winter vegetable and Nabanna

কলকাতা: শীতের সবজি বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘন সবুজ বাঁধাকপি, পালংশাক, শিম বা সাদা ধবধবে ফুলকপি। এ বারের শীতের বাজারেও তা রয়েছে কিন্তু তাতে হাত দিতে গেলেই ছ্যাঁকা লাগছে ক্রেতার হাতে। এই আসি, এই পালাই খেলায় মেতেছে শীতও। তবে বাজারের গনগনে আঁচ যেন স্থির হয়ে রয়েছে সেই কবে থেকে। একটা সাধারণ আকারের ফুলকপিও এখন ২৫টাকা। বছর শেষ থেকে শুরু হওয়া নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত এখন বাংলারও উৎসবের মরশুম। তারপর আসবে সরস্বতীপুজো। ফলে এই চড়া দাম আদৌ খাদে নামবে কি না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু কেন এত দাম শীতের সবজির?

উত্তরের পুরোটা না হলেও কিয়দংশের জবাব রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের কৃষি দফতরের এক কর্তার কথায়, কে বলেছে দাম কমেনি? একশো টাকা কেজির মটরশুঁটি তো এখন দেদার বিকোচ্ছে ৫০টাকায়। তবে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে পণ্য না এলে দাম তো একটু বাড়বেই।

তাঁর কাছ থেকেই জানা গেল, বাংলার সবজি এখন ভিন রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে সহজেই পসার জমিয়েছে ভিন দেশেও। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, গত ২০১৬-’১৭ আর্থিক বছরে শুধু কলকাতা বিমান বন্দর থেকে সবজি রফতানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। যা তার আগের বছরের তুলনায় ১০,০০০ টন বেশি। এই ভাবে রফতানি চলতে থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এই পরিমাণ দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে।

broccoli

তা হলে কি, স্থানীয় বাজারকে উপেক্ষা করে বেশি মুনাফার জন্য বাংলার সবজি বাইরে পাঠানোর ঝোঁক বাড়ছে? তাতে কৃষকেরও লাভ আবার সরকারের রাজস্বের দিকটিও মাথায় রয়েছে। এটাও হয়তো সম্পূর্ণ সঠিক যুক্তি নয়। আদতে এক দিকে যেমন যেমন চাষের জমি কমছে, চাষির কমছে তেমন অন্য দিকে বাড়ছে বিজাতীয় সবজি চাষের দিকে ঝোঁক। বাংলার মাঠে এখন হু-হু করে ফলছে ব্রকোলি, লেটুসের মতো সবজি। তাতে আয়ের পাল্লা ভারী। ফলে বাঁধাকপি-ফুলকপি, মুলো, বেগুনের পায়ের তলার মাটি কমছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here