সজনবাবু এবং আশফাক

বানারহাট: সজন কুমার বিশ্বাসকে নিজের মেন্টর মনে করতেন আশফাক হক। কিছু দিন আগেই মৃত্যু হয় সজনবাবুর। হিন্দু রীতি মেনে সুজনবাবুর ক্রিয়াকর্ম পালন করলেন আশফাক। সম্প্রতির এক অনন্য নজিরের সাক্ষী থাকল ডুয়ার্সের বানারহাট।

বানারহাট হাইস্কুলে ২০০৫ পর্যন্ত শিক্ষক ছিলেন সজনবাবু। তার পর অবসর নেন তিনি। অন্য দিকে ১৯৯৯-এ এই স্কুলেই ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আশফাক। পরের ছ’ বছর, আশাফাককে বিভিন্ন ভাবে গাইড করেছেন সুজনবাবু। আশফাক মনে করেন, সুজনবাবু না থাকলে তাঁর এই স্কুলে চাকরিটাই হত না।

তাঁর কথায়, “আমি যখন চাকরিতে যোগ দিই, আমার ধর্মের কথা বলে অনেকেই বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু সুজনবাবু শুরু থেকেই আমার পাশে ছিলেন। আমায় বলেছিলেন, অনেকে অনেক কথা বলবে, কিন্তু আমি যেন তাতে কান না দিই। প্রথম কয়েক দিন কোনো থাকার জায়গা ছিল না আমার, তখন উনিই তাঁর বাড়িতে আমাকে থাকতে দেন। উনি ধর্মের থেকেও মনুষ্যত্বকে বড়ো মনে করতেন। তাঁর থেকে আমি এই শিক্ষায় পেয়েছি।”

আরও পড়ুন মালদার রতুয়ায় পাওয়া গেল প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান
সুজনবাবুর মৃত্যুর পরে প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন আশফাক। তার পরেই ক্রিয়াকর্ম পালন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুধু শ্মশানে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করাই নয়, নিজের স্ত্রী এবং ন’ বছরের সন্তানের সঙ্গে এগারো দিনের অশৌচও পালন করেছিলেন আশফাক। সেই সঙ্গে গত রবিবার ডায়ানা নদীর ধারে নিজের মাথা এবং গোঁফও কামিয়ে শ্রাদ্ধের কাজও করেন তিনি।
মুর্শিদাবাদের কান্দিতে আদিবাড়ি আশফাকের। সেখানে তাঁর বাবা রয়েছেন। কিন্তু আশফাকের সিদ্ধান্তের কোনো বিরোধিতা করেননি তাঁর বাবা। আশফাকের কথায়, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ। সেটা হয়েছিল বিশ্বাস স্যারের জন্যই।”

হিন্দু ‘স্যারের’ জন্য এক মুসলিম ‘ছাত্রের’ এই অবদান, বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবিটাকে আরও শক্তিশালী করবেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here