Connect with us

নদিয়া

শন্তিপুরে সংশয়! দোটানায় বিজেপি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কংগ্রেসে

তা হলে কি বিজেপি-কংগ্রেস শিবিরের এই ‘দুর্বলতা’র ফায়দা তুলতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস?

Published

on

জয়ন্ত মণ্ডল, শান্তিপুর: দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ক কার্যত ‘সাপে-নেউলে’। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি ঘটনা পরম্পরায় এক দল দোটানায়, অন্য দল আশঙ্কা করছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার!

ভোটযুদ্ধের মুখেই রাজনৈতিক চর্চায় উঠে আসেন নদিয়ার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। ২০১৬ সালের ভোটে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে ‘হাত’ প্রতীকে জেতার বছরখানেকের মধ্যেই তৃণমূলে, আর এ বার ভোটের মুখে তিনি নাম লেখান বিজেপিতে। এই ঘটনাই এখন ‘কাঁটা’র মতো বিঁধছে বিজেপি-কংগ্রেস দুই শিবিরের পায়ে। কী ভাবে?

Loading videos...

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শান্তিপুরে এখনও প্রার্থী নির্দিষ্ট করতে পারেনি বিজেপি, কংগ্রেস উভয়েই। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একটা বড়ো অংশ (দাবি, তাঁরা দলের পুরনো সৈনিক) ‘দলবদলু’ বিধায়ককে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। বিধানসভা এলাকার একটি বিজেপি পার্টি অফিসে বসে এক নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সব কা সাথ, সব বিকাশ-এ উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাই বলে সবাইকে প্রার্থী করতে হবে? ওই ব্যক্তিকে (অরিন্দমকে) প্রার্থী করার মানে অন্য দলের হাতে শান্তিপুর তুলে দেওয়া। যেখানে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে আমরা শান্তিপুরে নিশ্চিত জয়ের জায়গায় রয়েছি। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিদায়ী বিধায়ককে প্রার্থী করলে দলের কর্মী-সমর্থকরা মুখ ফেরাবেন”।

এখানেই শেষ নয়, অরিন্দমকে প্রার্থী না করার জন্য তাঁরা দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে দরবারও করেছেন বলে জানা গেল। স্থানীয় ওই বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা এ বিষয়টা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়কে জানিয়েছি”।

যদিও যাঁকে নিয়ে বিতর্ক, সেই অরিন্দম জানান, দল তাঁকে কোথায় প্রার্থী করবে, অথবা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর কথায়, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, সেটা পালন করাই আমার লক্ষ্য”।

কিন্তু কংগ্রেসে কী ভাবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া? সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে এই কেন্দ্রটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীর। স্থানীয় মানুষ মনে করছেন, হাত প্রতীকে জিতেছিলেন অরিন্দম। ভায়া তৃণমূল হয়ে তিনি এখন গেরুয়া শিবিরে। এই ঘটনায় বিধায়কের উপর যেমন সাধারণ মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের প্রতিও আস্থায় ‘চিড়’ ধরেছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কংগ্রেস নেতা রাজু পাল বলেন, “শুধু এই পাঁচ বছর নয়, কয়েক দশক ধরে শান্তিপুরের মানুষ কংগ্রেসের উপর আস্থা দেখিয়ে আসছেন। কংগ্রেস মানে কোনো ব্যক্তি নয়। শান্তিপুরের সার্বিক উন্নয়নে কংগ্রেস কয়েক দশক ধরে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা কখনোই অস্বীকার করেন না এখানকার মানুষ। ফলে মানুষের কংগ্রেসের উপরে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রয়েছে”।

আগামী ১৭ এপ্রিল, পঞ্চম দফায় শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তা হলে কি বিজেপি-কংগ্রেস শিবিরের এই ‘দুর্বলতা’র ফায়দা তুলতে পারবে তৃণমূল কংগ্রেস? সেখানেও রয়েছে ধন্ধ! প্রবীণ রাজনীতিক এবং শান্তিপুর পুরসভার প্রশাসক অজয় দে-কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। যা নিয়ে ‘ঘরের ভিতর ঘর’ গড়ে উঠেছে শাসকদলেও। সেটা যে কোথাও কোথাও খুব স্পষ্ট, তা বোঝা যায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের কথায়। স্থানীয় এক জাঁদরেল নেতা জানতে চান, ‘অলৌলিক’ কিছুর মতো শান্তিপুরেও শেষমেশ প্রার্থী বদল হবে না তো?

