leopard menace on dooars tea garden

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ‘মানুষ-খেকো’ চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়াল ডুয়ার্সে। চা-বাগান থেকে এক মহিলার দেহাংশ উদ্ধারের পর এই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। জলপাইগুড়ির মালবাজার ব্লকের বেতগুড়ি চা-বাগান থেকে মঙ্গলবার সকালে ওই মহিলা চা-শ্রমিকের  ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। শুক্রামণি ওরাওঁ (৩৮) নামে ওই মহিলা ওই চা-বাগানেরই বাসিন্দা।

শুক্রামণি সোমবার বিকেলে কাজ থেকে স্বামী বীরসাই-এর সঙ্গেই ফিরছিলেন। মাঝপথে তিনি স্বামীকে বাড়িতে চলে যেতে বলে বাজারে যান। আর বাড়ি ফেরেননি। সারা রাত খুঁজেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে কাজ করতে গিয়ে চা-বাগানের ২২নং সেকশনে তাঁর ক্ষতবিক্ষত, খোবলানো দেহ দেখতে পান চা-শ্রমিকরা। হাত, পা, বুকের অনেকটা অংশই ছিল না। এর পরেই খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। মাল ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড থেকে বনকর্মীরা এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি পাঠান। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, মৃতদেহের আশেপাশে চিতাবাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তা থেকেই অনুমান চিতাবাঘের আক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। তার পর তাঁর দেহের কিছু অংশ খুবলে খেয়েছে সে। যদিও ঘটনা বিরলতম, বলছেন বনকর্তা থেকে শুরু করে পশুপ্রেমীরাও।

ডুয়ার্সের চা-বাগান এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্ক নতুন কিছু নয়। তবে চিতার আক্রমণে জখম হওয়ার ঘটনা ঘটলেও দেহ খাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। জলপাইগুড়ির একটি পশু এবং পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক এবং প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক রাজা রাউত জানিয়েছেন, “চিতাবাঘের মানুষ খাওয়ার মতো ঘটনা খুবই বিরল। বছর দশেক আগে ডুয়ার্সের এক শিশুর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক মানুষ মেরে খাওয়ার এই ঘটনা বিপদের সংকেত দিচ্ছে। জঙ্গলে খাদ্য-খাদকের সংকট প্রকট করছে এই ঘটনা।”

আতঙ্কে রয়েছেন চা-শ্রমিকরাও। বাগানের ম্যানেজার শংকর সিংহ জানিয়েছেন, কিছু দিন থেকেই এখানে চিতাবাঘের উৎপাত চলছে। তাঁরা বন দফতরের কাছে খাঁচা বসানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। বন দফতর সেই ব্যবস্থা করছে। উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) উজ্বল ঘোষ জানিয়েছেন, ময়না তদন্তে যদি প্রমাণ মেলে মহিলার দেহ চিতাবাঘ খেয়েছে, তবে এটি বিরলতম ঘটনা বলে গণ্য হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here