leopard killed by elephant

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : একটি চিতার মৃত্যু। তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রোহমর্ষক ‘গল্প’। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গল্প নয়। ঘটনাটি সত্যি। চিতাটিকে মেরেছে একটি মা হাতি। কারণ সে তার শাবককে আক্রমণ করেছিল।

বন্যপ্রাণী-মানুষের সংঘাত ডুয়ার্সে প্রায় নিত্য দিনের ঘটনা। তাতে কখনও বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়, কখনও বা মানুষের। কিন্তু হাতির আক্রমণে চিতার মৃত্যু? শোনা যায়নি কখনও।
ডুয়ার্সের বেতগুড়ি চা বাগানের ঘটনা। বাগান সংলগ্ন আপালচাঁদের জঙ্গল থেকে রাতেই একটি হাতির দল ঢুকে পড়েছিল। বাগানের বাসিন্দাদের দাবি, সেই দলে থাকা একটি হাতির শাবককে আক্রমণ করে দু’টি চিতাবাঘ। এই দেখেই তেড়ে যায় মা হাতিটি। একটি চিতা পালিয়ে গেলেও অন্যটি হাতির সঙ্গে মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ নেয়। কিন্তু বিশালদেহী ক্ষিপ্ত হাতির সঙ্গে পারবে কেন? তাই কিছু ক্ষণের মধ্যেই রণে ভঙ্গ দিয়ে একটি গাছে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বাগানের এক বাসিন্দা সোনেওয়াল গুপ্তা জানিয়েছেন, শুঁড় দিয়ে চিতাটিকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে নিয়ে আসে হাতিটি। তার পর শুঁড়ে পেঁচিয়ে  বেশ কয়েকটি আছাড়। ব্যাস, তাতেই প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায় চিতাটির। হাতি দেখতে যাঁরা ভিড় জমিয়েছিলেন, এই ঘটনার পর তাঁরা আতঙ্কে পালান। এমনকি মোবাইল হাতে থাকলেও মা হাতির রুদ্রমূর্তি দেখে ছবি তোলার কথাও ভুলে গিয়েছিলেন তাঁরা, জানিয়েছেন বাগানের শ্রমিক উত্তম বরাইল। এর পর খবর যায় মালবাজার বন্যপ্রাণ স্কোয়াডে। সেখান থেকে বনকর্মীরা এসে চিতার দেহটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
the tree from which the elephant pulls down the leopard
এই গাছটি থেকেই চিতাবাঘকে শুঁড় দিয়ে নামায় হাতি।

তবে ঘটনাটি আদৌ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এর উত্তর দিয়েছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক এবং জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত জানিয়েছেন, খুব বিরল ঘটনা তবে অসম্ভব নয়। আফ্রিকার জঙ্গলগুলোতে এই ধরনের ঘটনা শোনা যায়। তাঁর মতে, এ রকম হতেই পারে।হাতি এমনিতেই বুদ্ধিমান, প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তার ওপর নিজের সন্তানকে আক্রমণ বরদাস্ত করবে না কোনও ‘মা’ই। তা সে মানুষ হোক বা বন্যপ্রাণী, বলছেন প্রাণীবিদ রাজা রাউত।

মাল ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জার দুলাল চন্দ্র দে জানিয়েছেন, যে গাছের নীচে চিতার দেহ পাওয়া গিয়েছে সেখানে প্রচুর হাতির পায়ের ছাপও পাওয়া গিয়েছে। তা ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারাও একই কথা বলছেন। তবে গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের  আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, চিতাটির দেহ ময়নান্তদন্ত করা হয়েছে।তার রিপোর্ট পাওয়ার পরই চিতাটি মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে।
তবে বিগত কয়েক দিনের ঘটনার পর হাতি নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে জঙ্গল সংলগ্ন ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের মধ্যে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here