মুকুল রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ সিবিআইয়ের

0
Mirza and Mukul
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: শনিবার দুপুর সওয়া ২টো নাগাদ কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে পৌঁছান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই।

নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে এসে মুকুল বলেন, “আমি সবসময় এই ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি রয়েছি। কারণ ওই ভিডিওয় কোথাও দেখতে পাবেন না আমি টাকা নিচ্ছি। তবে আমার বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা ষড়যন্ত্র করছেন”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে থাকেন, সিবিআইকে সাহায্য করা যাবে না। কিন্তু আমি মনে করি, তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করা এক জন নাগরিকের কাজ। আবার ডাকলে আবার আসব”।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে তিনিই ম্যাথিউকে মির্জার কাছে পাঠাচ্ছেন, সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের সমস্ত উত্তর এড়িয়ে যান মুকুল।

এ দিন প্রথমে মুকুলকে পৃথক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে মির্জার মুখোমুখি বসিয়ে প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা।

সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর কাছে জানাতে চাওয়া হয়, ম্যাথিউ স্যামুয়েলকে কেন তিনি বলেছিলেন এস এম এইচ মির্জাকে টাকা দিতে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে পারেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। গত শুক্রবার সিবিআইয়ের হাজিরা এড়ানোর পর এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, নারদকাণ্ডের তদন্তে এ দিন তাঁকে জেরা করা হতে পারে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার পুলিশকর্তা সৈয়দ মহম্মদ হোসেন মির্জার মুখোমুখি বসিয়ে।

গত বৃহস্পতিবার সিবিআই গ্রেফতার করে মির্জাকে। ২০১৬ সালের রাজ্য বিধানসভা ভোটের মুখে প্রকাশ্যে আসা নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিওয় মির্জাকে ৫ লক্ষ টাকা ‘ঘুষ’ নিতে দেখা গিয়েছিল বেসরকারি সংস্থার কর্তা সেজে আসা সাংবাদিক ম্যাথিউ স্যামুয়েলের কাছ থেকে। প্রায় সাত বার জেরা করা হয়েছে মির্জাকে। ভিডিও ফুটেজের সত্যতা প্রমাণ করতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা রেকর্ড করা হয়। এর পরই মির্জাকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের হেফাজতে নেয় সিবিআই।

শুক্রবার মুকুলকে হাজিরা দিতে বলে সিবিআই। কিন্তু ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় চিঠি দিয়ে না যাওয়ার কথা জানান। ওই দিন ফের তাঁকে নোটিশ পাঠায় সিবিআই। পরে অবশ্য শনিবারই হাজিরা দিতে সম্মতির কথা জানান মুকুল। হেফাজতে থাকা মির্জার মুখোমুখি বসিয়ে মুকুলকে জেরার অন্যতম দু-টি কারণ রয়েছে বলে সিবিআই সূত্রের খবর।

নারদ স্টিং অপারেশনের ওই ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বর্ধমানের তৎকালীন পুলিশ সুপার মির্জা সরকারি বাসভবনে বসে পাঁচ লক্ষ টাকা নিচ্ছেন নারদকর্তা ম্যাথিউ স্যামুয়েলের কাছ থেকে। একই সঙ্গে ওই টাকা যে তিনি মুকুলের হয়েই নিচ্ছেন,তেমন ইঙ্গিতও ছিল ম্যাথিউর কথায়।

আবার ওই স্টিং অপারেশনের অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, ম্যাথিউকে পুলিশকর্তা মির্জার কাছে পাঠাচ্ছেন মুকুল। মির্জাকে গ্রেফতারের দিনই সাংবাদিক বৈঠক করে যে ঘটনার কথা মুকুল নিজেও পক্ষান্তরে স্বীকার করেছেন।

মুকুল স্বীকার করেন, “বর্ধমানে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন ম্যাথিউ। তাই আমি তাঁকে বর্ধমানের তৎকালীন পুলিশ সুপারের নাম বলেছিলাম। ব্যবসার জমি পেতে এসপির সাহায্য লাগে, সেই জন্য তাঁকে মির্জার কথা বলেছিলাম। তদন্ত নিজের গতিতেই এগোবে”।

তবে ওই সাংবাদিক বৈঠকেই মুকুল দাবি করেন, তাঁকে টাকা দিতে কেউ আসেননি। তিনি কোনো টাকা নেননি। এমন ছবিও কোথাও নেই। টাকা লেনদেনের ব্যাপারেও তিনি কিছু জানেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here