২০১৯ লোকসভা ভোটে শান্তিপুরের বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল

বিজেপি- ১,১২,৫৯৯

তৃণমূল- ৭৭,৫৮৭

সিপিএম-১১,৬২৮

কংগ্রেস-৩,৪৭২

২০১৬ সালে শান্তিপুর বিধানসভার ফলাফল

কংগ্রেস-১,০৩,৫৬৬

তৃণমূল-৮৪,০৭৮

সিপিএম-১১,৮৩৮

বিজেপি-৭,৪৯৫*

আরও পড়তে পারেন: ৩৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের, ২১ আসনে আইএসএফের

দোল উৎসব

শান্তিপুরে বিগ্রহবাড়ির দোলযাত্রার পাশাপাশি গোপালপুজো এক অন্য মাহাত্ম্য বহন করে

শান্তিপুরের দোল উৎসবে বিগ্রহবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো। এই পুজোগুলির বিশেষত্ব হল বিরাট আকৃতির গোপাল বিগ্রহের পুজো।

Published

on

বড়োগোস্বামী বাড়ির রাধারমণ এবং শ্রীমতী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সামনেই দোলযাত্রা। আপামর বাঙলির কাছে দোলযাত্রা এক অন্য রকম অনুভূতির উৎসব। সকলেই আবির মেখে বসন্তের উৎসব পালন করে, কেউ নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। আর এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাড়ির ঠাকুরদালানও সেজে ওঠে আবিরে-রঙে-গুলালে। প্রাচীন পরিবারগুলিতে রাধাকৃষ্ণের দোলযাত্রা যেন এক মিলনক্ষেত্র রচনা করে যা এই বাংলার এক অন্যতম সংস্কৃতি।

Loading videos...

দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরে এক বিরাট মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বাড়িতে রাধাকৃষ্ণের দোল হয় এবং পাশাপাশি বিরাট বিরাট গোপালের বিগ্রহপুজো – এ যেন এক অন্য রকম মুহূর্ত, যা শান্তিপুর প্রতি বছরই উপহার দেয় আমাদের। শান্তিপুরে পূর্ণিমায় দোলযাত্রা ছাড়াও পঞ্চমদোল, সপ্তমদোল, রামনবমীতে দোল ইত্যাদি পালিত হয়।

বিগ্রহবাড়ি, বারোয়ারি উৎসব ছাড়াও শান্তিপুরে শ্যামচাঁদ মন্দিরের দোল বিখ্যাত। তবে এই মন্দিরে দোল উৎসব পালিত হয় পূর্ণিমার পরের দিন, প্রতিপদে। দোলের দিন সন্ধ্যায় হয় চাঁচর পোড়ানো এবং পরের দিন ভোগ, নামসংকীর্তনের শেষে সন্ধ্যায় শ্যামচাঁদকে নিয়ে এক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসা অগণিত ভক্ত ভিড় করেন রাস্তার দু’ ধারে।

গোকুলচাঁদ বাড়ির দোল।

বড়োগোস্বামী বাড়ির দোলযাত্রাও বিখ্যাত শান্তিপুরে। এই বাড়িতে চার দিন দোল উৎসব পালিত হয়। দোলপূর্ণিমার দিন শ্রীশ্রীরাধারমণের দোল উৎসব পালিত হয়। আগের দিন রাসমঞ্চের সামনের প্রাঙ্গণে চাঁচড় পোড়ানো হয়। পরের দিন দোলমঞ্চে ওঠেন রাধারমণ এবং শ্রীমতী, বিশেষ পূজা হয়। দোল উপলক্ষ্যে বিশেষ সাজসজ্জা হয় তাঁদের। দুপুরে বিশেষ ভোগ নিবেদন হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যায় আবার শ্রীশ্রীরাধারমণকে দোলমঞ্চে এসে বসানো হয়, বিকাল থেকে শুরু হয় নামসংকীর্তন।

