মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষ

কলকাতা: এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের আধিক্য তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। বিগত ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেথানে ন্যূনতম একশো জন মুসলিম প্রার্থীও ঠাঁই পাননি, এ বার সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫০-এ।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, সারা রাজ্যে যদি মনোনয়ন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ভাবে হতো তা হলে এই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াত দু’হাজারের উপরে। কিন্তু এত সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করেও এই বিশাল সংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী মনোনয়ন জমা করা বিজেপির সব থেকে বড়ো সাফল্য হিসাবেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

দিলীপবাবু বলেন, “বিজেপির প্রতি সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। কারণ বিজেপি উন্নয়নে বিশ্বাস করে। কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশের ২০টির বেশি রাজ্য শাসন করছে আমাদের দল। স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার মানুষও সেই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন। সে কারণেই বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ধর্মমত নিরপেক্ষ ভাবে সমস্ত শ্রেণীর মানুষ বিজেপিকে নিয়ে এগোতে চাইছেন”।

আরও পড়ুন: মহেশতলা উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম চুড়ান্ত করে ফেলল রাজ্য বিজেপি

একই সঙ্গে তাঁর দাবি, “আমরা ধর্ম দেখে কাউকে প্রার্থী করিনি। যাঁর জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁকেই টিকিট দিয়েছি। এ রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষেরও পূর্ণ আস্থা রয়েছে বিজেপির উপর। বিজেপি চায় তাঁদের সেই আস্থাকে সম্মান জানাতে। এ রাজ্যের ৩০ শতাংশ মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তৃণমূল প্রচার করছে, বিজেপি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত্রু। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যে সেই মিথ্যা প্রচারে বিশ্বাস করে না, এই প্রার্থী তালিকাও তার একটা প্রমাণ”।

তবে এ ব্যাপারে বিজেপির অন্দরমহলের খবর, তৃণমূল-ত্যাগী বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের দক্ষতায় এই রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থীকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো সহজ হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here