Mamata Banarjee goes to china

কলকাতা: বাংলায় বিনিয়োগ টানতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর গন্তব্য হয়ে উঠতে চলেছে প্রতিবেশী দেশ চিন । নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী বছরের জুন-জুলাই মাসে বিনিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে চিনের প্রাচীর অতিক্রম করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক লন্ডন সফরের সাফল্যের রেশ ধরেই শিল্প দফতর চিন সফরের বিষয়ে তাঁকে উৎসাহ দেয়। কারণ তাঁর এই সফরের পুরোটাই হচ্ছে চিনের ইচ্ছায়। কলকাতায় অবস্থিত চিনা দূতাবাস থেকে গত ১১ ডিসেম্বরের দিনাঙ্কে একটি আবেদন পত্র আসে রাজ্যের কাছে। যেখানে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়, বাংলা-চিন যৌথ উদ্যোগে শিল্প বিনিয়োগের সুযোগকে বাস্তবায়িত করতে মমতা সে দেশে যান। দূতাবাসের তরফে কনসাল জেনারেল মা ঝানউ লিখেছেন, মমতা চিনে গিয়ে কৃষি এবং উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে নিজে কথা বলুন। এই দুই ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিলেও আলোচনার সময় অন্যান্য বিষয়গুলি নিয়েও দু’তরফের বক্তব্য পেশের অবকাশ মিলবে।

এ দিকে মুখ্যমন্ত্রীর চিন সফরের কথা স্বীকার করে নিয়ে রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন দফতরের এক কর্তা জানান, চিনা দূতাবাসের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, এ কথা ঠিক। কিন্তু সফরের জন্য জুন-জুলাইকে বেছে নেওয়া হলেও  এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো দিন স্থির করা হয়নি।

অতীতে মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত শিল্পোদ্যোগীরা। চিন সফরের ক্ষেত্রেও তাঁদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। তবে শুধু চিন নয়, রাশিয়া, পোল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের তরফে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু সময়ের অভাবে সেই সমস্ত আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চিনের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ, সে দেশে কম উৎপাদন ব্যয়ে প্রস্তুত পণ্য ভারতের বাজারে ছেয়ে যাওয়া। ফলে সে রকম একটি দেশ যদি এ রাজ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকল্প গড়ে তোলে তা হলে বাংলার শিল্প ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

যদিও রাজ্যের এ ধরনের যুক্তিকে মোটেই গুরুত্ব দিতে চায় না বিজেপি। দলের এক প্রথম সারির নেতার কথায়, ‘উনি (মমতা) বিনিয়োগ টানতে গত ছ’বছরে বহু বিদেশ সফর করেছেন। কাজের কাজ কী হয়েছে, তার সঠিক হিসাব কোথায়? আর চিন-যাত্রা, ওটা ২০১৭ সালের সেরা কৌতুক।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here