দোলপূর্ণিমার পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চমদোল। ওই দিন মদনমোহন-শ্রীমতীকে দোলমঞ্চে আনা হয় এবং রীতি মেনেই সেবাপূজা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামী। দু’ দিন পরে সপ্তমদোল। এর একটি বিশেষত্ব আছে। তা হল এই দিনের দোলকে ‘সীতানাথের দোল’ও বলা হয়ে থাকে। কারণ ওই দিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্যকে কেন্দ্র করে দোল উৎসব পালন করা হয়। বিশেষ পূজারও আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বড়োগোস্বামী বাড়িতে রামনবমীর দিনও দোল উৎসব পালিত হয় রামচন্দ্রকে কেন্দ্র করে। তিন দিনব্যাপী রামনবমীর দোল ও মেলা বেশ সাড়ম্বরেই পালিত হয়। এ বছরও নিয়ম মেনেই পালিত হবে বড়োগোস্বামী বাড়ির দোল, এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মুখোপাধ্যায় বাড়ির গোপাল।

শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের প্রপৌত্র ঘনশ্যাম গোস্বামী থেকেই মধ্যমগোস্বামী বাড়ির উৎপত্তি হলেও অধস্তন তৃতীয়পুরুষ রঘুনন্দন গোস্বামীই ছিলেন এই বংশের প্রাণপুরুষ। এই বাড়ির দোল উৎসবও খুবই প্রাচীন, বর্তমানে তা ‘গোকুলচাঁদের দোল’ বলেই পরিচিত। দোল উৎসবের আগের দিন চাঁচড় পোড়ানো হয় এবং পরের দিন সকালে দেবদোল অনুষ্ঠিত হয়।

গোকুলচাঁদ বাড়ির দোলমঞ্চের হাওদায় বিরাজ করেন শ্রীশ্রীরাধাগোকুলচাঁদ জিউ। পরিবারের সকলে তাঁদের আবির দেন এবং চলে দোলপূর্ণিমার বিশেষ পূজা। সেই সঙ্গে পালিত হয় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথি উৎসব। অতীতে এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হত। তবে বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে শুধু দোল উৎসবটুকুই পালিত হয় মধ্যমগোস্বামী বাড়িতে।

শান্তিপুরের প্রাচীন পাগলাগোস্বামী ঠাকুরবাড়ির দোলযাত্রাও খুব বিখ্যাত। এই বাড়ির আদিপুরুষ অদ্বৈতাচার্যের চতুর্থ পুত্র বলরামের দশম পুত্র কুমুদানন্দ গোস্বামী ছিলেন পণ্ডিত ব্যক্তি। এক সময় তিনি কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি কর্তৃক প্রদত্ত সম্পত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই পরিবারের দুই বিগ্রহ কৃষ্ণরায় জিউ এবং কেশবরায় জিউ-এর দোল উৎসব তাঁদের মন্দিরেই অনুষ্ঠিত হয়।

মদনগোপাল বাড়ি।

কথা হচ্ছিল পরিবারের সদস্য তন্ময় গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, দোলপূর্ণিমার আগের দিন চাঁচর পোড়ানো হয় এবং পরের দিন ভোরবেলা দেবদোল অনুষ্ঠিত হয়। দেববিগ্রহ মন্দিরের সামনে হাওদায় বিরাজ করেন এবং পরিবারের সকল সদস্য তাঁদের আবির দেন। দেবদোলের সময় ঠাকুরকে বাল্যভোগ নিবেদন করা হয় এবং তার পর পরিবারের কুলপুরোহিত এসে পূর্ণিমার বিশেষ পূজা শুরু করেন।

তন্ময়বাবুর কাছে আরও জানা গেল যে তাঁরা গরমকালের বিভিন্ন রান্নার পদ ঠাকুরকে নিবেদন করার আগে গ্রহণ করেন না। তাই এই দোলের দিন ভোগে সেই সমস্ত রান্নার পদ নিবেদন করা হয়। তার পর তাঁরা সবাই সেই পদগুলি খেতে পারেন।

শান্তিপুরের আর এক প্রাচীন বাড়ি মুখোপাধ্যায় বাড়ি ‘চাঁদুনীবাড়ি’ নামে পরিচিত। এই বাড়িতেও দোল উৎসব পালিত হয়। তবে এখানে হয় গোপালের দোল। কথা হচ্ছিল চাঁদুনীবাড়ির সদস্য সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই গোপালের বয়স প্রায় ২৫০ বছর। চাঁদুনীবাড়ির এক সদস্যা এই গোপালকে পান তাঁদেরই এক শাখার সদস্যদের কাছ থেকে। সেই বাড়িতে তিনি সিন্দুকে ছিলেন। মুখোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যরা তাঁকে এনে পুজো শুরু করেন। এই গোপাল অষ্টধাতুর তৈরি। তাঁর নিত্য সেবাপূজা হয়। তবে পরিবারের কোনো সদস্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারেন না যে হেতু তাঁর সঙ্গে পরিবারের প্রাচীন শ্রীশ্রীনারায়ণ জিউও থাকেন।

