gorkha

শিলিগুড়ি: গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনে যে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই, তা প্রমাণ হয়েছে আগেই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, একের পর এক ঘটনা পরম্পরা ইঙ্গিত দিয়ে চলেছে, এ ভাবে চলতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো পাহাড়ে মোর্চার নামমাত্র অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো কেউ আর অবশিষ্ট থাকবেন না। দলের কালিম্পং শাখার একেবারে প্রথম সারির ২০ জন নেতা-নেত্রী গতকালই আনুষ্ঠানিক ভাবে মোর্চা ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তারপর আজ সারাদিন অবশিষ্টাংশ কর্মী-সমর্থকেরাও মোর্চা সম্পর্কে বাক্য ব্যয় চাইছেন না। কারণ, স্থানীয় স্তরে শুধুই এক রাশ হতাশা থাকলেও তা নিরসনের জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল মোর্চা ছেড়েছেন বিধায়ক সবিতা রাই। যাঁকে হাতে গোণা কয়েকদিন আগেও বিমল গুরুংযের নামে জয়ধ্বনি করতে শুনেছেন কালিম্পংয়ের মানুষ। এহেন সবিতাদেবী দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করতেই কর্মী-সমর্থকদের মনে আশঙ্কা আরো বেড়ে গিয়েছে। তাঁরই সঙ্গে দল ছেড়েছেন পুরপ্রধান শুভ্র প্রধান সহ ছজন কাউন্সিলার। এছাড়া রয়েছেন মোর্চার প্রথমসারির বেশ কয়েক জন নেতা-নেত্রী। কিন্তু অচমকা কেন এত জন নেতা-নেত্রী একই সঙ্গে দল ছাড়লেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা স্পষ্ট ভাবেই বলেছেন, পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তাঁরা দিনের পর দিন বনধ্ চালিয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তাহলে কী যৌক্তিকতা রয়েছে এমন একটা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে। অনেক দিন ধরেই পৃথক রাজ্যের দাবিতে মানুষকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।কার্যত পাহাড় এখন মোর্চা-বিমুখ হয়ে উঠেছে। সবিতাদেবী অবশ্য দাবি করেছেন, পুলিশি নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাওয়ায় কর্মীরা ভীত। তাঁদের আশ্বস্ত করার মতো অবস্থানে দল নেই। স্বাভাবিক ভাবে তাঁরাও দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই ঘটনা শুধু পাহাড়ে মোর্চার ভাঙনকে প্রসারিত করল না, পাশাপাশি দলের অস্তিত্বকেও প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here