Bharati Ghosh,Mukul Roy,Dilip Ghosh

কলকাতা: মুকুল রায়কে দলে নিয়ে রাজ্য সরকারের লোগো ‘বিশ্ববাংলা’ নিয়ে বিতর্কের পারদ তুঙ্গে তুলে ফেলেছিল রাজ্য বিজেপি। কিন্তু খোদ নয়াদিল্লি তা নিয়ে চুড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রায় মাঠে মারা গিয়েছে মুকুলবাবুর ‘কাগুজে-আস্ফালন’। এ বার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষকে নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলে বুঝিয়ে দিলেন, আগামী কয়েক দিনে ‘জঙ্গলমহল’ ইস্যুই হয়তো তাঁদের অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে।

দিলীপবাবু সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেন, ‘ভারতীদেবী এক সময় তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় এখন তিনি ওই দলেরই বড়ো শত্রু হয়ে উঠেছেন। সিআইডি তাঁকে সমন পাঠানোয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। আসলে জেলে পুরে দিয়ে তৃণমূল তাঁর মুখ বন্ধ করে দিতে চাইছে।’

দিলীপবাবুর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, ভারতীদেবী নিশ্চয় তাঁর কাছে স্বীকার করেছেন তিনি জেলা পুলিশের উচ্চ পদে থেকেও জঙ্গলমহলে তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। একজন আইপিএস আধিকারিকের কাছে সেটা কতটা সম্মানের তা নিশ্চয় ভারতীদেবীও জানেন। আবার ভারতীদেবীকে যে জেলে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে, দিলীপবাবুর সেই আগাম আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাঁর আশঙ্কা যদি সত্য হবে, তা হলে মুকুলবাবুকে নিয়ে কেন মাথা ঘামাল না তৃণমূল, বলছেন তৃণমূলের এক রাজ্য নেতা।

অবশ্য ভারতীদেবী এ বিষয়ে মুখ না খুললেও দিলীপবাবু জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর জন্য বিজেপির দরজা সবসময়ই খোলা রয়েছে। অর্থাৎ এক দিকে যেমন ‘অসহায়’ এক আইপিএস-এর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে চাইছে অন্য দিকে তার বিনিময়ে তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত জঙ্গল মহল সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন তথ্যকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অস্ত্র করতে চাইছে।

ওই তৃণমূল নেতা বলেন, বহু দিন পর আবার বিজেপির মুখে কিষেনজির নাম শোনা গেল! তার মানে কি টানা সাত বছরের পরিশ্রমে তৃণমূল সরকার সন্ত্রাস বিধ্বস্ত যে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে, সেখানে আবার অশান্তির আবহ তৈরি করতে চাইছে? বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কখনোই সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন