Connect with us

মুর্শিদাবাদ

রাজ্যে এই প্রথম প্রাণ ঝরল সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভে!

ওয়েবডেস্ক: বাস-ট্রেনে আগুন থেকে স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর প্রতিবাদে মাসাধিক কাল ধরে বিক্ষোভে প্রাণহানি ঘটেনি বাংলায়। মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে সেটাই ঘটে গেল বুধবার।

এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ সিএএ ও এনআরসির বিরোধিতায় পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন দুই বিক্ষোভকারী, গুলিবিদ্ধ হন এক টোটোচালকও। যিনি সংঘর্ষের সময় এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শেষ পাওয়া খবর অনুআয়ী, গুলিতে মারা গিয়েছেন সানারুল বিশ্বাস (৬০) এবং সালাউদ্দি শেখ (১৭) নামে দুই ব্যক্তি। এলাকাবাসী দাবি করেছে, আরও অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

জলঙ্গির সাহেবগঞ্জের এই ধন্ধুমার কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়নি কোনো পক্ষকেই। যদিও আক্রান্তদের একাংশ সংবাদ মাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেছে, তাহেরউদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাহেরউদ্দিন জলঙ্গি উত্তর চক্রের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীও। তিনিও বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। এ কথা সকলেই জানেন। শান্তিপূর্ণ ভাবে অবরোধ চলছিল, সেখানে হামলা চালানো হল, গুলি চালানো হল। কয়েক দিন আগে বন্‌ধেও হামলা চালানো হয়েছিল। প্রতিবাদকারীদের উপর গুলি চালানোর অধিকার কে দিয়েছে”?

সিএএ-এনআরসির প্রতিবাদ ঘিরে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে ধুন্ধুমার, গুলিবিদ্ধ একাধিক, মৃত ২

এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্যের শাসকদল। তাদের পাল্টা দাবি, কংগ্রেস ও বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে। এ দিনের ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আবু তাহের খান জানিয়েছেন, “সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গে মিম-পিএফআই-এর মতো মৌলবাদী শক্তি ঢুকে পড়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে”।

Continue Reading
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

পশ্চিম মেদিনীপুর

দিঘা থেকে হেঁটে মুর্শিদাবাদের পথে পরিযায়ী শ্রমিকের দল, আংশিক সুরাহা শালবনীতে

শালবনী: লকডাউনের (lockdown) জেরে কাজ বন্ধ এক মাসেরও বেশি হয়ে গেল। হাতে পয়সাকড়িও নিঃশেষ। শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে হেঁটেই কর্মস্থান থেকে রওনা হল পরিযায়ী শ্রমিকের দল। গন্তব্য গ্রামের বাড়ি। দিঘা (Digha) থেকে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)। শেষ পর্যন্ত শালবনীতে (Shalbani) এসে তাঁদের পরিশ্রমের কিছুটা লাঘব হল।

বুধবার সকালে শালবনীর কালীমন্দিরের কাছে একদল মানুষকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এলাকার শিক্ষক তন্ময় সিংহ তাঁদের পরিচয় জানতে চান। তাঁরা জানান, তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক। আসছেন দিঘা থেকে, বাড়ি মুর্শিদাবাদ। সাত জনের দলে একটি ছয় বছরের শিশু এবং একজন শ্রমিকের মা-ও ছিলেন।

দলের শিশুটি।

তাঁরা জানান, আজ নিয়ে চার দিন তাঁরা ক্রমাগত হেঁটে চলেছেন। এঁদের কোনো ভাবে সাহায্য করা যায় কি না, সেই চিন্তা থেকেই তন্ময়বাবু যোগাযোগ করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ নেপাল সিংহের সঙ্গে।

খবর যায় শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সন্দীপ সিংহের কাছে। সন্দীপবাবু তাঁদের দেখা পান আড়াবাড়ি বন সংলগ্ন একটি টেলিফোন কোম্পানির অফিসের সামনে। পরিযায়ী শ্রমিকদলের হেঁটে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ওই এলাকাতেই তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এবং  পথের জন্য শুকনো খাবারের ব্যাবস্থা করে দেন অতনু সিংহ ও সুদীপ সিংহ।

ইতিমধ্যে সন্দীপবাবু যোগাযোগ করেন চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়ি, শালবনী থানা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা ও শালবনীর বিডিও সঞ্জয় মালাকারের সঙ্গেও। পরিযায়ী শ্রমিকেরা জানান, তাঁরা মুর্শিদাবাদের সুতি ও ধুলিয়ান থানার বাসিন্দা। তাঁদের আবেদন, তাঁদের কোয়ারান্টাইনে না রেখে অন্তত অন্তত বর্ধমান জেলার সীমানার কাছাকাছি এগিয়ে দেওয়া হোক। ওখান থেকে তাঁদের বাড়ির লোকেরা তাঁদের নিয়ে যাবে বলে জানান তাঁরা।

আরও পড়ুন: ১০ জুনের পর উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ওই আবেদনে সাড়া দিয়ে তাঁদের বর্ধমান জেলার সীমানার কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এখন দেখার এই পরিযায়ী শ্রমিকরা কখন তাঁদের বাড়ি পৌঁছোতে পারেন।

Continue Reading

মুর্শিদাবাদ

সৌদি আরব ফেরত মুর্শিদাবাদের যুবকের মৃত্যু কি করোনাভাইরাসে? এল রিপোর্ট

মুর্শিদাবাদ: শোকের আবহের মধ্যে একটাই স্বস্তির খবর। সৌদি আরব (Saudi Arabia) ফেরত মুর্শিদাবাদের যুবকের মৃত্যুর কারণ করোনাভাইরাস নয়। সোমবার সকালেই তাঁর রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে।

শনিবার জানারুল হক নামে ওই ব্যক্তিকে ভরতি করা হয় মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যে হেতু তিনি সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন তাই কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে গতকাল বিকেলে তাঁকে আইসোলেশন বিভাগে ভরতি করা হয়। ওই আইসোলেশন বিভাগেই রবিবার মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

নবগ্রামের পলাশপুর নারকেলবাড়ির বাসিন্দা জানারুল হক শনিবার রাতে নিজের গ্রামের বাড়িতে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন সকালেই সৌদি আরব থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন তিনি। এর পর তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি করা হয়।

শুরু হয় পরীক্ষানিরিক্ষা। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা দেখার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। চলে কড়া নজরদারি। রবিবার তাঁর মৃত্যুর পর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন করোনাভাইরাস আতঙ্ক দূরে সরিয়ে দোল উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা

রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির ডায়াবেটিস (Diabetes) ছিল। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের যে সব নিয়ম মেনে চলতে হয়, সেটা না করার জন্যই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

অন্য দিকে এখনও বেলেঘাটা আইডিতে হাসপাতালে এমন ২ জন ভর্তি রয়েছেন যাঁদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। রবিবার সকালে সৌদি ফেরত এক ব্যক্তিতে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বেলেঘাটা আইডিতে পাঠানো হয়। ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরে নামা মাত্রই থার্মাল স্ক্যানে ধরা পড়ে তাঁর জ্বর আছে। তার পরেই তাঁকে বেলেঘাটায় পাঠানো হয়।

Continue Reading

মুর্শিদাবাদ

করোনাভাইরাস সন্দেহে হাসপাতালে ভরতি হওয়ার পর দিনই মুর্শিদাবাদে মৃত যুবক

murshidabad medical

নবগ্রাম: রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের এক যুবকের। করোনাভাইরাস (Coronavirus) সংক্রমণের সন্দেহে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রবিবার ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

নবগ্রামের পলাশপুর নারকেলবেড়িয়ার বাসিন্দা জানারুল হক কর্মসূত্রে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। গত শনিবার তিনি দেশে ফিরে আসেন। ওই দিনই জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাঁকে ভরতি করা হয় হাসপাতালে। তাঁকে রাখা হয় আইসোলেশন ওয়ার্ডে।

মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানারুলের রক্তের নমুনা বেলেঘাটা নাইসেডে পাঠান পরীক্ষা করানোর জন্য। কিন্তু তারই মধ্যে জানারুলের মৃত্যু হয় এ দিন।

স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। আগামী সোমবার তাঁর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে তবেই জানা যাবে, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। যদিও মৃতের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তাঁর আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ এবং সুগারের রোগ ছিল।

আরও পড়ুন: আজ থেকে আবহাওয়ার উন্নতি, দোল পেরিয়ে ফের ঝড়বৃষ্টি?

জানারুলের মৃত্যুসংবাদ জানাজানি হতেই করোনা-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেলেঘাটা আইডির আইসোলেশন ওয়ার্ডে জ্বর-সর্দিকাশি নিয়ে ভরতি রয়েছেন আরও এক যুবক। জানা গিয়েছে, তিনিও সৌদি আরবে ছিলেন। বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁকে বেলেঘাটা আইডি-তে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে করোনা সন্দেহে আইডি হাসপাতালে দু’জন ভরতি রয়েছেন। তাঁর রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে পুনের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে।

Continue Reading

ট্রেন্ড্রিং