বাবুলের বুকে তখন আগুন, ‘ঘি’ ঢেলেছিল মমতার ‘সহানুভূতি’র বার্তা

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) বলেছিলেন ‘আগুন’ লেগেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দিয়েছিলেন ‘সহানুভূতি’র বার্তা।

গত ৭ জুলাই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের মেগা-রদবদল পর্বের দিনই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচত সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে। পদত্যাগের পর বাবুলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোতে নজর বোলালেই স্পষ্ট, দলের নির্দেশ মানতে কার্যত ‘বাধ্য’ হয়েই ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ‘সহানুভূতি’র বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Shyamsundar

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার ওই রদবদলের পর থেকেই জল্পনা ছড়ায়, রাজনীতি ছেড়ে দিতে পারেন বাবুল। শনিবার সেটাই তিনি জানিয়ে দিলেন দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে। তাই বলে অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই নেটিজেনরা বলছেন, বিজেপি-তে ‘অপমানিত’ বোধ করছিলেন বাবুল। বিশেষত, আচমকা তাঁর মন্ত্রিত্ব ‘কেড়ে’ নেওয়ার বিষয়টা ভালো মনে মেনে নিতে পারেননি এই শিল্পী-সাংসদ। আর এর রেশ ধরেই ফের নতুন করে উঠে আসছে বাবুলের মন্ত্রিত্ব হারানোর দিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলনেত্রী মমতার সেই মন্তব্য।

২০১৪, ২০১৯ পর পর দু’বার আসানসোল থেকে বিরাট ব্যবধানে জিতে বিজেপি সাংসদ হন বাবুল। দু’বারই পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দায়িত্ব। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখে সেই প্রশংসাসূচক মন্তব্য- ‘মুঝে বাবুল চাহিয়ে’ও ভুলবার নয়। এহেন বাবুলের মন্ত্রিত্ব খোয়ানো এবং তার পর বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে খুল্লমখুল্লা বাগ-বিতণ্ডায় স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত, কোথাও যেন, কোনো রকম ভাবে তিনি ‘আহত’ হয়েছেন। সে কথাটাই একেবারে ঠিক সময়ে বলে দিয়েছিলেন মমতা। তিনি বলেছিলেন, বিজেপির কাছে এখন খারাপ’ হয়ে গিয়েছেন বাবুল।

মোদী মন্ত্রীসভার মেগারদবলের দিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন ওঁদের কাছে বাবুল সুপ্রিয় খারাপ”। এখানেই না থেমে মমতা আরও বলেন, “রাজবংশী মেয়েটি (দেবশ্রী চৌধুরী) যে ওঁদের মন্ত্রী ছিল, সেও খারাপ হয়ে গেল। বিজেপির কী ক্ষতি করল? আসলে বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ হয় মানুষের”।

মন্ত্রিত্ব হারিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাবুল সে দিনই ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ধোঁয়া ওঠা মানে কোথাও তো আগুন লেগেছে। বন্ধু, অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমের কাছে জানাতে চাই, আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। আমি সেটা করেছি”।

সেই আগুন যে আসলে কোথায় লেগেছিল, সেটা আজ পক্ষান্তরে স্পষ্ট করলেন বাবুল। মন্ত্রিত্ব যাওয়ার সঙ্গে যে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসের সম্পর্ক রয়েছে, সে কথাও খোলসা করেছেন বাবুল। লিখেছেন, “হ্যাঁ আছে – কিছুটা তো নিশ্চয় আছে! তঞ্চকতা করতে চাই না তাই সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেই তা সঠিক হবে-আমাকেও তা শান্তি দেবে”। তাই বলে আপাতত তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে নেই বাবুলের। জানিয়েছেন নিজেই। ফেসবুকে লিখেছেন, “সমাজসেবা করতে গেলে রাজনীতিতে না থেকেও করা যায়। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিই আগে তারপর”।

আর কী কী লিখলেন বাবুল? পড়ুন এখানে ক্লিক করে: অলবিদা! রাজনীতি ছাড়লেন বাবুল সুপ্রিয়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন