খবরঅনলাইন ডেস্ক: আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সমগ্র রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নেবে দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তার আভাস ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। উত্তুরে হাওয়ার কারণেই চামড়ায় হালকা একটা টান অনুভব করা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে কমছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও। তবে বৃষ্টি এখনই শেষ হওয়ার নয়। বরং এই সপ্তাহের শেষেই ফের আকাশের মুখ ভার হয়ে উঠতে পারে।

সপ্তমীর দিন গভীর নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিল বাংলাদেশ হয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের দিকে। সেটা দূর হতেই অষ্টমী থেকে রোদের মুখ দেখা যায়। তবে সে দিন থেকেই উত্তুরে হাওয়াও ঢুকতে শুরু করে দেয়। তবে বাতাসে কিছুটা জলীয় বাষ্প থেকে যাওয়ায় নবমীর দুপুরের কলকাতার কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হয়েছিল।

Loading videos...

তবে দশমীর দিন থেকে আকাশ এক্কেবারে পরিষ্কার। রোদের কিছুটা তেজ থাকলেও বিরক্তিকর কিছু নয়। বরং এটাকে মিঠে রোদই বলা চলে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের ঘোষণামতো সোমবার দক্ষিণবঙ্গের আরও কিছু অঞ্চল থেকে বিদায় নিয়ে বর্ষা।

বর্তমানে উপকূলবর্তী জেলা, কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেই শুধুমাত্র দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু রয়েছে। মঙ্গলবার সেখান থেকেও বর্ষা বিদায় নেবে।

এ দিকে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পারদ কুড়ি ডিগ্রির নীচে নেমে গিয়েছে। সোমবার পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি ছিল। আসানসোল আর শ্রীনিকেতনে পারদ নেমেছে ১৯ ডিগ্রির ঘরে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.১ ডিগ্রি ছিল। উত্তুরে হাওয়া আরও কিছুটা জোরালো হওয়ায় আগামী দু’-তিন দিনে পারদ আরও কিছুটা কমতে পারে।

তবে আগামী শুক্রবার থেকে ফের বদলে যেতে পারে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। এর নেপথ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। উত্তর আন্দামান সাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, ২৯ অক্টোবর নাগাদ সেটা তৈরি হতে পারে।

প্রাথমিক ভাবে ধারণা, আগের নিম্নচাপটির মতো এটিও প্রথমে ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে বাঁক নেবে এবং এ রাজ্যের দিকে এগিয়ে আসবে। তবে গভীর নিম্নচাপের বেশি শক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা তার খুবই কম। ১ নভেম্বর নাগাদ সেটা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এর প্রভাবে ৩১ অক্টোবর থেকে পরের দু’তিন দিন এ রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলে দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপটির প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী বাংলাদেশেও। থাকতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।

নিম্নচাপটির প্রভাবে কলকাতায় অবশ্য ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব একটা নেই। মূলত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দিনের বেলার আবহাওয়া মনোরমই থাকবে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

নেই সিঁদুরখেলা, শোভাযাত্রা, কোভিডের আবহে রাজ্যে মনখারাপের দশমী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.