দোলের আগের দিন চাঁচর পোড়ানো হয়। রাজবেশে সুসজ্জিত হয়ে সেখানেও উপস্থিত থাকেন গোপাল। পরের দিন দেবদোলের পর বাড়ির সদস্যরা গোপালকে আবির দেন। দুপুরে স্নানের পর ভোগ নিবেদন হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, মিষ্টি ইত্যাদি। তার পর সন্ধ্যায় আরতি ও শীতলভোগের পর গোপাল আবার নিজ গর্ভগৃহে ফিরে যান।

শান্তিপুরের বড়োগোপাল।

শান্তিপুরের দোল উৎসবে বিগ্রহবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো। এই পুজোগুলির বিশেষত্ব হল বিরাট আকৃতির গোপাল বিগ্রহের পুজো। এই বিশেষ ধরনের নাড়ুগোপালের বিগ্রহ শান্তিপুরের মৃৎশিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গোপালের বর্ণ হয় মূলত আকাশি বা গোলাপি। কৃষ্ণের বাল্যবয়সের এই অপূর্ব বিগ্রহই পুজো হয় শান্তিপুরের দোল উৎসবে। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন অঞ্চলের গোপাল পরিচিত, যেমন – বড়োগোপাল, মেজোগোপাল, ছোটোগোপাল, থ্যাবড়াগোপাল, ধেড়েগোপাল, ননীচোরা ইত্যাদি।

বিরাট আকৃতির গোপাল ঠিকই কিন্তু এত সুন্দর শিশুসুলভ মুখশ্রী যা প্রতিটি দর্শনার্থীর মন কাড়ে। শিশুদের মঙ্গলকামনায় অথবা সন্তানলাভের জন্য বহু ভক্ত পুজো দিয়ে থাকেন গোপালের কাছে। দোলের দিন গোপালদের পরানো হয় সোনা-রুপোর গহনা যা শান্তিপুরের চিরাচরিত প্রথা বলেই পরিচিত। দোলের পর দিন শোভাযাত্রা সহকারে গোপালের বিসর্জন হয়। দোলযাত্রাকে কেন্দ্র করে শ্রীধাম শান্তিপুরের এই প্রাচীন রীতিনীতি বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে গৌরবান্বিত করে।

আরও পড়ুন: Dolyatra 2021: শ্রীশ্রীগোপীনাথকে কেন্দ্র করে দোলের দিন মেতে ওঠেন শোভাবাজার ছোটো রাজবাড়ির সদস্যরা

Continue Reading

ধর্মকর্ম

শান্তিপুরে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রীঅদ্বৈতাচার্যের আবির্ভাব মহোৎসব

উৎসব চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অবধি। পালিত হবে চিঁড়ে-মুড়কির মহোৎসব, নগরকীর্তন ইত্যাদি।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের শ্রীহট্টের লাউড় গ্রামে মাঘী সপ্তমীতিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কমলাক্ষ, পরবর্তীকালে যিনি হয়ে উঠলেন অদ্বৈতাচার্য্। শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামীবাড়িতে শুক্রবার ধুমধাম করে পালিত হল প্রভুর আবির্ভাব মহোৎসব। ‘গৌর আনা ঠাকুর’ শ্রীশ্রীঅদ্বৈতাচার্যের আবির্ভাব উপলক্ষ্যে ১২ দিন ধরে পালিত হচ্ছে।

Loading videos...

