Mukul roy bjp tmc

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় সাত মাস। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সে অর্থে কোনো স্থায়ী পদ তাঁকে দিতে পারেনি বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, আপাতত তাঁকে বসানোর মতো কোনো পদ নেই রাজ্য বিজেপি-তে। এ বিষয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন দলের দিল্লি নেতৃত্ব। যে কারণে তাঁকে দলের জাতীয় সম্পাদকের পদে বসানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

তৃণমূলের সাংসদপদ থেকে সরাসরি পদত্যাগ করেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। কথা ছিল, গত মার্চের রাজ্যসভা নির্বাচনেই তাঁকে সাংসদ করে নিয়ে আসবে বিজেপি। কিন্তু কোথায় কী? তাঁর নাম ছিল না প্রার্থী তালিকায়। মাঝে শোনা গিয়েছিল, মুকুলবাবুকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে দলের সর্বভারতীয় কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হবে। কিন্তু সেটাও রদ হয়েছিল বাংলারই কিছু স্বদলীয় নেতার বাধায়। মাঝখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আহ্বায়কের পদ দেওয়া হলেও তাঁর অধিকাংশ পরিকল্পনাকেই বাতিল করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।

এমনকী, বিজেপির রাজ্য সভাপতিপদে তাঁকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রের বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বিজেপির অন্দরমহলে। যে কারণে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া দিলীপ ঘোষের আসনে তাঁকে বসানো সম্ভব নয় বলেই ধরে নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। কিন্তু দেখতে দেখতে সাত মাস কেটে যাওয়ার পরও মুকুলবাবুকে স্থায়ী পদে না বসাতে পারার জন্য দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। কিন্তু বিজেপির মতো দলে যেখানে সভাপতির কতৃত্বই সর্বাগ্রে বিবেচিত হয় সেখানে এই ধরনের তুলনামূলক লঘু পদে তাঁকে বসানো নিয়েও দ্বিমত রয়েছে।

আরও পড়ুন: দিলীপ সরছেনই, মুকুলও নন? নতুন মুখ উঠে আসছে রাজ্য বিজেপির সভাপতিপদে

অন্য দিকে গত পঞ্চায়েত ভোটে মুকুলবাবু দলকে যে জায়গায় তুলে এনেছেন, তার নিরিখে তাঁর তো বড়োসড়ো কোনো পদ প্রাপ্তিই ন্যায্য বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে আপাতত স্থির হয়েছে, মুকুলবাবুকে দলের জাতীয় সম্পাদকপদে ঠাঁই দেওয়া হবে। এ মুহূর্তে ওই একই পদে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহা। সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পর্যবেক্ষণেই এই পদটি পেতে পারেন মুকুলবাবু। এখন দেখার, এই চিন্তাভাবনা কতটা ফলপ্রসূ হয়!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here