ইঙ্গিত ছিলই, কিন্তু তা যে এত মারাত্মক আকার ধারণ করবে আশঙ্কা করতে পারেননি কলকাতাবাসী। বিকেলের পর তীব্র ঝড়ে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়েছে শহর কলকাতা। শহরে গাছ পড়ে মারা গিয়েছেন ৩ জন। জায়গায় জায়গায় পড়েছে গাছ। ব্যাহত ট্রেন চলাচল।

নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে শহরে। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টার পর আচমকাই আবহাওয়ার রূপ পালটে যায়। বৃষ্টির সাথে শুরু হয় তীব্র ঝড়। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০ কিমি। এই ঝড়ের ফলে সাদার্ন অ্যাভিনিউ, বালিগঞ্জ, কসবা, যাদবপুর, আমির আলি অ্যাভিনিউ-সহ প্রায় চল্লিশটি জায়গা থেকে গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর আসে। রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চের অংশও ভেঙে পড়ে রাস্তা আটকে যায়। বৃষ্টির প্রভাবে জলও জমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। সোনারপুরে ওভারহেড তার ছিঁড়ে ব্যাহত হয়েছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ট্রেন চলাচল। যাদবপুরে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে গাছ ভেঙে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বেলেঘাটায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যাদবপুরে আহত হয়েছে ৭ জন। কলকাতায় ঝড়ে আহতদের চিকিৎসার খরচ বহন করবে পুরসভা, জানিয়েছেন মেয়র।

এ বার শুরু থেকেই খামখেয়ালি বর্ষা। মরসুমের প্রথমে উত্তরবঙ্গ যখন অতিবৃষ্টিতে অতিষ্ট, দক্ষিণে তখন ৩১% ঘাটতি। জুলাই থেকে কিছুটা পরিবর্তন হতে শুরু হল এই ছবিটার। উত্তরে বৃষ্টি কমার সাথে সাথে দক্ষিণে বাড়তে থাকল বৃষ্টির পরিমাণ। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একের পর এক নিম্নচাপ দক্ষিণের বৃষ্টি বাড়াতে সক্ষম হল। আগস্টের ১০ তারিখ, দক্ষিণবঙ্গে তৈরি হওয়া একটি নতুন নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে গভীর এবং আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপের রূপ ধারণ করল। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পরিমাণ মরসুমে প্রথম বারের জন্য ঘাটতির সংখ্যা ছাড়িয়ে বাড়তি ঘরে ঢুকে পড়ল। এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি স্বাভাবিকের থেকে ৩ শতাংশ বাড়তি। শুধু তা-ই নয়, ওই নিম্নচাপটির প্রভাবে ঝাড়খণ্ডের দামোদর অববাহিকা অঞ্চলে ভালো বৃষ্টি হয়। মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় জামশেদপুরে। দামোদরে জল বাড়তে থাকায় ডিভিসির জলাধারগুলি জল ছাড়তে বাধ্য হয়। গত বছরের তুলনায় অনেক কম জল ছাড়া হলেও, দামোদরের নাব্যতা কম থাকায়, হাওড়ার আমতা ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম ইতিমধ্যেই দামোদরের জলে প্লাবিত হয়েছে।

গত সোমবার আরও একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় দক্ষিণবঙ্গে। শক্তি বাড়িয়ে সে অতি গভীর নিম্নচাপের রূপ ধারণ করে স্থলভূমিতে প্রবেশ করে। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ এর অবস্থান ছিল ডায়মন্ড হারবারের কাছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জায়গায়। এই নিম্নচাপটি এবার ঝাড়খণ্ডের দিকে রওনা দেবে। এর ফলে ব্যাপক বৃষ্টি হবে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অংশে। ঝাড়খণ্ডে তুমুল বৃষ্টি হলে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াতে বাধ্য হবে জলাধারগুলি, এর ফলে ঘোরালো হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি। স্বস্তি নেই এর পরেও। লাইনে আরও একটি নিম্নচাপ রয়েছে। আগামী শনিবার, ২০ আগস্ট নাগাদ বঙ্গোপসাগরে তার উৎপত্তি হওয়ার কথা। ওই নিম্নচাপটি কতটা শক্তি বৃদ্ধি করবে তা সময়ই বলবে, কিন্তু অন্তত ভারী বৃষ্টির হাত থেকে যে দক্ষিণবঙ্গ রেহাই পাবে না, তা এখনই বলে দেওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here