Jhargram

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যেই আছে প্রত্যন্ত পাহাড়, জঙ্গল ঘেরা লালজল। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি তথা বিনপুর-২ ব্লকের ভুলাভেদা অঞ্চলের লালজল গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যেই দিন যাপন করছেন। আগের মতো, এখন বহিরাগত “বনপার্টি”দের আনাগোনা নেই।

Jhargram

লালজলদেবী পাহাড়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য হল, এখানকার গুহা থেকেই ভারতীয় নৃতত্ত্ব গবেষণায় আদিম মানব জাতির কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়েছে। বেলপাহাড়ি থেকে বাঁশপাহাড়ি যাওয়ার ২০ কিমির মধ্যে ডান দিকে রয়েছে এই লালজল। এই পাহাড়ে প্রতি বছরই রাম নবমী উপলক্ষে তিন দিন ব্যাপী বিরাট মেলার আয়োজন হয়। রামস্বরূপ দেবশর্মা ১৯৫৮ সালে এই পাহাড়টির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। গ্রামবাসীদের প্রধান জীবিকা বলতে চাষাবাদ ও পশু পালন। যার মধ্যে ছাগল চাষ অন্যতম। বাম সাংসদ পুলিনবিহারী বাস্কের আমলেই লালজল যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি হয় ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। পরিবর্তনেও একাধিক উন্নয়ন ঘটেছে।

Jhargram

মূল পাকা রাস্তা থেকে গ্রামে ঢোকার রাস্তার, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের ৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে খানিকটা ঢালাই করা হয়েছে। এই রাস্তার জন্য ২০১৭-‘১৮ বর্ষে বরাদ্দ হয় ১৪ লক্ষ টাকা। পাহাড়ের বিপরীতে পানীয় জলের কুয়োর প্যারাপেট নির্মিত হয়, সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে।

Jhargram

এই লালজল পাহাড়ের গুহায় প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের বসবাস ছিল। নৃতত্ত্ব গবেষণায় স্বীকৃত যে, তারাফেনি নদী উপত্যকার সিজুয়া এলাকা থেকে ১০ হাজার বছর আগের মানব কঙ্কাল উদ্ধার হয়। গিয়ে দেখা গেল, প্রাকৃতিক ভাবেই গুহাগুলি তৈরি হয়েছে। বেলপাহাড়ি এলাকার সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ মনোরঞ্জন মাহাত বলেন, আসলে এই পাহাড়ের গুহাগুলিকে প্রাগৈতিহাসিক মানুষ বসবাসের উপযোগী হিসেবে বেছে নিয়ে ছিল। বানের জলে তাদের কঙ্কাল ভেসে সেখানে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: নিজের বিয়ে রুখে দৃষ্টান্ত স্থাপন, নাবালিকাকে ‘বীরাঙ্গনা’ সম্মান বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড থেকে এই সব এলাকায় বহিরাগতরা ঢুকেছে বলে দাবি উঠেছে। গ্রামবাসীরা সে রকম কোনো আঁচ পায়নি, তাদের কথায় তা উঠে এল। তাদের কথায় “না সে রকম কিছু নেই, আমরা সবাই দিব্যি নিজেদের মতোই আছি”। তবে আদি জনজাতির নিজস্ব সংস্কৃতির উপর শিষ্ট সংস্কৃতির আগ্রাসন এখানেও অব্যাহত, তা তাদের কথায় পরিষ্কার। “এই তো আগে গাঢ়রা সিনি, লালজল এইগুলিতে পাহাড়েরই পুজো হতো। এখন এখানে দুর্গা ও গাঢ়রা সিনিতে শিব পুজো হচ্ছে”। জানালেন লালজলের এক বর্ষীয়ান।