পুজোর ব্যবসা ঠিকঠাক হবে তো? মুকুল রায় ‘স্থায়ী সমাধান’ চাওয়ার পর সংশয়ে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরা

0
mukul roy
ফাইল ছবি

শিলিগুড়ি: গোর্খ্যাল্যান্ডের কথা সরাসরি না বললেও দার্জিলিংয়ের ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এর পরেই চিন্তার ভাঁজ উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীদের কপালে। পুজোর মরশুমে কি গোর্খ্যাল্যান্ড ইস্যুকেই উসকে দিলেন মুকুল? এর পর পাহাড় কি আবার অশান্ত হয়ে উঠবে, এই নিয়েই এখন চিন্তা।

উল্লেখ্য, দার্জিলিংয়ের নবনির্বাচিত সাংসদ রাজু বিস্তাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান মুকুল। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুকুল বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। অভিযোগের সুরে মুকুল বলেন, “দার্জিলিং পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি। কাউন্সিলরদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলের ভিতরে অত্যাচার করা হচ্ছে। এর কোনো শেষ নেই। এক্ষুনি রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ করা উচিত।” এর পরই মুকুলের সংযোজন,”আমরা দার্জিলিঙের ব্যাপারে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করতে চাই”। 

আরও পড়ুন স্বাস্থ্যে অচলাবস্থা লাইভ: পঞ্চম দিনে কর্মবিরতি, এনআরএসে বৈঠকে আন্দোলনকারীরা

যদি স্থায়ী সমাধান বলতে তিনি কী বোঝাতে চাইলেন সেই নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্যই করেননি তিনি। তবে মুকুল-বার্তায় যদি পাহাড় আবার জ্বলে ওঠে তা হলে কী হবে? পুজোর মরশুমে দার্জিলিং এবং সমগ্র পাহাড় এখনই পুরো বুক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু গোর্খ্যাল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাহাড় জ্বলে উঠলে ব্যবসার ভয়বাহ ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী বাপ্পা চন্দ্র। বাপ্পাবাবুর কথায়, “আবার গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে উসকে দিল। পুজোর ব্যবসাটা গেল বোধহয়। কী হবে কে জানে!”

বাপ্পাবাবুর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন অনেকেই। পুজোর আগে দার্জিলিং জ্বলে উঠলে ব্যবসার কার্যত ৫০ শতাংশ ক্ষতি। কারণ ডুয়ার্সের জঙ্গল দিয়ে পুরো পাহাড়ের ক্ষতি তো মেটানো যাবে না। উল্লেখ্য, দু’বছর আগেও পুজোতেই পাহাড়ে পর্যটনব্যবসা লাটে উঠেছিল। সে বার একশো দিনের বন্‌ধের শেষে পুজোর ঠিক আগে আগে পাহাড় স্বাভাবিক হলেও ওই মরশুমে পর্যটনব্যবসা সে ভাবে হয়নি। তবে ধীরে ধীরে আবার পর্যটকদের সমাগম বেড়েছে পাহাড়ে।

যদিও বাপ্পাবাবুর বিরুদ্ধ মতও রয়েছে। এক পর্যটকের কথায়, “দার্জিলিং আর এত বোকা নেই। নিজেদের ব্যবসায় এ ভাবে ক্ষতি করবে না। আর যাই হোক বন্‌ধ হবে না।”

আরও পড়ুন রাজ্যে বর্ষা আসবে কবে?

যদিও মুকুলবাবুর ‘স্থায়ী সমাধান’ আদতে গোর্খাল্যান্ড কি না, সেই নিয়ে সংশয় আছে। কারণ এ বার লোকসভা নির্বাচনে গোর্খাল্যান্ডকে ইস্যু করেনি বিজেপি। বরং রাজু বিস্তা তাঁর প্রচারে বার বার ‘গোর্খা জাতিসত্তা’-এর কথা বলে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের দাবি করেছিলেন।

অবশ্য অন্য একটি ব্যাপারেও এই মুহূর্তে গোর্খাল্যান্ডকে ইস্যু করে কোনো লাভ নেই বিজেপির। কারণ দল এখন ২০২১-এ রাজ্য দখল করার স্বপ্নে বিভোর। এখন গোর্খাল্যান্ডকে উসকে দিয়ে সমতলে ধাক্কা খাওয়া আশঙ্কা থেকেই যায় তাদের। ফলে পাহাড়ের তিনটে এবং ডুয়ার্সের আরও গুটিকয়েক বিধানসভা আসনের জন্য রাজ্যের বাকি আসনগুলিতে হেরে যাওয়ার ঝুঁকি কোনো ভাবেই নেবে না বিজেপি।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.