফলাফলেও যার স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত লোকসভা হিসাবে পরিচিত ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৯টিতেই।

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে মমতা নিজেও মুসলমান তোষণ নিয়ে মতপ্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমি তো মুসলিম তোষণ করি। যে গরু দুধ দেয় তার লাথও খাব”। একই সঙ্গে তিনি ইফতারে যাওয়ার কথাও জানিয়ে দেন।

কলকাতার রেড রোডে ইদের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও তিনি নাম না-করে বিজেপির উদ্দেশে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “জো হামসে টকরায়েগা চুর চুর হো জায়েগা“। এর পরই ইদের অনুষ্ঠানে মমতা রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে ঠিক এ রকমের হুঙ্কার কি পারবে পড়ে থাকা ৩০ শতাংশ ভোট তাঁর ঝুলিতে ভরতে? বাংলায় ঝড়ের গতিতে চলা ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি সেই উত্তর খুঁজবে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের ফলে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here