নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: যখন ধর্ম, জাত নিয়ে ভেদাভেদ, খুনোখুনি, দাঙ্গার পরিবেশ দেশের নানা প্রান্তে। তখন উলটপুরাণ বর্ধমানে। হিন্দুর দেহ সৎকারে এগিয়ে এলো মুসলমান। খানিকটা যেন সিনেমার মতো।কিন্তু সিনেমা নয়, বাস্তব।

বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগে থাকতো মিলন দাস।ভবঘুরে মিলন দাসের সাত কুলে কেউ ছিল না। বাবুরবাগ, নার্সকোয়ার্টার এলাকায় বিভিন্ন দোকানে কাজ করত মিলন। সপ্তাহ দুয়েক আগে তার মৃত্যু হয়। রমজান মাসের মধ্যেই তার সৎকারে এগিয়ে আসে রিকশাচালক সেখ রবি। শশ্মানে মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে রবিই মুখাগ্নি করে।

শেখ রবি

সোমবার ছিল ভবঘুরে মিলন দাসের শ্রাদ্ধ। শ্রাদ্ধের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ভুরিভোজেরও। বাবুরবাগ ব্যবসায়ী সমিতির পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার কাউন্সিলর বসির আহমদ ওরফে বাদশা। একেবারে নিয়ম নীতি মেনে মিলন দাসের শ্রাদ্ধের কাজ করা হয়। পুরোহিতের সঙ্গে শ্রাদ্ধবাসরে অংশ নেয় শেখ রবিও। শেযে ভাত,ডাল,শুক্তো,পটলের তরকারি,চাটনি,পাঁপড়,দই, রসগোল্লা একেবারে পাত পেরে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া। শেযে এক খিলি মিষ্টি পানও ছিল নিমন্ত্রিতদের জন্য।

ভবঘুরে মিলন দাসের মৃত্যু যেন শহর বর্ধমানের সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আর একবার মনে করিয়ে দিল। মনে করিয়ে দিল, খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি নিতান্তই স্বাভাবিক বিষয়। দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা চাপিয়ে দেওয়ার কাজটা করে থাকেন স্বার্থাণ্বেষী শিক্ষিত মধ্যবিত্তরাই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here