ছত্রধরের স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মুকুল রায়ের! নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

ওযেবডেস্ক: লালগড়ে সভা শেষ করেই ছত্রধর মাহাতর স্ত্রী মিনতিদেবীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়। এমন সংবাদে গোটা জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এক সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছত্রধরের ‘সুসম্পর্ক’ ছিল সর্বজনবিদিত। কিন্তু ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের দলিতপুরে নাশকতামূলক কাণ্ডে জ়ড়িত থাকার অপরাধে তিনি গ্রেফতার হন। এর পর জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস বিস্ফোরণ কাণ্ডে ২০১৫ সালের মে মাসে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তার পর থেকে ছত্রধর-অধ্যায় পরদার আড়ালে চলে যায়।

মাসখানেক আগে ঝাড়গ্রামে দলীয় সভা থেকেও মুকুলবাবু ছত্রধর মাহতর কথা পুনরায় উত্থাপন করেন। তিনি স্বীকার করে নেন, তৃণমূলে থাকাকালীন তিনি ছত্রধরের হাত ধরেই জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বুধবার জেলবন্দি নেতার বাড়িতে গিয়ে ফের তিনি সেই পুরনো স্মৃতি উসকে দিতে চাইছেন বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত।

আমলিয়াগ্রামের বাসিন্দা ছত্রধরবাবুর ভাই শশধর বহু বছর আগেই পুলিশের হাতে নিহত হওয়ার পরে সংসারের হাল এমনিতেই তথৈবচ। ছত্রধরের স্ত্রী তাঁর পুত্রকে নিয়ে সামান্য চাষাবাদের কাজ করে সংসার চালান। প্রতিবেশীদের অবশ্য দাবি, স্থানীয় কয়েক জন সিপিএম নেতা ছত্রধরবাবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। কিন্তু আচমকা সেখানে মুকুলবাবুর প্রবেশ নতুন বিতর্কের ইন্ধন জোগাল।

বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো নেতার সঙ্গে তাঁর পরিবারের যোগাযোগ আছে মনে করেন না স্থানীয়রা। ইউএপিএ আইনে গ্রেফতার হওয়া এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর বেশ কয়েক জন স্থানীয় তৃণমূল নেতা সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তা জঙ্গল মহলের বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছে। ইদানীং ছত্রধরকে নিয়ে মুকুলবাবুর সক্রিয়তা নতুন করে ভাবাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিকে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.