rain

ওয়েবডেস্ক: দুর্দান্ত ভাবে দক্ষিণবঙ্গে জুন মাস শেষ করেছিল বর্ষা। মাঝ জুনের তাপপ্রবাহ কাটিয়ে উঠে শেষের কয়েক দিন এমন বৃষ্টি হল, যে সমস্ত ঘাটতি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল। কিন্তু জুলাই পড়তে না পড়তেই ফের মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে ঘাটতি। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি আদৌ ভালো নয়। কয়েক সপ্তাহ আগে টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বটে, কিন্তু এখন আর উত্তরবঙ্গেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি নেই, যার ফলে ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, গোটা রাজ্যের মধ্যে এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি ঘাটতি চলেছে মালদা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। সেখানে বৃষ্টির ঘাটতি ৬০ শতাংশই ঠেকেছে। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ (৫৭ শতাংশ), উত্তর দিনাজপুর (৫৫ শতাংশ), কোচবিহার (৪৬ শতাংশ)। দক্ষিণবঙ্গেও পরিস্থিতি বেশ করুণ। বীরভূমে ঘাটতি পৌঁছেছে ৪৪ শতাংশে, হাওড়া ও হুগলিতে ৪২ শতাংশে, নদিয়ায় ৩৭ শতাংশে, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৫ শতাংশে, পুরুলিয়ায় ২৭ শতাংশে এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ২৫ শতাংশে।

তুলনায় বৃষ্টির ছবিটা কিছুটা ভালো দার্জিলিং ও উত্তর ২৪ পরগণা (১৯ শতাংশ), বাঁকুড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় (১১ শতাংশ)। তবে এ সবের মধ্যেই মান রক্ষা করেছে কলকাতা, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার। কলকাতায় বৃষ্টি ১৫ শতাংশ বাড়তি। অন্য দিকে উত্তরের দুই জেলায় বৃষ্টি ১১ শতাংশ করে বাড়তি।

হঠাৎ করে বৃষ্টির এতটা বেশি ঘাটতি হচ্ছে কী ভাবে?

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, জুলাইয়ে এখনও পর্যন্ত মৌসুমি অক্ষরেখাটি দক্ষিণবঙ্গের ওপরে স্থায়ী ভাবে থাকতে পারছে না। যার ফলে অল্পস্বল্প বৃষ্টি হলেও, বর্ষার সেই অবিরাম ধারাপাত উধাও। যেটুকু বৃষ্টি হচ্ছে তা ওই বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা জলীয় বাষ্পের প্রভাবে। যে হেতু সেই জলীয় বাষ্প মালদা বা দুই দিনাজপুরে পৌঁছোতে পারছে না, সেখানে বর্ষার ছবিটা আরও বেশি খারাপ।

গত বছর এ ভাবেই বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল গোটা রাজ্য। এ বার পরিস্থিতি অন্য রকম।
এই পরিস্থিতি বদল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি?

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে শুক্রবারই বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই নিম্নচাপ থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনাই নেই বলে জানিয়েছে আলিপুর। অন্য দিকে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমাও বলেছে আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টিই চলবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। মাঝেমধ্যে সেই বৃষ্টি কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির রূপ নিতে পারে কিন্তু সেটা নিতান্তই সাময়িক। ঘাটতি মেটানোর ক্ষমতা নেই তার।

সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বাড়তে পারে। সেই বৃষ্টির ফলে ঘাটতি একেবারে মেটানো সম্ভব না হলেও অনেকটাই কমবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার নাগাদ আরও একটা নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে।

তবে উত্তরবঙ্গে এখনও ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে ওয়েদার আল্টিমা। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে সেখানেও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here