কৃষকদের জমি ফেরানোর উৎসব পালনের ময়দানটাকেই টাটাদের কাছে লগ্নি-আহ্বানের মঞ্চে পরিণত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের কার্যক্রম রাজ্যবাসীর জানাই ছিল। সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে অনিচ্ছুকদের হাতে চেক তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। দলিল-পরচা বিলোবেন কৃষকদের। উৎসবের আবহ ছিল গোটা সিঙ্গুরেই। উদ্‌যাপনের সরকারি বন্দোবস্তও ছিল তাক লাগানোর মতো। সে সব হলও নিয়ম মেনে। কিন্তু কৃষকদের জমি ফেরানোর দিনটা যে টাটাদের সিঙ্গুর থেকে ফিরে যাওয়ার কাহিনিতেও সিলমোহর পড়ার লগ্ন। আর সেটা নিয়ে যে রাজ্যবাসীর অনেকের মনে হা-হুতাশও রয়েছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর ভোলার কথা ছিল না। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর কন্যাশ্রী-সহ গ্রামোন্নয়নের নানা খতিয়ান তৈরি হলেও শিল্প যে রাজ্যে আসছে না, বিরোধীদের এই প্রচার দ্বিতীয়বার বিপুল জয় সত্ত্বেও নিশ্চয় একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন না রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকা মানুষটি। তাই কিছুদিন ধরে আকারে-ইঙ্গিতে নানা বার্তা দেওয়ার পর এদিন খোলাখুলিই টাটাদের আহ্বান জানালেন মমতা।

বুধবার টাটাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বলেন, গাড়ি শিল্প করতে চাইলে তারা অর্থমন্ত্রী বা মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। মমতা বলেন, “একমাস সময় দিচ্ছি, ভেবে দেখুন”। শুধু মৌখিক আহ্বান নয়, জমির হদিশও এদিনের মঞ্চ থেকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গোয়ালতোড়ে প্রায় ১০০০ একর জমি রয়েছে, জমি রয়েছে পানাগড়-হাওড়াতেও। শিল্পের জন্য তিনি যে উদ্‌গ্রীব তার প্রমাণ দিয়ে মমতা বলেন, “টাটা হোক বা বিএমডব্লিউ, যে কেউ আসতে পারেন।”

mamata-tata-1

কিছুদিন আগেই কলকাতায় টাটা টি-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় এসে টাটা কর্তা সাইরাস মিস্ত্রি বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে কিন্তু এখানে যে লগ্নির পরিবেশ রয়েছে, তা প্রকাশিত হতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বার্তায় রাজ্যে লগ্নির পরিবেশ সম্পর্কে টাটাদের মনে কী ছবি পৌঁছল, তা সময়ই বলবে।

বিরোধীরা যা বললেন

সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র টুইট করে বলেন,‘সভ্যতার ইতিহাস হল কৃষি থেকে শিল্পের দিকে যাত্রা। মুখ্যমন্ত্রী উল্টো পথে হাঁটছেন এবং চাইছেন ভবিষ্যতে বিশ্ব তাঁর মডেলকে অনুসরণ করুক।’

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘ আজকে ২ নম্বর জাতীয় সড়ককে অবরূদ্ধ করে তিনি সরকারের কোষাগার নয়ছয় করে বিজয় উৎসব পালন করছেন। হয়ত তিনি মনে করছেন তার পরিবারের গত পাঁচবছরে যেভাবে অার্থিক সমৃদ্ধি ঘটেছে, রাজ্যের মানুষেরও ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকরা আজ হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করছেন বাস্তবতা। তাই তারা আর জমি ফেরৎ চাইছেন না। আজ তার চাইছেন শিল্প।’ 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here