১২ বছর বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে কমলাক্ষ চলে আসেন শান্তিপুরে উচ্চতর বিদ্যার জন্য। তিনি ফুলিয়ার শান্তাচার্য পণ্ডিতের কাছে পড়াশোনা করতেন। সেই সময় ফুলিয়া আর শান্তিপুর এক সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং একটি স্থান হিসাবে পরিচিত ছিল।

কমলাক্ষ গুরুগৃহে থাকতেন এবং সেখানে বেদ, ষড়দর্শন পাঠ করে ‘বেদপঞ্চানন’ উপাধিও পেয়েছিলেন। সন্তানের ‘বেদপঞ্চানন’ উপাধি পাওয়ার কথা শুনে কমলাক্ষের পিতা কুবের মিশ্র ও মা লাভাদেবী শান্তিপুরে চলে আসেন। শান্তিপুরে আসার অল্প দিনের মধ্যেই তাঁরা মারা যান। তখন কমলাক্ষের বয়স ১৭ কি ১৮ বছর। তাঁদের পারলৌকিক কাজের পর কমলাক্ষ ভারতভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।

ভারতভ্রমণে বেরিয়ে তীর্থসমূহে ঘুরতে ঘুরতে একদিন দক্ষিণ ভারতে শ্রীমাধবাচার্য্ আশ্রমে শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। শ্রীমাধবেন্দ্রপুরী তাঁর শিক্ষা ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দীক্ষা প্রদান করেন এবং কমলাক্ষের নাম হয় অদ্বৈতাচার্য্। ঈশ্বর অভেদ তাই ‘অদ্বৈত’ এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে ‘আচার্য’- এই দুই মিলে শ্রীমাধবেন্দ্রপুরী তাঁর নামকরণ করেন অদ্বৈতাচার্য্।

সেই সময়ে গোঁড়া ব্রাহ্মণদের দাপট এবং রাজ-শাসনের বিধিনিষেধ ভেঙে অদ্বৈতাচার্য্ সমাজের অনাচার দূর করার কাজে নিজেকে নিযুক্ত করেন। তাই নিয়ে এসেছিলেন শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবকে। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অদ্বৈতপ্রভুর সাধনাসিদ্ধ আহ্বানে সাড়া দিয়ে মহাপ্রভু ধরায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাই অদ্বৈতাচার্য্কে ‘গৌর আনা ঠাকুর’ বলেও অভিহিত করা হয়।

অদ্বৈতপ্রভু ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে নেপালের গণ্ডকী নদী থেকে একটি নারায়ণশিলা পান, যা তিনি নিজে পুজো করতেন। বর্তমানে সেই নারায়ণশিলার পুজো হয়  তাঁরই বংশধরদের বাড়িতে, শান্তিপুরে যে বাড়ি বড়ো গোস্বামীবাড়ি বলে পরিচিত।

কথা হচ্ছিল বড়ো গোস্বামীবাড়ির সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, শুক্রবার সকালে মঙ্গলারতির পর অদ্বৈতপ্রভুর প্রাপ্ত নারায়ণশিলার অভিষেক হয়। তার পর পাঠবাড়ি আশ্রম, নবদ্বীপের সমাজবাড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গার বৈষ্ণবদের উপস্থিতিতে কীর্তনের আসর বসে।

উৎসব চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অবধি। পালিত হবে চিঁড়ে-মুড়কির মহোৎসব, নগরকীর্তন ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: বরানগরের জয় মিত্র কালীবাড়িতে পশুবলি বন্ধ হয়েছিল বালানন্দ ব্রহ্মচারীর বিধানে  

Continue Reading

নদিয়া

মা-বোনেরা হাতা-খুন্তি নিয়ে রেডি থাকবেন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

যে মা-বোনেরা রাঁধে, তারা চুল-ও বাঁধে, রানাঘাটের সভায় মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Published

on

রানাঘাটের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

খবর অনলাইন ডেস্ক: সোমবার রানাঘাটের সভা থেকে তৃণমূল সরকারের জমানায় রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে বিজেপি, সেই দলেরই একের পর এক নেতাকে ভেড়ানো হচ্ছে গেরুয়া শিবিরে। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “তৃণমূলে থাকলেই কালো, আর বিজেপিতে গেলেই সব ভালো। বিজেপি হল ওয়াশিং মেশিন। কালো হয়ে যাচ্ছে, আর সাদা হয়ে মালা পরছে”।

Loading videos...

