কলকাতা শহরে পথ চলতে রাস্তার দুপাশে আকছার চোখে পড়ে ছাদ ভেঙে যাওয়া, ঝুলবারান্দার খানিকটা খসে পড়া বাড়ির সারি। দেখলে বেশ গা ছমছম করে, সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি একটা। কিন্তু বাড়িগুলোর গায়ে সাঁটানো হলুদ হোর্ডিং-এ ‘বিপজ্জনক বাড়ি’ লেখাটা অতটা ভাবায় না আমাদের। মঙ্গলবার রাতে মধ্য কলকাতার এরকমই একটি বাড়ির একাংশ ভেঙে মৃত্যু হয় একই পরিবারের দুই মহিলার। তারপর থেকেই শহরের পুরনো, বিপজ্জনক বাড়িগুলো নিয়ে তৎপরতা শুরু হয় কলকাতার পুরনিগমের।

মখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শহরের বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে বৈঠক করলেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার, দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনেরাল সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, পুর কমিশনার খলিল আহমেদকে নিয়ে বৈঠকে বসেন মেয়র। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নন দফতরের সচিব ওঙ্কার সিং মীনা-সহ কেএমসি-র পদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ফের একটি বৈঠক হবে যেখানে হাজির থাকবে কলকাতা পুর নিগম, দমকল বিভাগ, কলকাতা পুলিশের পদস্থ আধিকারিক, স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা। প্রয়োজন হলে পরিবর্তিত হতে পারে ১৯৮০ সালের কলকাতা পুরনিগম আইন।  মেয়র জানান, পুরনো বাড়িগুলির ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হয় ভাড়াটে ও বাড়ির মালিকের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। আইন মেনে সেই সমস্যার সমাধান কী ভাবে করা যায় তা নিয়েই আলোচনা হবে। সকলের মতামত নিয়েই শহরের বিপজ্জনক ও পুরনো বাড়িগুলি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, এই বৈঠকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন কোনো বিচারপতিকে রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here