শৈবাল বিশ্বাস

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মূল সংগঠনে ব্যাপক রদবদল করা হচ্ছে বলে একটি সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী ১০ মে থেকে এই রদবদল কার্যকর করা হবে। জানা গিয়েছে, মিশনের সম্পাদক প্রবীণ সন্ন্যাসী স্বামী সুহিতানন্দ সরে যাচ্ছেন। তাঁর জায়গায় সম্পাদকের দায়িত্বভার সামলাবেন ইংরেজি সাহিত্যের উজ্জ্বল ছাত্র স্বামী সুবীরানন্দ। তিনি দিল্লির কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাছে বেশ পরিচিত সন্ন্যাসী। বিভিন্ন সেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার সূত্রে তাঁকে প্রায়শই বিভিন্ন রাজ্যে এবং দিল্লিতে যোগাযোগ রাখতে হয়। এত দিন তিনি মিশনে সহ-সম্পাদকের দায়িত্বভার সামলাচ্ছিলেন। মিশনের আর্থিক দায়ভার ও প্রকল্প  রূপায়ণের গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। সেই সূত্রেই বহু প্রকল্পর কাজে জট ছাড়ানোর দায়িত্বও তাঁকে সামলাতে হত। বয়সে প্রবীণ স্বামী সুহিতানন্দের জায়গায় সেই কারণে তাঁকে উন্নীত করা হয়েছে বলে খবর। সুহিতানন্দজি হচ্ছেন মিশনের অন্যতম সহ-সভাপতি।

সহ-সম্পাদক পদেও মিশন বহু রদবদল করছে। ব্যক্তিগত কারণে দক্ষিণ ভারতীয় সন্ন্যাসী স্বামী ভজনানন্দ সহ-সম্পাদকের দায়িত্বভার থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহ-সম্পাদক হচ্ছেন অদ্বৈত আশ্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণ সন্ন্যাসী তত্ত্ববিদানন্দ। স্বামী ভজনানন্দ আধ্যাত্মিকতা নিয়ে কাজ করার কারণে বেলুড় মঠেই বিশেষ দায়িত্ব পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এত দিন তিনি মিশনের নৈতিকতার দিকটি দেখতেন। স্বামী সুবীরানন্দ সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়ায় অন্যতম সহ-সম্পাদক হচ্ছেন দক্ষিণ ভারতের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সন্ন্যাসী স্বামী অভিরামানন্দ। ১০ মে থেকে মিশনের সহ সম্পাদক হচ্ছেন – স্বামী বলভদ্রানন্দ, স্বামী বোধসরানন্দ, স্বামী তত্ত্ববিদানন্দ ও স্বামী  অভিরামানন্দ। সহ-সভাপতি থাকছেন স্বামী স্মরণানন্দ, স্বামী বাগীশানন্দ, স্বামী প্রভানন্দ ও স্বামী সুহিতানন্দজি মহারাজ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ স্নেহভাজন শান্তনু মহারাজ ওরফে স্বামী শুভকরানন্দ ঝাড়গ্রামের একলব্য আশ্রমের দায়িত্ব পাচ্ছেন। রামকৃষ্ণ মিশন খুব শীঘ্রই ঝাড়গ্রামে একটি নতুন কেন্দ্র স্থাপন করবে। রাজ্য সরকার এর জন্য ইতিমধ্যেই জমি দিয়েছে। এই কেন্দ্রের দায়িত্বভারও থাকবে শান্তনু মহারাজের ওপর। বামফ্রন্ট আমল থেকেই আদিবাসীদের জন্য নির্মিত একলব্য স্কুলটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। আর্থিক অনিয়ম সহ নানা ধরনের গোলযোগে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর এই স্কুলটির দায়িত্ব রামকৃষ্ণ মিশনকে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ শান্তনু মহারাজ যাতে প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্কুল ও আশ্রমের উন্নয়ন করতে পারেন সেই জন্যই তাঁকে ঝাড়গ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here