আরও কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে জমিয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

0
el nino

ওয়েবডেস্ক: জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যাঁরা বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ করে বসেছিলেন, তাঁরা অনেকেই এখন চাইছেন এ বার বৃষ্টিটা কমুক। আসলে আগস্টের শুরুতে দক্ষিণবঙ্গে যে ঘাটতি ৫০ শতাংশে ছিল, পনেরো দিন পর তা নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে আগস্টে ঠিক কেমন বৃষ্টি হয়ে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে। এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনগুলিতেও বৃষ্টিতে বিশেষ বিরাম নেই বলেই মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হতে পারে বর্ষা। কারণ যে নিম্নচাপটি এত দিন বৃষ্টি নামাচ্ছিল, সেটি বিদায় নিয়েছে। কিন্তু নিষ্ক্রিয় হওয়া তো দূর, উলটে বুধবার রাত থেকে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠল। অনেক বছর পর শুধুমাত্র মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে জোর বৃষ্টি হল দক্ষিণবঙ্গে। কলকাতার কোথাও কোথাও বুধবার রাতে একশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় ৮৮ মিলিমিটার এবং বর্ধমান ও কৃষ্ণনগরে ৫০ মিলিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার রাতের এই বৃষ্টির প্রভাব বৃহস্পতিবার সারা দিনই বোঝা গিয়েছে। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে সূর্যের দেখা মেলেনি। বৃষ্টিও হয়েছে অল্পস্বল্প। তবে শুক্রবার সারা দিন আকাশ কিছুটা পরিষ্কার থাকবে বলেই জানাচ্ছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, ভাসানোর মতো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কিন্তু শুক্রবার রাত বা শনিবার সকাল থেকেই আবার মেজাজ বদলে যেতে পারে আবহাওয়ার।

আরও পড়ুন পুকুরে ডুবে যাওয়া গাড়ি থেকে বেরোতে না পেরে মর্মান্তিক মৃত্যু হল সাত জনের

ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, শনিবার এবং রবিবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আবার বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানাচ্ছেন, “শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। অন্য দিকে উত্তর ভারতে একটি ঘূর্ণাবর্ত থাকায় দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রচুর জলীয় বাষ্প যাবে। এর ফলেই আরও একদফা জোর বৃষ্টির সম্ভাবনা।” বঙ্গোপসাগরের ওই ঘূর্ণাবর্তটি মামুলি নিম্নচাপেও পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু।

এ দিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে আগামী এক সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের পূর্বাভাস ১৬ থেকে ২২ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিকের থেকে ৪৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হতে পারে। সব মিলিয়ে অনাবৃষ্টির দুর্গতি এবং খরার আশঙ্কা দুটোই কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here