Mukul Roy

কলকাতা: গত বছরের ১১ অক্টোবর রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুকুল রায়। তার আগেই সরকারি ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর নতুন দল বিজেপি নয়া কোনো স্থায়ী পদ দিতে পারেনি তাঁকে।

প্ৰথমে ঠিক হয়েছিল রাজ্যের আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হবে মুকুলবাবুকে। কিন্তু কৈলাস বিজয়বর্গীয়র এ ধরনের ঘোষণার পর পরই চুড়ান্ত ভাবে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ দেখা যায় বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে। তিনি যে দিল্লি নেতৃত্বের এমন ঘোষণায় তীব্র রুষ্ট হয়েছেন, তার আঁচ পেয়ে ওই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয় বার উচ্চবাচ্য করেনি দল। তারপরই স্থির হয় মুকুলবাবুকে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। গুজরাত এবং হিমাচলপ্রদেশের বিধানসভা ভোট সাঙ্গ হলেই সে বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছিলেন খোদ দলের সভাপতি অমিত শাহ। অমিত মনে করেছিলেন, দিল্লিতে মুকুলবাবুর পরিচিতিকে কাজে লাগাতে তাঁকে ওই পদে অভিষিক্ত করা হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে।

আপাতত স্থির হয়েছে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ পদেই ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। জানা গিয়েছে, চলতি ২০১৮-তেই রাজস্থান থেকে তিনটি রাজ্যসভার সাংসদ পদ পাচ্ছে বিজেপি। তারই একটিতে বসানোর চেষ্টা চলছে মুকুল রায়কে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো মত প্রকাশ করেনি রাজস্থানের বিজেপি নেতৃত্ব।

আবার ত্রিপুরার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকেও মাথায় রাখছে বিজেপি। নেতৃত্ব মনে করেন, ত্রিপুরায় প্রচারে বেরিয়ে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে তাতে ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক হতে চলেছে। ওই রাজ্যে নিজেদের বিধায়ক সংখ্যা পর্যাপ্ত হলে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে যাঁর নাম সর্বাগ্রে বিবেচিত হবে, তিনি অবশ্যই মুকুল রায়।

মুকুলবাবুকে বিজেপি রাজ্যসভায় পাঠাতে এতটা উদগ্রীব হয়ে উঠেছে কেন?

দলীয় সূত্রে খবর, বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব দলের শৃঙ্খলা মানতে মুকুলবাবুকে সঙ্গে নিয়ে চলতে বাধ্য হলেও মনেপ্রাণে তাঁকে মেন নিতে পারছেন না। ফলে ঠোকাঠুকি লেগেই রয়েছে। তা থেকেই রাজ্য শাখাকে মুক্ত করতে আপাতত মুকুলবাবুকে দিল্লি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here