tamarind
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: আবহাওয়া বিজ্ঞানের উন্নতির এত কাল পরেও খনার বচনেই আস্থা রেখে চলেছে জঙ্গলমহলের মানুষ। এ বছর সার্বিক ভাবে এলাকায় আম গাছে মুকুল আসেনি। দেরিতে মুকুল এলেও তুলনা মূলক অন্যান্য বছরের থেকে কম। পাশাপাশি গোটা জঙ্গলমহলে তেঁতুলের ফলন মারাত্মক। যা এলাকার মানুষের কাছে প্রবল খরার লক্ষণ বলেই মনে হচ্ছে।

কৃষিকেন্দ্রিক গ্রাম্য জীবন এখনও প্রাচীন খনা-বরাহের প্রবাদ-প্রবচনকে অনুস্মরণ করে তা বোঝা গেল প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক চাষির কথায়, “ই বছর প্রচুর খরা হবে, এত তেঁতুল ফলা ভাল লক্ষণ নয়, কথায় আছে না আমে বান তেঁতুলে টান। তা ছাড়া আম গাছেও ই বছর ভাল মুকুল হয় নাই।”

প্রকৃতির এই আগাম সঙ্কেতে গ্রীষ্মের তাপদাহ প্রকট হবে, এই চাষির মত মানছেন অনেকেই। ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রাম শহরে দিনের তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। রাতের দিকে তা নেমে আসছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রসঙ্গত, খরা প্রবণতায় চাষের কাজ ব্যাহত ছাড়াও জঙ্গলমহলের বেলপাহাড়ি, নয়াগ্রাম, সাঁকরাইল সহ বিভন্ন প্রান্তিক এলাকায় প্রতিবছর কম-বেশি পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। সেই সংকট এবার বাড়বে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর । তা ছাড়া সামনের এই খরা মরশুমে গ্রাম  পঞ্চায়েত “ভোট পার্বণ” রয়েছে।

tamarind2

প্রবীণ গ্রামবাসীদের মতে, কৃষিকেন্দ্রিক জীবনযাপনে এ যুগেও বিভিন্ন প্রবাদ মেনে চলা হয়। প্রকৃতি-নির্ভর মানুষ অনেক কিছুই আগাম টের পায়। যেমন-” আষাঢ়ের পুরোতম, ভাদ্রের বার, এর মধ্যে যা কর” অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যেই বর্ষার ধান রোয়ার কাজ করে নেওয়া ভালো। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে ব্যপক কৃষির প্রসার ঘটায় এই সমস্ত প্রবাদ অকেজ, কিন্ত প্রকৃতির ভারসাম্য নির্ধারণে বিজ্ঞান অপারগ। এ ব্যাপারে লোক সংস্কৃতি গবেষক ঝাড়গ্রামের ড. সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগে আবহাওয়া বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেনি, কৃষিকেন্দ্রিক গ্রাম্য জীবনযাত্রায় ঐতিহাসিক অথবা দার্শনিক ভাবে খনা- বরাহের প্রবাদ একমাত্র ছিল প্রদর্শক। তার অনুসরণগত প্রভাব এখনও রয়েছে। যে বছর আমের ফলন সর্বত্রই অধিক, সে বছর বৃষ্টি পর্যাপ্ত হবে। তা না হয়ে তেঁতুল ফলন অধিক হলে খরার লক্ষণ, তা ছোট বেলা থেকেই শুনে এসেছি।”

আরও পড়ুন: সংরক্ষণের অভাবে অবলুপ্তির পথে জঙ্গলমহলের বুনো শিম

এ ব্যাপারে উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ দে বলেন, “এই ধরনের সাঙ্কেতিক প্রবাদের উৎস হল প্রকৃতি। প্রাকৃতিক ওঠা-নামার সঙ্গে এর সুদৃঢ় বন্ধন রয়েছে। এই দুই গাছের ফলনের পরে অাবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে, কী ঘটে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here