দুপুরেই নামল আঁধার! রেকর্ড ভাঙা বজ্রপাত আর প্রবল বর্ষণে ভেসে গেল কলকাতা

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার পাটুলিতে দুপুর ৩টে থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ১০০ মিলিমিটার। উত্তর কলকাতার বরানগরে একই সময় বৃষ্টি হয়েছে ৮২ মিলিমিটার। উলটোডাঙায় ৬১ মিলিমিটার। দমদমে ৭৭ মিলিমিটার। মাত্র দেড় ঘণ্টায় এই পরিমাণ বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভেসে গেল শহর কলকাতা।

তবে বৃষ্টির থেকেও এ দিন বেশি করে ভয় পাওয়াল বজ্রপাত। কলকাতাবাসীদের অনেকেই বলছেন, এই পরিমাণ বজ্রপাত তাঁরা কোনো দিনও প্রত্যক্ষ করেননি।

বুধবার সকালটা কিন্তু এক্কেবারেই অন্য রকম ছিল। এমনকি বেলা ১২টা পর্যন্ত রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছে রোদ। চরচর করে বেড়েছে তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অস্বস্তিকর আবহাওয়াও। কাজে বেরিয়ে ঘেমে চান করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

কিন্তু বেলা গড়াতেই বদলে যেতে শুরু করে আবহাওয়া। কলকাতার আকাশে তৈরি হতে শুরু করে বজ্রগর্ভ মেঘ। দুপুর ২টোর পর থেকেই আমূল বদলে যেতে শুরু করে আবহাওয়া। দিনের আলোকে সরিয়ে ক্রমে রাতের অন্ধকার গ্রাস করতে শুরু করে। দুপুরেই এমন ভাবে রাতের আঁধার নেমে যাওয়ায় হকচকিয়ে যান সাধারণ মানুষ। এর পরেই শুরু হয় প্রকৃতির পাগলামি।

শুরু হয়েছিল কলকাতা উত্তর শহরতলি দিয়ে। দমদম এবং সন্নিহিত উত্তর কলকাতায় দুপুর সওয়া ২টো থেকেই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। সেই সঙ্গে ছিল মুহুর্মুহু বজ্রপাত। এই বজ্রপাত কার্যত রেকর্ড করে ফেলে। দমদমে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই ৪০০টি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। সেই সঙ্গে বৃষ্টির দাপট মারাত্মক ছিল।

বিকেল ৩টে নাগাদ দক্ষিণ কলকাতাতেও প্রবল বজ্রপাত সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। যথারীতি উত্তর কলকাতার ছবি, দক্ষিণেও ধরা পড়ে। বাজের কারণে রীতিমত কান পাতা দায় হয়ে গিয়েছিল। আর বৃষ্টি তো ছিল ভয়াবহ। এত কম সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ মারাত্মক বৃষ্টি কলকাতায় খুব একটা হয় না।

এই পরিমাণ বৃষ্টির কারণে কলকাতার বেশির ভাগ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে বিকেলের দিকে বৃষ্টির দাপট কমায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অক্ষরেখা নেমে এসেছে দক্ষিণবঙ্গে

উল্লেখ্য, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে নেমে এসেছে দক্ষিণবঙ্গে। খুব একটা শক্তিশালী না হলেও তার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে হুহু করে জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এ দিন সকাল থেকে প্রচণ্ড গরম ছিল কলকাতায়। এই গরমটাকে কাজে লাগিয়ে দুপুরের পর উলম্ব মেঘপুঞ্জ তৈরি হতে শুরু করে শহরে। সেই মেঘ ভেঙেই বৃষ্টি নামে শহরে। সেই সঙ্গে ছিল মুহুর্মুহু বজ্রপাত।

উল্লেখ্য, বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টিতে এই ধরনের বজ্রপাত খুব একটা দেখা যায় না। এ দিন যেটা হয়েছে, তা রীতিমতো অস্বাভাবিক। আর এই ধরনের বৃষ্টির পরিমাণের ব্যাপারে আগে থেকে খুব একটা পূর্বাভাসও দেওয়া যায় না। তবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে খুব একটা সক্রিয় থাকবে না বর্ষা। তাই বর্ষার স্বাভাবিক চরিত্রের এই একনাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। তবে বুধবারের মতো পরিস্থিতি হতেই পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়তে পারেন স্কুল খোলার দাবিতে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসককে স্মারকলিপি পড়ুয়াদের

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন