নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: খড়গহীন জোড়া গন্ডারের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল বন দফতর। চাপের মুখে ঘটনার তদন্তে এলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ। রবিবার গরুমারা জাতীয় উদ্যানের গড়াতি বিটে আসেন বনমন্ত্রী। এই ‘কোর’ এলাকাতেই পাওয়া গিয়েছিল গন্ডার দুটির মৃতদেহ। তাদের খড়গ কাটা ছিল। ঘটনায় চোরাশিকারিদের হাত স্পষ্ট। গ্রেফতারও করা হয়েছে দু’জনকে।

ঘটনা সম্পর্কে বনাধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন মন্ত্রী। এই ধরনের গাফিলতি বন দফতর যে বরদাস্ত করবে না তার প্রমাণ মিলেছে মন্ত্রীর কথাতেই। ইতিমধ্যেই ওই এলাকার বিট অফিসার রাজকুমার শাহকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রেঞ্জ অফিসার অলোক বসু সহ তিন জনকে শোকজের চিঠি ধরানো হয়েছে। এ দিন বনমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আরও যদি কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ দিকে, গরুমারা থেকে আরও একটি গন্ডার নিখোঁজ বলে অভিযোগ করেছে পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। মন্ত্রী আসার খবর পেয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন পরিবেশকর্মীরা। ‘সোসাইটি ফর প্রটেক্টিং ওফিওফনা অ্যান্ড অ্যানিমল রাইটস’-এর সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে মন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন, গন্ডারের প্রকৃত সংখ্যা জানতে ফের শুমারি করা হোক। যদিও এ ব্যাপারে বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, চাইলেই শুমারি করা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত শেষ গন্ডার-শুমারি হয়েছিল ২০১৪ সালে। তখন ৫০টি গন্ডারের অস্তিত্বের দাবি জানিয়েছিল বন বিভাগ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির দাবি, ফের শুমারি হলেই ক’টি গন্ডার আছে, আর ক’টি নিখোঁজ তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তবে গরুমারার এই ঘটনার পর চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্যর প্রমাণ পাওয়ায় উদ্বিগ্ন বন দফতর। ইতিমধ্যেই বক্সা ও জলদাপড়ার জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করেছে বন দফতর। পুলিশ, এসএসবির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অসম এবং ভুটান সীমান্তে নজর রাখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here