এক বছর আগে ভোটের লাইনে স্বজন হারানো দুই পরিবারের মুখে ঘুরেফিরে সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী

0

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,কুলতলি: গত বছর পঞ্চায়েতে ভোটের লাইনে হারিয়েছিলেন সন্তানদের। এ বারের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোরালো নিরাপত্তা দেখে সন্তানহারা পরিবারের একটাই আক্ষেপ-“এ রকম ভাবে ভোট হলে বোধহয় ছেলেকে হারাতে হতো না”!

কুলতলি বিধানসভার মেরিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বোলেরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বছর এই সময়ে ভোটের লাইনে ভোট দিতে গিয়ে দুষ্কতীদের আক্রমণে নিহত হন ৩৫ বছরের আরিফ হোসেন গাজি নামে এক তৃণমূল কর্মী।

সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলেকে হারিয়ে গত এক বছরে দিশেহারা পরিবার। বাবা খাজাবক্স গাজি ও মা ফতেমা বিবি মাটির ঘরে বসে আজও পুত্র শোকে আকুল। ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে এখনও মাঝে মাঝেই কেঁদে ওঠেন মা। আরিফের ছোট ভাই আবুল হোসেন বর্তমানে কোনো রকম দিন মজুরি করে সংসার চালাচ্ছেন।

আক্ষেপের সুরে আরিফের পরিবার জানায়, তাঁর মৃত্যুর পরে তৃণমূল জেলা সভাপতি এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে আর কোনো সরকারি সাহায্য তাঁরা পাননি। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এর পরে আর তাঁদের কোনো সহায়তা না করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে তাঁরা যে আবার তৃণমূল প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছেন, সে কথাও তাঁরা জানালেন অকপটে।

অন্য দিকে, কুলতলির চুপড়িঝাড়াতে মৃত সুবিদ আলি মোল্লা (২২ বছর)-র পরিবারও এ বারে ভোট দিয়েছেন নির্দ্বিধায়। সুবিদের কাকা স্থানীয় তৃণমূল নেতা হামিদ মোল্লা। তাঁর সঙ্গেই গত বছরের ১৩ মে ভোট দিতে গিয়েছিলেন সুবিদ। সেখানেই গন্ডগোলের মুখোমুখি হয়ে প্রাণ হারাতে হয় তাঁকে। অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকেরা তাঁকে পিটিয়ে খুন করেন। ঘটনাটি ঘটেছিল চুপড়িঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৪ নম্বর বুথের বাইরে। সুবিদের দেহ একটি মাঠ থেকে ওই দিন রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। দেহটিকে জামতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্‍সক। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী রেক্সোনা জন্ম দেন দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের।

তবে দুই পরিবারই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হওয়ায় খুশি। তাঁদের মতে, যদি গত পঞ্চায়েতে এ ভাবেই যদি ভোট হতো, তা হলে তাঁদের ছেলেরা অকালেই ঝরে যেত না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.