ডুগডুগি বাজিয়ে সব পালিয়ে যাবে

ভোটের আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে মমতার মন্তব্য, “মিথ্যে কথা বলার কোনো জুড়িদার নেই বিজেপির। ভোট এলেই বলে, সবার চাকরি করে দেব, সবার ঘরে টাকা দিয়ে দেব, সব বিনা পয়সায় করে দেব, সব মতুয়াদের নাগরিক করে দেব। আর নির্বাচন মিটে গেলেই ডুগডুগি বাজিয়ে সব পালিয়ে যাবে”।

মাস কয়েক বাদেই রাজ্যের বিধানসভা ভোটে। এ দিনের সভায় প্রচারের পারদ তুঙ্গে তুলে মমতা বললেন, “বাংলা বাংলার মতো চলবে। বাংলা কখনোই গুজরাত হবে না। অনেক কিছুই তো দেবেন বলেছিলেন, দু’বছর হয়ে গেল, কিছুই তো দেননি। তাই বলছি, বিনা পয়সায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে এবং ভালো থাকতে তৃণমূলকে ভোট দিন”।

যে মা-বোনেরা রাঁধে, তারা চুল-ও বাঁধে

সারা ভারতের মধ্যে বিজেপি যে শুধুমাত্র মমতাকেই একটু ভয় পায়, যে কারণে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে হারানোর জন্য সমস্ত রকমের পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি। বললেন, “ওরা সবাই এখানে এসে তো পড়বেই, কারণ সারা দেশের মধ্যে আমাকে ওরা ভয় পায়। কারণ ওরা জানে, আমি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্য়ুবরণ করব, কিন্তু মাথা বিক্রি করব না”।

এ দিন মমতার সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতোই। তাঁদের হাতেই বাড়তি দায়িত্ব তুলে দিলেন মমতা। বলেন, “যে মা-বোনেরা রাঁধে, তারা চুল-ও বাঁধে। তাই আগামী দিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি কোনো তাণ্ডব করলে মা-বোনেরা দায়িত্ব নেবেন। বাড়িতে রান্নাও করবেন, আর হাতা-খুন্তি নিয়ে রেডি থাকবেন। কোনো তাণ্ডব করলে শান্তিপূর্ণ ভাবে জবাব দেব আমরা। মা-বোনেরাই জবাব দেবেন। উঠে এস আমার বঙ্গজননী…”।

আরও পড়তে পারেন: কৃষি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল কেন্দ্র

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
দেশ14 mins ago

অমিত শাহকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? দিল্লি পুলিশে ‘নিখোঁজ ডায়েরি’

ক্রিকেট1 hour ago

ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার কেন? অদ্ভুত যুক্তি দিলেন টিম পেইন

মুর্শিদাবাদ1 hour ago

অনাস্থার আগেই মুর্শিদাবাদের জেলা সভাধিপতির পদ থেকে পদত্যাগ শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠর

রাজ্য2 hours ago

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্রজ রায়

Coronavirus Delhi
দেশ2 hours ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণের হার ১৪ শতাংশে, সংক্রমণ নামল ১০ হাজারে, অভাবী রাজ্যগুলিকে অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করতে চায় দিল্লি

delhi pollution
পরিবেশ2 hours ago

পরিবেশগত ভাবে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০ শহরের মধ্যে ১৩টি ভারতে

ধর্মকর্ম3 hours ago

Religious Places in Bengal: কালীক্ষেত্র কালীঘাট

দেশ4 hours ago

Corona Lockdown: বিহারে লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে ২৫ মে, ঘোষণা নীতীশ কুমারের

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার2 days ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

বিজ্ঞান2 days ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

দেশ2 days ago

Covid Crisis: সংক্রমণের ধার কমাতে একটি বিশেষ ওষুধে ছাড়পত্র দিল গোয়া, খেতে হবে সবাইকে

বিজ্ঞান2 days ago

রক্তের গ্রুপের উপর কি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, গবেষণায় জানাল সিএসআইআর

প্রযুক্তি2 days ago

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোভিড অ্যাপ, সহজে জানা যাবে যাবতীয় তথ্য

শরীরস্বাস্থ্য1 day ago

করোনার এই দুঃসহ সময়ে অক্সিজেন বিপর্যয়ের সহজ সমাধান দিলেন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল

দেশ2 days ago

Corona Update: দৈনিক সংক্রমণকে ছাপিয়ে গেল সুস্থতা, দু’মাস ধরে টানা বৃদ্ধির পর অবশেষে কমল সক্রিয় রোগী

বিনোদন2 days ago

‘রাধে’র বক্স অফিস কালেশন হতো ‘জিরো’, হল মালিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সলমন খান

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে