বন্ধের পাহাড়ে তাণ্ডব মোর্চার, পোড়ানো হল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আটক ছয়

0

দার্জিলিং: নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল পাহাড়। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তাণ্ডবে রীতিমত সন্ত্রস্ত দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলা। মোর্চা সমর্থকদের রোষ থেকে বাদ গেল না প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। হিংসা ছড়ানোর জন্য ছ’জন মোর্চা সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় পাহাড়ে। তবে দার্জিলিং-এ সেনা এবং আধাসামরিক বাহিনীর টহল থাকায় শহর থেকে কিছু দূরের এলাকাগুলি টার্গেট করে মোর্চা সমর্থকরা। রিম্বিকে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং লাগোয়া বিদ্যুৎ নিগমের অফিসে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে মোর্চা সমর্থকদের বিরুদ্ধে। দুটি বাড়িই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মিরিকে একটি পঞ্চায়েত অফিসেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গতমাসে এই মিরিক পুরসভা দখল করে পাহাড়ে নিজেদের খাতা খুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় কালিম্পঙের কাছে তারখোলায় বন দফতরের কোয়ার্টারেও।

Loading videos...

এই তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে শুক্রবার সকালে ছ’জন মোর্চা সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দার্জিলিঙে আরও চার কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করেছে কেন্দ্র, অন্যদিকে আরও সাত আইপিএস অফিসারকে পাহাড়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ দিকে মোর্চার ডাকা বন্ধে শুক্রবার থমথমে ছিল দার্জিলিং। খোলেনি কোনো দোকানপাট, রাস্তায় দেখা মেলেনি যানবাহনের। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। অনিন্দ ভাদুড়ি নামক এক পর্যটকের কথায়, “আমরা ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে দাঁড়িয়ে আছি, নীচে নামার আশায়। কিন্তু কী ভাবে নামব বুঝতে পারছি না।”

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার দার্জিলিং-এর পাতলেবাসে মোর্চার সর্বেসর্বা বিমল গুরুঙ্গের বাড়িতে প্রচুর অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ, তারপর থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার পাহাড়ে দিনভর তাণ্ডব চালায় মোর্চা সমর্থকরা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া সংবাদমাধ্যমের গাড়ি এবং পুলিশ ফাঁড়ি। আগুন লাগানোর চেষ্টা হয় কালিম্পঙে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হিল টপ টুরিস্ট লজেও। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই খোঁজ নেই বিমল গুরুঙ্গের। অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে দিল্লিতে কেন্দ্রের কাছে দরবার করছেন আরও এক মোর্চা নেতা রোশন গিরি। তবে কেন্দ্রের কাছেও নিজেদের দাবির সমর্থন না পেয়ে কিছুটা কোণঠাসাই হয়েছে মোর্চা।

তবে পাহাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য রাজ্যের পাশেই দাঁড়িয়েছে কেন্দ্র। প্রয়োজনে আরও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.