mamata bandyopadhyay

কলকাতা: ২০১৬-য় দ্বিতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় এই প্রথম বড়োসড়ো মাপের রদবদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুব্রত মুখোপাধ্যায় বা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণদের দায়িত্ব হ্রাস করা হল তেমনই আদিবাসী উন্নয়ন দফতরকে নিজের হাতে রেখে বিশেষ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন মমতা।

গত মঙ্গলবারই রাজ্যের তিন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করে দলীয় কাজে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই মতো ওই দিনই ইস্তফা দেন আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী জেমস কুজ়ুর,  অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাত এবং দফতর বিহীন মন্ত্রী অবনীমোহন জোয়ারদার। অবনীবাবু আগে কারা দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও ক্যাবিনেটে ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনজনের ইস্তফাপত্রই গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক দিন পর, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বিশেষ বৈঠক ডেকে জানিয়ে দেন, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাতে থাকা জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের ভার দেওয়া হল মলয় ঘটকের কাঁধে। উল্টে সুব্রতবাবুকে  সুব্রত মুখোপাধ্যায় দেওয়া হল জলসম্পদ দফতর। আবার সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দফতর থেকে সরিয়ে অনগ্রসর উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছ সৌমেন মহাপাত্রকে। অন্য দিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে পরিবেশ কেড়ে নিয়ে তা তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে।

এই তিনটি রদবদল ছাড়াও সদ্য পদত্যাগী জেমস কুজুরের আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতেই তুলে নিয়েছেন মমতা। তৃণমূল সূত্রের খবর, আগামী ২১ জুন দলের কোর কমিটির বৈঠকে মন্ত্রিসভার রদবদল ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রায় নির্ধারিত। কিন্তু তার আগেই আদিবাসী উন্নয়ন দফতরটি নিজের হাতে নিয়ে মমতা বিশেষ বার্তা দিলেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে শাসক দলের ফল তুলনামূলক ভাবে খারাপ হয়েছে। ওই এলাকাগুলির উন্নয়নের কাজ এ বার নিজের হাতে নিয়ে সেই খামতিগুলিই পূরণ করার নতুন চ্যালেঞ্জ নিলেন মমতা।

ছবি: রাজীব বসু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here