mukul roy in jalpaiguri

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: জেলা পরিষদ জেতাতে পারলে প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে একটা করে স্মার্টফোন দেওয়া হবে। নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি নেতা মুকুল রায় এমনই প্রতিশ্রুতি দিলেন। আর এই প্রতিশ্রুতি ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিজেপি-বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনীবিধি ভঙ্গ করেছে। তারা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

শনিবার জলপাইগুড়ি জেলায় বেশ কয়েকটি নির্বাচনী জনসভা করেন মুকুল রায়। বিকেল তিনটে নাগাদ জলপাইগুড়ির ঘুঘুডাঙায়  একটি জনসভায় যোগ দেন তিনি। বক্তব্যের প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। একদা মমতার ছায়াসঙ্গী বলেন, এ রাজ্যে “শিয়াল তাড়িয়ে চিতা আনা হয়েছে” আর “চোর তাড়িয়ে ডাকাত আনা হয়েছে”। তাঁর অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন লড়তে ভয় পাচ্ছেন তাই গণতন্ত্রকে হত্যা করছেন, বলাৎকার করছেন।

শুক্রবার মুকুল রায়ের শ্যালককে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে মুকুল বলেন, মিথ্যা অভিযোগে তাঁর শ্যালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাঁকেও জেলে পোরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, এক পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে তাঁকে “হত্যা” করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর সবটাই করা হচ্ছে তৃণমূল নির্বাচনে হেরে যাবে, এই ভয় থেকে। এ সব বক্ত্যবের মাঝেই প্রতিশ্রুতি দেন যুবাদের স্মার্টফোন দেওয়ার। তিনি বলেন, নিবার্চনে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সমস্ত আসন জেতাতে পারলে জেলার ১৮ বছরের ওপর সব যুবক-যুবতীকে স্মার্টফোন দেওয়া হবে।

এই বক্তব্যের পরেই মাঠে নেমে পড়ে বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। বস্তুত জেলার একটা বড়ো অংশের ভোটব্যাংক যুবারা। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের পাখির চোখ করেছে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম সহ সব দলই। বিজেপি-বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই ভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া নির্বাচনী বিধিভঙ্গের শামিল।।

জলপাইগুড়ির তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জনভিত্তি না থাকায় এই ভাবে যুবসমাজকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্যের কথায়, “এই ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনে জেতার মরিয়া চেষ্টা করছে বিজেপি। যুব সমাজকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা অন্যায়”। তাঁরাও এর বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে নালিশ জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

যদিও প্রলোভনের কথা মানতে নারাজ মুকুল রায়। তাঁর সাফাই, বিজেপি সরকার ক্যাশলেস ইন্ডিয়ার যে স্বপ্ন দেখছেন তার জন্য সবার স্মার্টফোন দরকার। তাই এই রাজ্য সরকারের মতো মেলা-খেলার জন্য টাকা না দিয়ে স্মার্টফোন দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here